চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

চুয়েট শাখার ছাত্রশিবিরের সভাপতি গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম উত্তর জামাত শিবিরের নিন্দা

সিটিজি বাংলা, চুয়েট প্রতিনিধিঃ

 

 

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শাখার শিবির সভাপতি জামিল আহম্মদকে পরীক্ষার হল থেকে আটকের পর বেধম মারধর করে হাতে অস্ত্র দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা।

 

২০ জুলাই শুক্রবার দুপুরের দিকে এ ঘটনায় জামিল আহম্মদকে একমাত্র আসামী করে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে চুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ বাকের।

 

ছাত্রলীগের দাবি এই ছুরিটি নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলো জামিল আহম্মদ। জামিল আহম্মদ ঠাকুরগাঁও জেলার পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে এবং চুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী।

 

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেফায়েত উল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের চুয়েট শাখার সভাপতি মোহাম্মদ বাকের ফোন করে জানায় চুয়েট শিবির সভাপতিকে আটক করা হয়েছে। পরে আমরা সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে আসি। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের পর বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী (উত্তর)।

ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী (উত্তর) সভাপতি আহমেদ সাদমান সালেহ ও সেক্রেটারী আ স ম রায়হান এক বিবৃতিতে বলেছেন, চুয়েট শাখা ছাত্রলীগ নামধারী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সৈয়দ ইমাম বাকের সহ কতিপয় সন্ত্রাসীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রশিবির সভাপতি জামিল আহম্মেদকে প্রকাশ্যে পরীক্ষার কক্ষ থেকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর জোর পূর্বক দেশীয় অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সারা দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় সরকার দলীয় সোনার ছেলেরা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে।

 

তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ইভটিজিং, ছাত্রী-শিক্ষক লাঞ্চনা, মাদকের ভয়াবহ আস্তানা তৈরি সহ নানা অপরাধ কর্ম করলেও সরকারের অভিযান কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সেদিকে কোন কর্ণপাত করছে না।

READ  অবশেষে সন্দ্বীপের ভাসান (ঠেঙ্গা) চরেই হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ঠিকানা !

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অস্ত্র নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তাদের দ্বারাই সম্ভব যারা নিয়মিত অস্ত্র উঁচিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানারূপ ভয়ভীতি দেখায়। কেননা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করে কলম, পেন্সিল সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সাথে নিয়ে।

সারা দেশ যেখানে সরকার দলীয় দুঃশাসনের কঠিন যাতাকলে নিপতিত এ অবস্থায় শিবির নেতার সাথে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো অন্ধকে হাতির অঙ্গ দর্শনের গল্প শেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*