চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

ব্যাংকিং খাত সংস্কার হবে – অর্থমন্ত্রী

সিটিজি বাংলা:

 

 

 

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারের এ সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য চলছে, তা রোধ করতে হলে সংস্কারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

 

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ব্যাংকিং খাত যথাযথ সংস্কার হলে এ খাতে বিরাজমান সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে সংকট চললেও বিগত কয়েক বছরের এ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এ খাতে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ব্যাংক নতুন নতুন অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির জন্ম দিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমগ্র ব্যাংকিং খাতে।

 

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে অরাজকতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমানতকারীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার পাশাপাশি এ খাতে আদর্শ ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বাতাস বইবে।

 

সময়ের প্রয়োজনে বিস্তৃত হচ্ছে দেশের ব্যাংকিং খাত। এ খাতকে অবশ্যই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। আমরা মনে করি, ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান সংকট নিরসনে একটি কমিশন গঠন করা উচিত। আশঙ্কার বিষয় হল, ব্যাংকগুলোয় যোগ্য ও সৎ লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। ফলে তারা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করছে, যা পরে খেলাপি ঋণে পরিণত হচ্ছে।

অসৎ ব্যাংকারদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা জালিয়াত চক্র ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করছে। ব্যাংকগুলোয় বিরাজমান অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে গ্রাস করে ফেলছে।

গত মার্চে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত ‘আর্টিকেল ফোর মিশন’ সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

READ  ডিএনসিসিতে জামায়াতের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন

 

এ মিশনের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে সংস্থাটি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনটি পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এগুলো হল, শক্তিশালী প্রবিধান, কঠোর নজরদারি ও সুশাসন নিশ্চিত করা। বিরাজমান দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করতে সরকার প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে একে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

সূত্র: যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*