চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

উখিয়াতে মাটিতে বসেই চলছে আনন্দ স্কুলের পাঠদান

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:: অজ্ঞতা, দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত গ্রামাঞ্চলের ঝরে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে শতভাগ শিক্ষার হার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার আনন্দ স্কুল কার্যক্রম চালু করলেও বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে উক্ত শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। স্থানীয় কতিপয় দালাল চক্র ও আনন্দ স্কুল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিমাতাসূলভ আচরণের ফলে একাধিক প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতির হার দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে বলে ব্যক্ত করে শিক্ষিকারা ইউএনও’র নিকট অভিযোগ করেছে।

রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম হরিণমারা আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকা গোলশান আরা বেগম জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ৩৪ জন ছাত্র-ছাত্রী পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা (পিএসসি) তে অংশগ্রহণ করছে। অথচ এখানে দায়িত্বরত আনন্দ স্কুল কো-অর্ডিনেটর জহিরুল ইসলাম তার স্কুলের বিরুদ্ধে নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করার কারণে গত এক বছর ধরে সে বেতন ভাতা সহ আনুসাঙ্গিক ভাতাদি পাচ্ছে না। জালিয়াপালং ইউনিয়নের নিদানিয়া মৃত আক্কাছ হাজীর বাড়ি আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকা আশেয়া বেগম অভিযোগ করে জানান, তার স্কুল থেকে এবার ১২ জন শিক্ষার্থী পিএসসিতে অংশগ্রহণ করছে। উক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ডি.আর. সংগ্রহের কথা বলে এ উপজেলার আনন্দ স্কুলের দায়িত্বে নিয়োজিত কো-অর্ডিনেটর জনপ্রতি ছাত্র-ছাত্রীর নিকট থেকে ৬০ টাকা করে আদায় করার পরও ৪ জন শিক্ষার্থী প্রবেশ পত্র পায়নি।

এমতাবস্থায়, উক্ত ছাত্র-ছাত্রীরা নিরাশ হয়ে আর পড়াশুনা করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। রতœাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম জানান, তার স্কুল থেকে এবার ১৮ জন শিক্ষার্থী পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অথচ ২০১৪ সাল থেকে বেতন ভাতা সহ উপবৃত্তি ও ছাত্র-ছাত্রীর পোশাক, উপকরণ ক্রয় ভাতাদি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় অভিভাবকেরা মনে করছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ফাকি দিয়ে যাবতীয় সুযোগ সুবিধাদি সে নিজে ভোগ করছে। এ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ স্কুলের কার্যক্রম নিয়ে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতির উপর। এছাড়াও পশ্চিম দরগাহ বিল আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার জানান, আনন্দ স্কুলের অনুকুলে বরাদ্দ ফরম এসিএফ প্রাপ্তির আশ্বাস দিয়ে কো-অর্ডিনেটর জহিরুল ইসলাম তার নিকট থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করেছে।

READ  মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ২য় রানার্স আপও বিবাহিত!

জানা গেছে, এ উপজেলার ১১১টি আনন্দ স্কুল কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ থাকলেও অস্তিত্বহীন আনন্দ স্কুলের নাম ভাঙ্গিয়ে কতিপয় দালাল চক্র আনন্দ স্কুল সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও প্রকৃত অর্থে যারা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেও ১/২ বছর ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছে না তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোন মাথা ব্যাথা না থাকায় আনন্দ স্কুলের কার্যক্রম দিন দিন ঝিমিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ ব্যাপারে জানার জন্য উখিয়া আনন্দ স্কুলের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটরের ০১৭৩১১৮৮২৫৬ নাম্বারের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে আনন্দ স্কুলের সহকারি মহাপরিচালক ডক্টর শাহরিয়ার সালমা নারগিসের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, গ্রামাঞ্চলের অল্প শিক্ষিত আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকারা মাসিক প্রতিবেদন পেশ করতে অনেক ভুল করেন। যার উপর নির্ভর করছে বেতন ভাতা পাওয়া আর না পাওয়া। তবে তিনি কো অর্ডিনেটর জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পিএসসি পরীক্ষায় যে সব স্কুল অংশগ্রহণ করেছে তাদের বেতন ভাতা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*