চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

মুখমণ্ডল প্রতিস্থাপনে চেহারা ফিরে পেলেন মার্কিন অগ্নিনির্বাপন কর্মী

সিটিজি বাংলা২৪ ডটকম :: মার্কিন একদল চিকিৎসক জানিয়েছেন তারা নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে এযাবতকালের সবচেয়ে ব্যাপক মুখমণ্ডল প্রতিস্থাপনের একটি অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ মাথার চামড়া, কান এবং চোখের পাতাও প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

প্লাস্টিক সার্জন এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে একটি দল ২৬ ঘণ্টা ব্যাপী এই জটিল অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেন।

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ৪১ বছর বয়সী একজন অগ্নিনির্বাপনকারী, প্যাট্রিক হ্যারিসনের সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল আরেকজনের মুখমণ্ডলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করা হয়। আগুনে আটকে পড়া একজন মহিলাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সেই অগ্নিনির্বাপনকর্মীর মুখমণ্ডল পুড়ে যায়।

ডেভিড রোডবা্, যিনি তার চামড়া এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করেছেন

ডেভিড রোডবা্, যিনি তার চামড়া এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করেছেন

প্রতিস্থাপনের জন্য মুখমণ্ডলটির দাতা ২৬ বছর বয়সী যুবক ডেভিড রোডবা্, গত অগাস্টে একটি সাইক্লিং দুর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় তিনি মরণোত্তর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের অঙ্গিকার করেছিলেন।

গত অগাস্টে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন হলেও রোববারই এটি প্রকাশ করা হয়।

চিকিৎসক এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজ বলেন, এই অপারেশনে যতগুলো টিস্যু লাগানো হয়েছে, এর আগে কোন অপারেশনে এত টিস্যু লাগানো হয়নি। তবে অস্ত্রোপচার সফল হবার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ ছিল বলে জানিয়েছিল চিকিৎসক দল।

একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে আটকে পড়া একজন নারীকে উদ্ধার করতে গিয়ে তৃতীয় মাত্রার অগ্নিদগ্ধ হন মি. হার্ডিসন। আগুনে তার পুরো মুখমণ্ডল এবং মাথার চামড়া পুড়ে যায়।

পুড়ে যাবার আগে সন্তানদের সাথে প্যাট্রিক হার্ডিসন

পুড়ে যাবার আগে সন্তানদের সাথে প্যাট্রিক হার্ডিসন

প্রায় ১০ লাখ ডলারের সেই অস্ত্রোপচারের তিন মাস পর প্যাট্রিক হ্যারিসন ভালোভাবেই সেরে উঠছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেন প্রতিস্থাপিত টিস্যুকে প্রত্যাখ্যান করতে না পারে সেজন্যে তাকে বাকি জীবন এন্টি-রিজেকশন অষুধ গ্রহণ করতে হবে।

অস্ত্রোপচারের ফলে প্যাট্রিক তার চোখের পাতা এবং চোখের পাতা ফেলার ক্ষমতা ফিরে পেয়েছেন। এখন তার মাথাভর্তি চুল, ভ্রু, খোঁচা খোঁচা দাড়িও রয়েছে।

READ  ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*