চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

চট্টগ্রামে ম্যাক্সের মত কসাইখানার সংখ্যা কত?

মেহেদী হাসানঃ

চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ বেসরকারী হাসপাতাল ম্যাক্সে ভূল চিকিৎসায় সাংবাদিক কন্যা শিশু রাইফা খানের মৃত্যুর পর বেরিয়ে এসেছে লোমহর্ষক চিত্র। কোন প্রকার চিকিৎসা সেবার অনুমোদন ছাড়াই শধুমাত্র ব্যবসায়িক লাইসেন্স দিয়ে সেবার নামে ব্যবসা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনা জানাজানি হলে আজ ২ জুলাই দেশ-বিদেশের সর্বত্র নিন্দার ঝড় ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলতে থাকে ঘৃনা ধিক্কারসহ চিকিকৎসক নামের কসাইদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
দুপুরে চট্টগ্রাম সাংবাদিকদের এক প্রতিবাদ সভায় ম্যাক্স হাসপাতালকে ‘মানুষ হত্যার যুদ্ধ’ বলে অবহিত করেন সিইউজে’র সাবেক সভাপতি ও আসন্ন বিএফইউজে’র নির্বাচনে সহ-সভাপতি প্রার্থী মোস্তাক আহমেদ।
কিন্তু কিভাবে বিনা অনুমোদনে প্রশাসনের নাকের ডগায় ব্যবসা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। অথবা এসব অপরাধের দায়ভারও কি ম্যাক্সের একার? জনমনে ঘুরপাক খাওয়া এমন বেশ কয়েকটি প্রশ্ন নিচে তুলে ধরা হলঃ

# চট্টগ্রামের বুকের ওপর বসে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ম্যাক্স হাসপাতাল কিভাবে প্রকাশ্যে ব্যবসা করছিল?
# ম্যাক্সের যে অনুমোদন নেই এ বিষয়টি কি  সিভিল সার্জন ডা আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানতেন না?
জানলে এতদিন ধরে ম্যাক্সের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্হা গ্রহণ করে ছিলেন?
# আর না জানলেও কি তিনি ম্যাক্সের অপরাধের দায় এড়াতে পারবেন?
# সিভিল সার্জনের জানা/অজানামতে চট্টগ্রামে ম্যাক্সের মত কসাইখানা কি আর নেই?
# এদের ইন্দনদাতা ও সহযোগী কারা? এদের বিরদ্ধে কি কোন ব্যবস্হা নেয়া হচ্ছে?
# ভুয়া চিকিৎসক কি চট্টগ্রামে বিধান বড়ুয়া ছাড়া আর নেই? থাকলে ।তাদের খুঁজে বের করতে কি কোন ব্যবস্হা নেয়া হবে?
# সব ঘটনা প্রকাশের পর সিভিল সার্জন জানবেন, পদক্ষেপ নিবেন। কিন্তু ঘটে যাওয়ার দায় তাকে দেয়া হচ্ছে না কেন?
যেমনঃ সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ায় ৯ শিশু নিহতের পর তিনি জানতে পেরেছেন তার লোকজন ওই এলাকার শিশুদের টিকা খাওয়াতেন না।
আবার হালিশহর জন্ডিস মহামারি আকরে ধারণ করে কয়েক ব্যক্তি নিহতের পর জানা গেছে সেখানকার পানি বিশুদ্ধ নয়।
অনুরুপভাবে ভুয়া চিকিৎসায় শিশু রাইফার মৃত্যুর পর সাংবাদিকদের আন্দোলন সংগ্রামের পর জানা গেল ম্যাক্স হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার কোন অনুমোদনই নেই।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বহুবার ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠেছে অনেক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডাক্তারের বিরুদ্ধে। কিন্তু বরাবরই অদৃশ্য শক্তিতে সেসব চাপা পড়েছে। আজ রাইফার মৃত্যুর পর জাগ্রত হয়েছে জাতির বিবেকখ্যাত সাংবাদিকরা। আমরা চাই আর একজন মানুষও ভূল চিকিৎসায় কষ্ট পাবে না। শিশুকে হারিয়ে সহকর্মী রুবেল ভাইয়ের মত আর কাউকে সন্তানের লাশ বহণ করতে হবে না। সে পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ।

READ  ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ডেমু'র ধাক্কায় প্রাণ হারাল মিরসরাইয়ের রাশেদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*