চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

কপি রাইটের বিরুদ্ধে বিএনটিভি’র নজিরবিহীন পদক্ষেপ, সর্বমহলে প্রশংসিত

অনলাইন মিডিয়ায় কপি রাইট বা কপি পেস্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনে বিভিন্ন ধরনের মতামত দিয়ে থাকেন। ঝড় তোলেন গণমাধ্যমে।

তবে কম বেশি কপি পেস্ট করেন না এমন মিডিয়া খুজে পাওয়াও এখন দুস্কর।

কেউ একটু কাট-ছাট করেন। আবার কেউ খানিকটা ফেলে বাকিটা বসিয়ে দেন।

আবার কেউ বা ঘটনটা পড়ে নিজের মত করেই লিখে ফেলেন পুরো সংবাদ।

আবার কপি পেস্ট এডিটরও রাখেন অনেকে।

কিন্তু অন্যের প্রচারিত ভিডিও সংবাদে পুলিশের লোগো বসিয়ে নিজেদের নামে প্রচার করার মত ঘটনা কেউ শুনেননি কখনও।

আর এমন অবিশ্বাস্য ঘটনায় ঘটেছে এবার।

গত ৮ জানুয়ারি পুলিশের একটি মানবতাবাদি ঘটনার ভিডিও প্রচার করে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় অনলাইন টেলিভিশন বিএনটিভি। সংবাদটি এতটাই হৃদয়গ্রাহী ও আবেদনময়ী ছিল যে কয়েকদিনের মধ্যে এটি দু’কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এমনকি এক মিলিয়নের বেশী লোক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখে। হাজার হাজার কমেন্টসে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে পাঠক।

কিন্তু হঠাৎ গত ১০ জানুয়ারি নাম্বার ওয়ান নামের একটি ফেসবুক পেইজ ভিডিওটি কপি (নকল) করে আপলোড দেয়।এসময় তারা ভয়েসসহ ভিডিওর সবকিছু ঠিক রেখে সেখানে বিএনটিভির লোগোর পরিবর্তে বাংলাদেশ পুলিশের লোগো বসিয়ে দেয়।

বিএনটিভির ভিডিওতে পুলিশের লোগো ব্যবহারের মত প্রতারণায় মর্মাহত হয় টেলিভিশনটির কৃর্তৃপক্ষ। একই সাথে বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের সুনাম ক্ষুন্ন ও অনলাইন গণমাধ্যমের সুষ্ঠধারা বিকাশে পথে অন্তরায় মনে করে বিএনটিভি।

তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি।বিএনটিভির সম্পাদক শেখ রাজিবুল আনোয়ার নাম্বার ওয়ান পেইজের প্রতারণার বিষয়টি উল্লেখ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের কাছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

একই সাথে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা ও র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসানের বরাবরে অনুলিপি প্রদান করা হয়।

READ  একাদশ সংসদ নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন : সীতাকুণ্ডে পাল্লা ভারী মোস্তফা কামাল’র

চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সভাপতি সুলাইমান মেহেদী হাসান বলেন, কপি-পেস্ট বা কপি-রাইটকে আমরা সহজভাষায় নকল বলে থাকি। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে নকল যেমন অন্তরায় সৃষ্টি করে তেমনি কপি-পেস্টও সুস্থ সাংবাদিকতার ধারাকে বাধাগ্রস্থ করে।এজন্য অনলাইন নীতিমালা চুড়ান্তকরণ ও অনলাইন গণমাধ্যমের রেজিস্ট্রেশন জরুরী। অন্যথায় কপি রাইট ঠেকানো অনেকটাই অসম্ভব বলে মনে করি।

এ বিষয়ে বিএনটিভির প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক মাখন লাল সরকার বলেন, অনলাইন গণমাধ্যমের সুনাম রক্ষায় নকল (কপি-পেস্ট) বর্জন করা উচিত। এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি জরুরী।

বিএনটিভির চেয়ারম্যান ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোজাফফর আহমদ এর পুত্র শেখ ফরিদুল আনোয়ার জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম সারথি হিসেবে কাজ করছে অনলাইন গণমাধ্যম। কিন্তু কতিপয় দুস্কৃতিকারী বিভিন্ন নামে-বেনামে অনলাইন পোর্টাল-টিভি-পেইজ ইত্যাদি চালু করে সরকার, দেশ ও জাতির মারাত্মক ক্ষতি করছে। একই সাথে সুনাম ক্ষুন্ন করছে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের। এসবের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*