চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

‘বিনয় হোক মনের ভূষণ’

অভিমান ভালো নয়। অভিমান কিছুই দেয় না, এ শুধু সময়ের অপচয়। অভিমান ঘরের ভিতরে ঘর বানায়, মনের ভিতরে দেয়াল গড়ে, ভালোবাসার মতো অমৃতেও গরল ঢালে। এই একটা শব্দ আমাদের জীবন থেকে কত কী যে কেড়ে নেয়!

দু’দিন আগে যে চলে গেলো, তার বিদায়ে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে শোকের মাতম। যারা তাঁর প্রিয়জনের তালিকায় থাকলেও তাদের প্রিয়জনের তালিকায় তাকে রাখেনি তারাই যেন হয়ে যায় পাগল প্রায়! জীবিত প্রাণের চাহিদাকে মূল্য না দিয়ে প্রাণহীন দেহ নিয়ে এতো আদিখ্যেতা করে কি লাভ?

তবুও আমরা রক্তে, মাংসে গড়া মানুষ ; রাগ – অভিমান এসব সহজাত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত।

কিন্তু একই বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ রাগ/অভিমান মূল্যবান সম্পর্কগুলো নষ্ট করে দেয়, যা আর আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠে না।

নিজের অজান্তেই একটা অদৃশ্য ফাঁরাক সৃষ্টি হয়, যেটা পরবর্তীতে নতুন নতুন রোগের উপসর্গের ভূমিকা পালন করে। একটা সরল হাসি দিয়ে বিশ্বজয় করা যায় কিন্তু একটা কুটিল মন নিয়ে একটা হৃদয়ও জয় করা যায় না।

আত্নসম্মানবোধ যেন কোন ভাবেই আত্ন- অহমে রূপ নিতে না পারে। কাছের মানুষটির সাথে কোন কারণে মনোমালিন্য হয়ে গেলে অহংবোধ ছুঁড়ে ফেলে কোন এক পক্ষ এগিয়ে আসলে অপর পক্ষের কাছে ভালোবাসা, সম্মান, কৃতজ্ঞতাবোধ অনেক বেশি বেড়ে যায়।

আত্ন-গরিমা অনেক কিছুই কেড়ে নেয় কিন্তু বিনয় কেবল দিতেই থাকে। তবে বিনয় যেন দূর্বলতা না হয় সে দিকেও দৃষ্টি রাখা জরুরি।

পরিবারকে, প্রিয়জনদেরকে, সমাজকে কতটুকু দিতে পেরেছি, কতটাই বা দিতে পারব এমন বিনয়ী লক্ষ্যস্থির করতে হবে। কাজ করতে হবে ভালোবাসার মাধুরী মিশিয়ে।

আজ যারা অবজ্ঞা, অবহেলায় ধুর, ধুর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে, একদিন তারাও ফিরে তাকাবে। অজস্র ভালোবাসার আরতি পায়ে গড়া গড়ি করবে সেদিন। তবে আর দু:খ কিসের, হুম? গুণ দা’র মতো বলুন – “দু:খ কোরো না, বাঁচো। “

রাজিয়া সুলতানা লাইজু, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

READ  স্বার্থপর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*