চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

রাজীব, রাইফা ও পায়েল : সরোয়ার সুমন

রাজীবের কথা মনে আছেতো ? ঔ যে পটুয়াখালীর বাউফল উপজলোর বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব। তিতুমীর কলেজের তৃতীয় বর্ষে পড়া রাজীব। যে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় হারিয়েছে মা। অষ্টম শ্রেনীতে পড়ার সময় হারিয়েছে বাবা। এ বছরের ৩ এপ্রিল যার ডান হাত কেড়ে নিয়েছিল বাস। আর ১৭ এপ্রিল যে হারিয়েছিল প্রাণ।

রাইফার কথাওতো ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ঔ যে আড়াই বছরের সেই মেয়েটা। ডাক্তারের অবহেলা ও ভুলে ওপারে যেতে হয়েছিল যাকে। আর চার দিন পর তাকে কবর দেওয়ার মাস পূর্তি করবো আমরা।আচ্ছা, তার হাসি মাখা মুখটি কী ঝপসা লাগছে এখন?

ওদের মতো ওপারে গেছে পায়েলও। সন্দ্বীপে জন্মগ্রহণ করা মাত্র ২১ বছর বয়সী এই ছেলেটা পড়তো নর্থ সাউথ ভার্সিটিতে। জীবন নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিলো। তাই মরার আগে বাঁচার জন্য করে ছিলো আকুতিও। কিন্তু বাস ড্রাইভার, হেলপার ও সুপারভাইজার আহত রাজীবকে ‘নিহত’ করতে প্রথমে থেতলে দিল মুখ। এরপর ভাসিয়ে দিল অথৈ জলে।

যে বাস চালক রাজীবকে প্রাণে মেরেছে সে এখনো বেঁচে আছে। যে তিন ডাক্তার রাইফাকে ওপারে পাঠিয়েছে বেঁচে আছে তারা। যে তিন নরপশু আহত পায়েলকে নদীতে ভাসিয়েছে বেঁচে আছে ওরাও।

কী আশ্চর্য! যারা মরার কথা তারা বেঁচে থাকে। আর যারা বাঁচতে চাই তারা মরে যায়। অামাদের লাশের উপর লাশ জমে। ক্ষোভের উপর ক্ষোভ। তবু পাল্টাচ্ছেনা কিছুই। রাইফাকে হারিয়েও আমরা পাইনি মানবিক চিকিৎসার নিশ্চয়তা। রাজীব এবং পায়েলের বিনিময়েও কী পাবো নৈরাজ্যমুক্ত নিরাপদ পরিবহন সেক্টর ?

আচ্ছা, আমাদের রক্তগুলো এত ঠান্ডা কেন ? আমরা এক শোকে কাতর হই। কেন আরেক শোকে যাচ্ছি ভুলে সব…

লেখকঃ চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান, দৈনিক সমকাল

READ  ‘আমার এ অশ্রুপাত বিসর্জন না সঞ্চয় বুঝতে পারিনা’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*