চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল পানির নিচে, দুর্ভোগ জনজীবনে

সিটিজি বাংলা:

 

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এ টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর নিম্নাঞ্চল। এতে সড়কে গণপরিবহন চলাচল কমে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে পরিবহন সংকট। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মস্থলমুখী মানুষ।

 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ঘণ্টায় ১২৮ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার রাত থেকে বৃষ্টিপাতে নগরীর হালিশহরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানির মাত্রা বেড়ে তলিয়ে গেছে সড়ক ও জনপথ । এতে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে সাধারণ জীবন জীবিকা নির্বাহের লোকজনকে। বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে প্রায় প্রধান সড়ক ও নগরীর অলিতে-গলিতে।

 

এদিকে নগরীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে গণপরিবহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে মুরাদপুর, দুই নম্বর গেইট, হামজারবাগ, মোহাম্মদপুর, শুলকবহর, হালিশহর, আগ্রাবাদ কে ব্লক, প্রবর্তক, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, চকবাজারসহ নগরীর নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার সড়ক ছাপিয়ে বৃষ্টির পানি দোকানপাট-ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানেও ঢুকে পড়েছে।

 

 

নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত প্রধান সড়কে বৃষ্টির পানির কারণে যান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর, ইপিজেড এলাকার অফিসগামীরা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। একইভাবে বহদ্দারহাট ও কালুরঘাট এলাকায় যাদের অফিস তারাও এ সমস্যায় পড়েছেন। অন্যদিকে নগরীর চকবাজার ও প্রবর্ত্তক মোড়ে পানির কারণে বিকল্প পথেও অফিসে যেতে পারছেন না অনেকে। কারণ এসব সড়কেও গণপরিবহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া রিকশা এবং সিএনজি অটোরিকশা চলছে কম।

 

READ  অবশেষে সদরঘাট থানার ওসি প্রত্যাহার

নগরীর চকবাজার কাঁচাবাজারের দোকানদার আফজাল হোসেন জানান, ভারি বর্ষণে পুরো চকবাজার এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে প্রথম দিকে হাঁটুসমান পানি হলেও এখন পানি আরো বেড়ে গেছে।

 

বৃষ্টিতে বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, হালিশহর এলাকায় বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
বহদ্দারহাট বাদুড়তলা এলাকার গৃহিণী সামবিবা খানম বলেন, নিচতলার খাট পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। রাতভর ঘুমানো সম্ভব হয়নি। এখনো কষ্টের মাঝে আছি।

 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, বৈরী আবহাওয়ার এর প্রভাবে চট্টগ্রামজুড়ে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ৭৭ মি: মি: বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

 

 

আবহাওয়া কর্মকর্তা সৈয়দা মিমি পারভীন জানান, গতকাল রাত ৯টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকবে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কমে যাবে বলে আশা করি।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেঝেতে বৃষ্টির পানি, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে গেছে। বৃষ্টি হলেই চমেক হাসপাতালের মেঝেতে পানি জমে যাচ্ছে। এতে মেঝেতে থাকা রোগীদের পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। হাসপাতালের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দেখা দিয়েছে এ সমস্যা।

 

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে বারান্দাগুলো অনেক বড়। তাই বৃষ্টি হলে বাতাসের কারণে পানি ছিটকে বারান্দায় চলে আসে। আবার কোনো জায়গায় ছাদ চুইয়েও পানি পড়ে। এতে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় মেঝেতে থাকা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

 

চতুর্থ তলার রোগীরা জানান, গতকাল সোমবার রাতে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। এতে মেঝেতে পানি কমে গেলে রোগীর স্বজনরা নানা কৌশলে বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালান।

 

বিষয়টি স্বীকার করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, পানি পড়লে মেঝেতে থাকা রোগীদের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। চমেক হাসপাতাল ৫০০ শয্যার। কিন্তু রোগী আছে প্রায় তিন হাজারের বেশি। শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

READ  ‘ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যেতে চায় দিল্লি’

 

সহকারী আবহাওয়াবিদ মেঘনা তংচঙ্গা বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*