চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

অপহরণকারীদের চিরকুটেই উদ্ধার হলো শিশু জারিফ

সিটিজি বাংলাঃ

জারিফ উদ্ধারের পর সন্দ্বীপবাসীর উল্লাস

‘আজকের মধ্যে চার লাখ টাকা দিতে হবে। কাউকে জানানো হলে মেরে ফেলা হবে জারিফকে। ’ চিরকুটে এমন একটি লেখা লিখে দেয়া হয়েছিল একটি মোবাইল নম্বর। এরপর চিরকুটটি জারিফের স্কুল ড্রেসের পকেটে রেখে তা পাঠানো হয় তাদের বাড়িতে। বুধবার মধ্যরাতে কোন এক সময় এই জামা রেখে আসা হয় জারিফদের বাড়ির দরজার সামনে।

সকালে সেই জামা থেকে চিরকুট পেয়ে থানার সাথে যোগাযোগ করে জারিফের বাবা মো. জ্যাকব। তার আগে স্থানীয় চার যুবক তারেক, সজিব, শাকিল ও ফিরোজ চিরকুটে থাকা মোবাইল নম্বরটি সনাক্ত করতে সাহায্য নেয় রবিতে কাজ করা তাদের এক বন্ধুর। সেই বন্ধু আরেক ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তায় নিশ্চিত হয় নাম্বারটি তাহমিনা আক্তার নামে এক মহিলার। আইডি কার্ড বের করে নিশ্চিত করা হয় তাহমিনার বাড়ির ঠিকানাও। দেখা যায় জারিফদের বাড়ির মাত্র এক কিলোমিটার দূরেই সেই অপহরণকারী তাহমিনার বাড়ি।

এরপর তিনভাগে ভাগ হয়ে শুরু হয় অভিযান। সিভিল ড্রেসে পুলিশের একটি দল ছিল নাজির হাটের আশপাশে। তাহমিনার বাড়ির কাছাকাছি আরিফ, পারভেজ ও রাজিবসহ ছিলেন জারিফের বাবা জ্যাকব। আর তারেকসহ সেই চার যুবক যায় তাহমিনার ঘরে। তিন মিনিটের মধ্যেই অন্ধকার এক রুম থেকে কম্বল মোড়ানো অবস্থায় তারা উদ্ধার করে জারিফকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহমিনা জানায়, স্থানীয় ৩-৪ জন যুবক তাকে এই অপহরণ করতে বাধ্য করে। পুলিশ এখন হন্য হয়ে খুঁজছে নেপথ্যের সেই হোতাদের।

একদিন আগে রেকি করে তাহমিনা—
জারিফকে অপহরণ করতে পরিকল্পনা হয়েছে অনেক আগেই। এজন্য বেশ কয়েকবার তাহমিনা জারিফের স্কুল ও বাড়িতে আসা যাওয়া করে। সোমবারও জারিফের স্কুলে যায় তাহমিনা। কিন্তু সেদিন তাকে আনতে স্কুলে গিয়েছিলেন জারিফের এক নিকটাত্মীয়। তাই সোমবার সফল হয়নি তাহমিনা। মঙ্গলবার জারিফকে আনতে কেউ স্কুলে না যাওয়ায় ভ্যানে করে বাড়ি আসতে থাকে সে। এই সুযোগে ভ্যান থেকে নামিয়ে জারিফকে অপহরণ করে তাহমিনা। পুরো বিষয়টি তদারকি করে নেপথ্যে থাকা সেই ৩ -৪ যুবক। তারা জারিফের অপহরণ থেকে শুরু করে পরবর্তী অবস্থাও কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে। এদেরই একজন জারিফের স্কুল ড্রেসে চিরকুট দিয়ে বুধবার দিবাগত রাতে তা রেখে আসে জারিফদের দরজার সামনে।

READ  তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

যাদের বিচক্ষণতায় উদ্ধার হলো জারিফ–
জারিফকে উদ্ধার করতে গত দুদিন ধরে তৎপর ছিলেন সন্দ্বীপের হাজারো তরুণ। দ্বীপের বিভিন্ন ঘাট থেকে শুরু করে অলিতে গলিতে তল্লাশি চালায় তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব ছিল তারা। এ কারণে অপহরণের পরও জারিফকে অন্যত্র নিয়ে যেতে পারেনি চক্রটি। সবচেয়ে বেশি বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে স্থানীয় চার যুবক হান্নান তারেক, সজিব খান, জাহিদ হাসান শাকিল ও ফিরোজ খান পাবেল। তারা চিরকুটে থাকা মোবাইল নম্বরটি সনাক্ত করতে সাহায্য নেয় রবিতে কাজ করা তাদের এক বন্ধুর। সেই বন্ধু আরেক ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তায় বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত হয় নাম্বারটি তাহমিনা আক্তার নামে এক মহিলার। আইডি কার্ড এর সুত্র ধরে তারা বের করে তাহমিনার বাড়ির ঠিকানাও। এরপর খোদা বক্স সাইফুল, আরিফ, পারভেজ, রাজিবের সহায়তায় জারিফদের বাড়ির মাত্র এক কিলোমিটার দূরে সেই অপহরণকারী তাহমিনার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে জারিফকে।

অন্ধকার ঘরে কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হতো জারিফকে—
উদ্ধার হওয়ার পর জারিফ তার বাবা মোহাম্মদ জ্যাকব ও মা আঞ্জুমান আরাকে জানায়, তাকে অন্ধকার একটি রুমে কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হতো। খাটের পাশে লাঠিও রাখা হতো। অপহরনের দিন রাতে তাকে আলু দিয়ে ভাত খেতে দেওয়া হয়। সে নিজে নিজে সেই ভাত খায়। মা বাবা কোথায় জানতে চাইলে বলতো ওরা আসবে একটু পরে। আজ সকাল বেলা তাকে শুধু দুধ খেতে দেয় অপহরণকারী তাহমিনা। ভয়ে বিছানাতেই পশ্রাব করতো জারিফ। আজ যখন তাকে উদ্ধার করা হয় তখনও ভয়ে বিছানাতে প্রশ্রাব করে দিয়েছিলো সে। বাড়িতে আনার পর তার জামা কাপড় পাল্টায় জারিফের মা। জারিফের তিন বছর বয়সি একটি বোন রয়েছে। তার নাম জারা।

সরোয়ার সুমন (ব্যুরো প্রধান, সমকাল) এর টাইমলাইন থেকে নেয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*