চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

সাকা-মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল

সিটিজি বাংলা২৪ ডেস্ক:: মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ দুজনের রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন।

বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

গতকাল মঙ্গলবার মুজাহিদের পক্ষে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত রিভিউ শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন জেনারেল মাহবুবে আলম। শুনানি শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

গত ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে রিভিউ শুনানির দিন নির্ধারণের জন্য আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়। এর আগের দিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের পক্ষে আলাদাভাবে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তাঁদের আইনজীবীরা।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ দুজনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়। সে অনুযায়ী সময় শেষ হয়ে যাওয়ার একদিন আগেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদ।

গত ২৯ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ ছাড়া ১৬ জুন একই অপরাধে মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল রাখা হয়।

চার অভিযোগে সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত নয়টি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

৩ নম্বর অভিযোগ : প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশে পাকিস্তানি সেনারা রাউজানের গহিরা শ্রী কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এ সময় নিজে নূতন চন্দ্র সিংহকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

READ  ব্যালন ডি’অর জিতলেন রোনালদো

৫ নম্বর অভিযোগ : প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল বেলা ১টার দিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তাঁর অনুসারীদের নিয়ে চট্টগ্রাম জেলার রাউজানের সুলতানপুর গ্রামে হামলা চালায়। সেনাসদস্যরা বণিকপাড়ায় প্রবেশ করে ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হয়ে অভিযান চালিয়ে নেপাল চন্দ্র ধর, মণীন্দ্র লাল ধর, উপেন্দ্র লাল ধর ও অনিল বরণ ধরকে গুলি করে। এতে প্রথম তিনজন শহীদ ও শেষের জন আহত হন। হত্যাকাণ্ড শেষে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তাঁর বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী তাঁদের অনুসারী ও পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সুলতানপুর গ্রাম ত্যাগ করেন।

৬ নম্বর অভিযোগ :  এ অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধকালীন  ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল বিকেল ৪টায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর উপস্থিতিতে রাউজানের ঊনসত্তরপাড়ায় ক্ষীতিশ মহাজনের বাড়ির পেছনে পুকুরপাড়ে শান্তি মিটিংয়ের নামে হিন্দু নর-নারীদের একত্র করে পাকিস্তানি সেনারা ব্রাশফায়ারে হত্যা করে। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

৮ নম্বর অভিযোগ : এ অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময়  ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফফর আহম্মদ ও তাঁর ছেলে শেখ আলমগীরসহ পরিবারের কয়েকজন  সদস্য প্রাইেভটকারযোগে চট্টগ্রামের রাউজান থেকে চট্টগ্রামে শহরে আসছিলেন। পথে হাটহাজারী থানার খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছামাত্র সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি সেনারা শেখ মোজাফফর আহম্মেদ ও তাঁর ছেলে শেখ আলমগীরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে স্থানীয় পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁদের আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

যে অভিযোগে মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড

এদিকে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মুজাহিদের অপরাধ সম্পর্কে বলা হয়, একাত্তরের ২৭ মার্চের পর ঢাকার মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী ক্যাম্প করে। পরে রাজাকার, আলবদর বাহিনীও সেখানে ক্যাম্প করে। মুজাহিদ ছাত্রসংঘের শীর্ষ নেতা হওয়ার সুবাদে আর্মি ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ছাত্রসংঘের ও আলবদর বাহিনীর সুপিরিয়র নেতা হিসেবে আর্মি ক্যাম্পে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী নানা অপরাধের পরামর্শ ও ষড়যন্ত্র করতেন। এ ধরনের পরামর্শ ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুজাহিদ ১০ ডিসেম্বর থেকে পরিচালিত বুদ্ধিজীবী নিধনসহ হত্যা, নির্যাতন, বিতাড়নের মতো যাবতীয় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটিত করেন।

READ  আনোয়ারা উপজেলা যুবলীগের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*