চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

সীতাকুণ্ড পৌরসভা নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি

কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) :: পৌর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও সীতাকুণ্ডের পৌর এলাকায় সর্বত্র বইছে নির্বাচনের হাওয়া। চায়ের আড্ডায় কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রথম শ্রেণীর এ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আসায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের সস্তুষ্টি লাভের জন্যও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তফসিল ঘোষণার আগেই ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে এবং আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ তার নির্বাচনী এলাকায় সমাজ সেবা, সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। সাথে সাথে দলের উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তবে তৎপরতা শুধু ক্ষমতাশীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যেই বেশ লক্ষ করা যাচ্ছে। এদিকে বিএনপির সমর্থীত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তেমন কোন আগ্রহ দেখা না গেলেও দলের নীতি নির্ধারকরা যাকে মনোনয়ন দেয় তারাই নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে বাধ্য হবেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থীরা দলের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে জানা যায়। জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা শরিক জোটের কোটা দাবী করে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। তবে কোটা না মিললেও তারা প্রার্থী হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
সরেজমিনে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ১ এপ্রিল ২৮ বর্গমাইল আয়তনের সীতাকুণ্ড পৌরসভা গঠিত হয়। এ পৌরসভায় ভোটার রয়েছেন প্রায় ২৮ হাজারের মতো। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সীতাকুণ্ড পৌরসভার মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষ হলেও সরকারি নানা জটিলতার কারনে পৌর নির্বাচন হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শোনা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ থেকে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন অন্তত আট প্রার্থী। তাদের কেউ কেউ প্রচারণামূলক পোস্টারে শোভা পাচ্ছে পৌর এলাকায়। অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়েও জনসংযোগ চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয় সমর্থন নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রভাবশালী ও শীর্ষ নেতাদের মন জোগানোর চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছেন তারা। কেউ কেউ ঢাকায় গিয়ে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টায় আছেন।

READ  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : উপকূলে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আওয়ামীলীগঃ আ’লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা আ’লীগের সদস্য এবং বর্তমান পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েক(অবঃ) শফিউল আলম, পৌরসভা আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ বদিউল আলম, পৌরসভা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ¦ সিরাজ-উদ-দৌলা ছুট্টু, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, পৌরসভা আ’লীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম, পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এস জে এস হোসেন (লিটন), উপজেলা আ’লীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ কামাল উল্লাহ, পৌর আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি ও জেলা ছাত্র লীগের সহ-সভাপতি জাহেদ চৌধুরী ফারুক।

বর্তমান মেয়র নায়েক (অবঃ) সফিউল আলম ইতিমধ্যে নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিলেও বর্তমানে জানিয়েছেন যে, দলীয় সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া। তবে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থীরা সবাই জানিয়েছেন, দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক তারা প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত নেবেন।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে উপজেলা অওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া জানান, বড় রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক নেতা প্রার্থিতার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে পৌর নির্বাচনে প্রার্থিতার ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।

বিএনপিঃ নির্বাচনে অংশগ্রহন নিয়ে এখনো দলীয় সিদ্ধান্ত না হলেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। তারাও প্রার্থীতা নিশ্চিত করার জন্য উপজেলার সিনিয়র নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে চলেছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলো- পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ নিজামী, সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম আজাদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনছুর, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন। এদিকে পৌর বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক আলমগীর ইমরানও দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। সূত্রে আরও জানা যায়, বিএনপির হেভি ওয়েট প্রার্থী সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে আমেরিকা অবস্থান করছেন। নির্বাচনের পূর্বে তিনি এলাকায় আসলে তিনিই বিএনপির একক প্রার্থী হতে পারেন বলেও সূত্রে জানা যায়। সীতাকুণ্ডের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন চৌধুরীর ছেলে বিএনপি নেতা এটিএম শাহিন চৌধুরী বর্তমান ভারতে চিকিৎসাধীন আছেন। নির্বাচনের আগে তিনি সুস্থ হলে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে তার পরিবার সূত্রে জানা যায়।
এব্যাপারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি লায়ন মোঃ আসলাম চৌধুরী জানান, পৌর নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর অনেক প্রার্থী আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তবে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না তা এখনও নিশ্চিত নয়। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই কাজ হবে। নির্বাচনে অংশ নিলে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা যার বেশি তাকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে।

READ  ৫০ একরে আশ্রয় পাচ্ছে রোহিঙ্গারা

জাতীয় পার্টিঃ উপজেলা জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাহার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল আলম এর নাম শোনা যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির জোটের কোটা অনুযায়ী প্রার্থী দেয়ার দাবী দিয়েছেন। আলোচনা ফলপ্রশু না হলে তারাও মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থী দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এব্যাপারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাতীয় পাটির সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, আওয়ামীলীগ যদি আমাদের সাথে সমঝোতা না করে তাহলে তারা সীতাকুণ্ড মেয়র নির্বাচনে এককভাবে নির্বাচন করবে।

জামায়াতঃ বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সীতাকুণ্ড পৌরসদর শাখা সূত্রে জানা যায়, সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহন করার পরিবেশ সৃষ্টি করলে তারাও পৌরসভা মেয়র, কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিবেন। সীতাকুণ্ড  পৌর জামায়াতের আমীর তৌহিদুল হক চৌধুরী মেয়র প্রার্থী হবেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*