চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

ইসলাম

দারুল ইফতা মসজিদ : ছাদহীন ৫৫৭ বছর

সিটিজি বাংলাঃ

তুরস্কের উত্তর-পূর্ব কার্ডগার একটি মসজিদ পাঁচশো বছরেরও বেশি সময় ধরে ছাদহীন। কখনোই মসজিদটির ছাদ নির্মাণের পরিকল্পনা কিংবা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ছাদহীন ওই মসজিদেই সেখানকার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন।

মসজিদটির উন্মুক্ত ছাদ দিয়ে কোমল বায়ু মুসল্লিদের শিহরিত করে। দুটি মিনার মসজিদটিকে একটি আধ্যাত্মিক রূপ দিয়েছে। মসজিদের মেঝে সবুজাভ ঘাসে আচ্ছাদিত। তবে মসজিদের চারপাশে সামান্য উঁচু করে ঘেরাও দেয়া। তুরস্কের গোমুশ খানা এবং ট্রাভজোনের প্রাদেশিক সীমানায় মসজিদটি অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মসজিদটির উচ্চতা ৮০০ মিটার উঁচুতে।

প্রতি গ্রীষ্মে ভ্রমণপ্রেমীরা পরিবারসহ ট্র্যাভজোন, জার্সন, গোমশ খানা, কার্ডগা রিসোর্টে সফর করে থাকেন। ৫৫৭ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ওই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পছন্দ করেন তারা।

ছাদহীন মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়মসজিদের ইমাম আকিফ ইয়াজজি বলেন, গ্রীষ্মের মাসগুলিতে এই অঞ্চলের ‘দারুল ইফতা’ মসজিদের জন্য একজন সাময়িক ইমাম নিযুক্ত করে দেয়।

মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বলা হয় ট্রাভজোন বিজয়ের সময় সুলতান আল-ফাতেহ তার সৈন্যদের নিয়ে এখানে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেন। সে সময় একটা স্বপ্ন দেখার পর সুলতান পাথরের সাহায্যে নামাজ আদায়কৃত জায়গার চারপাশে ঘেরাও করার আদেশ দিয়েছিলেন। যেন জায়গাটি নির্ধারিত ও আলাদা থাকে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত শুক্রবার মসজিদটিকে জুমার নামাজের জন্য ব্যবহার করা হয়।

চট্টগ্রামে ৩৩ তম আন্তর্জাতিক শাহাদাত-এ-কারবালা মাহফিল শুরু

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

শাহাদাতের কারবালা মাহফিল ফাইল ছবি

 

চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে শুরু হলো ১০ দিন ব্যাপী ৩৩তম আন্তর্জাতিক শাহাদাত-এ-কারবালা মাহফিল।

১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর থেকে এ মাহফিল শুরু হয়ে চলবে ২১ সেপ্টেম্বর ১০ দিন পর্যন্ত।

এতে অংশ নিতে চট্টগ্রামে এসেছেন মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ সদস্যের টিমসহ, লেবানন, মালয়েশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকার ইসলামি স্কলাররা।

মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মিশর, লেবানন, মালয়েশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকার ইসলামি স্কলাররাসহ পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তারা মাহফিল অংশগ্রহণ করছেন এবং এ মাহফিলের সকলের সহযোগিতায় সফলতা কামনা করেন তিনি।

এবারের মাহফিলে বড়পীর হজরত আব্দুল কাদের জিলানির (রা.) সরাসরি বংশধর হজরত শাহসুফি সৈয়দ আফিফ আব্দুল কাদের জিলানি(মজিআ),বিশ্বের প্রচীনতম মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. ইব্রাহিম সালেহ হুদ হুদসহ ১৫ জন স্কলার, ভারতের হজরত শাহসুফি সৈয়দ মাহমুদ আশরাফ আল-আশরাফি (মজিআ), লেবাননের শাহসুফি সৈয়দ জামাল শাক্কর(মজিআ), গাজিয়ে মিল্লাত আল্লামা হাসেমী মিয়া আল আশরাফী, আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ নূরানি আশরাফ আল-আশরাফি, শ্রীলঙ্কার আল্লামা শাহ সুফি মুহাম্মদ এহ্ছান ইকবাল আল-কাদেরি, ভারতের আল্লামা আকবর এহসানি প্রমুখ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ওলামা মাশায়েখরা কারবালা সম্পর্কে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে ।

মাথায় টুপি না দিলে নামাজ হবে?

সিটিজি বাংলাঃ
টুপি মাথায় দিয়ে নামাজ না পড়লে নামাজ হবে না এমন কথা দুনিয়ার কেউ বলেনি। টুপি হচ্ছে একটি আদব বা সৌজন্যবোধ। নামাজের একটি সৌজন্যবোধ কিন্তু আপনার থাকা উচিত। কারণ আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের মধ্যে বলেছেন, ‘হে বনি আদম! প্রত্যেকটি সেজদাহর জায়গাতে (মসজিদে) তোমরা সৌন্দর্য অবলম্বন কর।’
এ জন্য যখন মসজিদে যাবেন তখন যেন পরিপূর্ণ একটি হায়াত বা পরিপূর্ণ একটি অবস্থান আপনার থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
মাথায় টুপি থাকা হচ্ছে একটি আদব। এটি না থাকলে নামাজ হবে না এমন কথা আমরা বলছি না। চেষ্টা করবেন মাথায় টুপি দিয়ে নামাজ আদায় করতে। তারপরও নামাজ কিন্তু আপনাকে পড়তেই হবে এটি খেয়াল রাখবেন।

উত্তর দিয়ছেন ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া

সূত্রঃ এনটিভি অনলাইন

মেনে চলবেন পবিত্র কুরআন শরীফের ১০০ টি উপদেশবাণী

সিটিজি বাংলা, ধর্মীয় ডেস্ক:

পবিত্র কুরআনের ১০০টি উপদেশবাণী। যা কুরআন শরীফে অবতীর্ণ ১১৪ টি সুরা থেকে সংগৃহীত। পড়ার পরে অবশ্যই শেয়ার করুন। আশা করি অবশ্যই ভালো লাগবে এবং মেনে চলবেন।

��১। তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:৪২] � �২। সৎকার্য নিজে সম্পাদন করার পর অন্যদের করতে বলো। [সূরা বাকারা ২:৪৪] � �৩। পৃথিবীতে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:৬০] � �৪। কারো মসজিদ যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:১১৪] � �৫। কারো অন্ধানুসরণ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭০] � �৬। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭৭] � �৭। ঘুসে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা বাকারা ২:১৮৮] � �৮। যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করবে, শুধু তাদের সঙ্গে তোমরা লড়াই করো। [সূরা বাকারা ২:১৯০] � �৯। লড়াইয়ের বিধি মেনে চলো। [সূরা বাকারা ২:১৯১] � �১০। অনাথদের রক্ষণাবেক্ষণ করো। [সূরা বাকারা ২:২২০] � �১১। রজঃস্রাব কালে যৌনসঙ্গম করো না। [সূরা বাকারা ২:২২২] � �১২। শিশুকে পূর্ণ দুই বছর দুগ্ধপান করাও। [সূরা বাকারা ২:২৩৩] � �১৩। সৎগুণ দেখে শাসক নির্বাচন করো। [সূরা বাকারা ২:২৪৭] � �১৪। দ্বিনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। [সূরা বাকারা ২:২৫৬] � �১৫। প্রতিদান কামনা করে দাতব্য বিনষ্ট করো না। [সূরা বাকারা ২:২৬৪] � �১৬। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করো। [সূরা বাকারা ২:২৭৩] � �১৭। সুদ ভক্ষণ করো না। [সূরা বাকারা ২:২৭৫] � �১৮। যদি ঋণীঅভাবগ্রস্তহয়তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দাও। [সূরা বাকারা ২:২৮০] � �১৯। ঋণের বিষয় লিখে রাখো। [সূরা বাকারা ২:২৮২] � �২০। আমানত রক্ষা করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৩] � �২১। গোপন তত্ত্ব অনুসন্ধান করো না এবং পরনিন্দা করো না। [সূরা বাকারা ২:২৮৩] � �২২। সমস্ত নবির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৫] � �২৩। সাধ্যের বাইরে কারো উপর বোঝা চাপিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:২৮৬] � �২৪। তোমরা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১০৩] � �২৫। ক্রোধ সংবরণ করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৩৪] � �২৬। রূঢ় ভাষা ব্যবহার করো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৫৯] � �২৭। এই বিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯১] � �২৮। পুরুষ ও নারী উভয়ই তাদের কৃতকর্মের সমান প্রতিদান পাবে। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯৫] � �২৯। মৃতের সম্পদ তার পরিবারের সদস্যসের মাঝে বন্টন করতে হবে। [সূরা নিসা ৪:৭] � �৩০। উত্তরাধিকারের অধিকার নারীদেরও আছে। [সূরা নিসা ৪:৭] � �৩১। অনাথদের সম্পদ আত্মসাৎ করো না। [সূরা নিসা ৪১০] � �৩২। যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক তাদের বিবাহ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৩] � �৩৩। অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ ভক্ষণ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৯] � �৩৪। পরিবারের উপর কর্তৃত্ব চালাবে পুরুষ। [সূরা নিসা ৪:৩৪] � �৩৫। অন্যদের জন্য সদাচারী হও। [সূরা নিসা ৪:৩৬] � �৩৬। কার্পণ্য করো না। [সূরা নিসা ৪:৩৭] � �৩৭। বিদ্বেষী হয়ো না। [সূরা নিসা ৪:৫৪] � �৩৮। মানুষের সাথে ন্যায়বিচার করো। [সূরা নিসা ৪:৫৮] � �৩৯। একে অপরকে হত্যা করো না। [সূরা নিসা ৪:৯২] � �৪০। বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করো না। [সূরা নিসা ৪:১০৫] � �৪১। ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো। [সূরা নিসা ৪:১৩৫] � �৪২। সৎকার্যে পরস্পরকে সহযোগিতা করো। [সূরা মায়িদা ৫:২] � �৪৩। সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়িদা ৫:২] � �৪৪। মৃত পশু, রক্ত ও শূয়োরের মাংসা নিষিদ্ধ। [সূরা মায়িদা ৫:৩] � �৪৫। সৎপরায়ণ হও। [সূরা মায়িদা ৫:৮] � �৪৬। অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও। [সূরা মায়িদা ৫:৩৮] � �৪৭। পাপ ও অবৈধ জিনিসের বিরুদ্ধে শ্রম ব্যয় করো। [সূরা মায়িদা ৫:৬৩] � �৪৮। মাদক দ্রব্য ও আলকোহল বর্জন করো। [সূরা মায়িদা ৫:৯০] � �৪৯। জুয়া খেলো না। [সূরা মায়িদা ৫:৯০] � �৫০। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্যদের গালমন্দ করো না। [সূরা মায়িদা ৫:১০৮]

 

� �৫১। আধিক্য সত্যের মানদণ্ড নয়। [সূরা আন’আম ৬:১১৬] � �৫২। মানুষকে প্রতারণা দেওয়ার জন্য ওজনে কম দিও না। [সূরা আন’আম ৬:১৫২] � �৫৩। অহংকার করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:১৩] � �৫৪। পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১] � �৫৫। সালাতে উত্তম পোশাক পরিধান করো। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১] � �৫৬। অন্যদের ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করো। [সূরা আ’রাফ ৭:১৯৯] � �৫৭। যুদ্ধে পশ্চাদ্‌মুখী হয়ো না। [সূরা আনফাল ৮:১৫] � �৫৮। যারা নিরাপত্তা কামনা করছে তাদের সহযোগিতা করো ও নিরাপত্তা দাও। [সূরা তওবা ৯:৬] � �৫৯। পবিত্র থেকো। [সূরা তওবা ৯:১০৮] � �৬০। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা ইউসুফ ১২:৮৭] � �৬১। যারা অজ্ঞতাবশত ভুলত্রুটি করে আল্লাহ্‌ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করবেন। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯] � �৬২। প্রজ্ঞা ও উত্তম নির্দেশনা দ্বারা আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি আহ্বাব করা উচিত। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯] � �৬৩। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। [সূরা ইসরা ১৭:১৫] � �৬৪। পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। [সূরা ইসরা ১৭:২৩] � �৬৫। পিতামাতাকে অশ্রদ্ধা করে কোনো কথা বলো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৩] � �৬৬। অর্থ অপচয় করো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৯] � �৬৭। দারিদ্রের আশঙ্কায় সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩১] � �৬৮। অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩২] � �৬৯। যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তার অনুবর্তী হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩৬] � �৭০। শান্তভাবে কথা বলো। [সূরা ত্বা-হা ২০:৪৪] � �৭১। অনর্থ জিনিস থেকে দূরে থেকো। [সূরা মু’মিনুন ২৩:৩] � �৭২। অনুমতি ছাড়া কারো গৃহে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:২৭] � �৭৩। যারা শুধু আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দেন। [সূরা নূর ২৪:৫৫] � �৭৪। বিনা অনুমতিতে পিতামাতার ব্যক্তিগত ঘরে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:৫৮] � �৭৫। বিনয় সহকারে ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করো। [সূরা ফুরকান ২৫:৬৩] � �৭৬। এই পৃথিবীতে তুমি তোমার অংশকে উপেক্ষা করো না। [সূরা কাসাস ২৮:৭৭] � �৭৭। আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোনো বাতিল উপাস্যকে ডেকো না। [সূরা কাসাস ২৮:৮৮] � �৭৮। সমকামিতায় লিপ্ত হয়ো না। [সূরা আন্‌কাবুত ২৯:২৯] � �৭৯। সৎকার্যের আদেশ করো এবং অসৎকার্য হতে নিষেধ করো। [সূরা লোকমান ৩১:১৭] � �৮০। দম্ভভরে ভুপৃষ্ঠে বিচরণ করো না। [সূরা লোকমান ৩১:১৮] � �৮১। কণ্ঠস্বর অবনমিত রেখো। [সূরা লোকমান ৩১:১৯] � �৮২। নারীরা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। [সূরা আহ্‌যাব ৩৩:৩৩] � �৮৩। আল্লাহ্‌ তাআলা যাবতীয় পাপ মোচন করে দিতে পারেন। [সূরা যুমার ৩৯:৫৩] � �৮৪। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা যুমার ৩৯:৫৩] � �৮৫। ভালো দ্বারা মন্দ প্রতিহত করো। [সূরা হা-মিম সাজদা ৪১:৩৪] � �৮৬। যেকোনো বিষয়ে পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নাও। [সূরা শূরা ৪২:৩৮] � �৮৭। মানুষের সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করো। [সূরা হুজরাত ৪৯:৯] � �৮৮। কাউকে পরিহাস করো না। [সূরা হুজরাত ৪৯:১১] � �৮৯। সন্দেহ থেকে বিরত থেকো। [সূরা হুজরাত ৪৯:১২] � �৯০। পরনিন্দা করো না। [সূরা হুজরাত ৪৯:১২] � �৯১। সবচেয়ে আল্লাহ্‌ভীরু ব্যক্তি সবচেয়ে সম্মাননীয়। [সূরা হুজরাত ৪৯:১৩] � �৯২। অতিথির সম্মান করো। [সূরা যারিয়াত ৫১:২৬] ��৯৩। দাতব্যকার্যে অর্থ ব্যয় করো। [সূরা হাদিদ ৫৭:৭] � �৯৪। দ্বিনের মধ্যে বৈরাগ্যের কোনো স্থান নেই। [সূরা হাদিদ ৫৭:২৭] � �৯৫। জ্ঞানীজনকে আল্লাহ্‌ তাআলা সুউচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন। [সূরা মুজাদালাহ্‌ ৫৮:১১] � �৯৬। অমুসলিমদের সাথে সদয় ও ন্যায় আচরণ করো। [সূরা মুমতাহিনাহ্‌ ৬০:৮] � �৯৭। লোভ-লালসা থেকে সুরক্ষিত থেকো। [সূরা তাগাবুন ৬৪:১৬] � �৯৮। আল্লাহ্‌ তাআলার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করো। তিনি মহাক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। [সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:২০] � �৯৯। ভিক্ষুককে ধমক দিও না। [সূরা যুহা ৯৩:১০] � �১০০। অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করো। [সূরা মা’ঊন ১০৭:৩]

প্রস্রাবের পর পোশাকের পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ হলে কি নামায ছেড়ে দিবেন!

সিটিজি বাংলা, ধর্মীয় ডেস্ক:

 

 

সাধারণত পবিত্রতা সচেতন সকল মুসলিম পুরুষই প্রস্রাব শেষ করে লজাস্থান স্থান ধৌত করে নেয়। কিন্তু অনেকেরই এমন হয়- যখন সে নড়াচড়া করে ও দাঁড়ায়, তখন মনে হতে থাকে আরও এক-দুই ফোটা প্রস্রাব যেন বের হয়েছে। অফিস/কর্মস্থলে থাকাবস্থায় এই ভেবে অনেকেই কয়েক ওয়াক্ত ফরয নামাযও ছেড়ে দেয়। ঈমানী দুর্বলতার দরুণ যার কাযাও পরবর্তীতে আর আদায় করা হয় না।

এভাবে সে বিশাল গুনাহে নিমজ্জিত হয়। আর কেউ এ সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় প্রস্রাবের স্থানে বসে থাকে আর বলে : কি করব ? আসুন জেনে নেই এখন সে কি তার এ অনুভূতি ও ধারণা ত্যাগ করে অযূ পূর্ণ করে নেবে এবং নামায আদায় করবে, না পরিপূর্ণ প্রস্রাব বন্ধ হওয়া বা ধারণা দূর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? এ বিষয়টি ওয়াসওয়াসা ও সন্দেহ থেকে সৃষ্টি হয়। আর এগুলো তৈরি হয় শয়তানের পক্ষ থেকে।

 

তবে কারো কারো ব্যাপারে প্রকৃত পক্ষেই এমন ঘটে। আর প্রকৃত হলে, সে তাড়াহুড়ো করবে না, বরং প্রস্রাব বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।

 

এরপর যদি কোন কিছুর আশঙ্কা থাকে, তাহলে লজ্জাস্থানের আশপাশে লুঙ্গি বা পায়জামায় পানি ছিটিয়ে দেবে। অতঃপর অযূ শেষ করার পর যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়, সে দিকে সে ভ্রুক্ষেপ করবে না। ওয়াসওয়াসা ত্যাগ করার জন্য এ পদ্ধতি তার জন্য সহায়ক হবে। আর যদি শুধুই সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসা হয়, যার কোন বাস্তবতা নেই, তবে তার প্রতি মোটেই ভ্রক্ষেপ করবে না।

 

মুমিনদের জন্য এ সমস্ত জিনিসে দৃষ্টি না দেয়া উচিত। কারণ, এগুলো শয়তানের ওয়াসওয়াসা। শয়তান চায় মানব জাতির সালাত-ইবাদত নষ্ট করতে। অতএব, তার ষড়যন্ত্র ও ওয়াসওয়াসা থেকে সতর্ক থাকা জরুরি। আল্লাহকে আকড়ে থাকা এবং তার উপর ভরসা করা। আর এসব যা কিছু সৃষ্টি হয়, তা শয়তানের
পক্ষ থেকে মনে করা, যাতে অযূ এবং তার পরবর্তী সালাতে এর প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ সৃষ্টি না হয়। আর নিশ্চিতভাবে কিছু বের হলে, পুনরায় পবিত্র হবে ও অযূ করবে। আর ধারণার কোনই গ্রহণ যোগ্যতা নেই।

 

যদিও ৯৯% ভাগ ধারণা হয়, তার প্রতিও কোন ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। এগুলো শয়তানের প্ররোচনা। যতক্ষণ পর্যন্ত দৃঢ় বিশ্বাস না হবে, সে তার অযূ, সালাত ও অন্যান্য কাজ করে যাবে।

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল : “হে আল্লাহর রাসূল, কোন ব্যক্তির ধারণা হয় যে, তার সালাতে কিছু বের হয়েছে। উত্তরে তিনি বলেন : لَا يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا “সালাত ত্যাগ করবে না, যতক্ষণ না সে আওয়াজ শোনে, অথবা গন্ধ পায়।” (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাযাহ) এখানে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, আওয়াজ বা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত, কেবল ধারণার উপর নির্ভর করে সালাত ত্যাগ করবে না।

 

তদ্রূপ মানুষ যখন অযূ থেকে ফারেগ হয়, অতঃপর কোন কিছু অনুভূত হলে, সে দিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না, এবং তার প্রতি ফিরে যাবে না। বরং, সে তার পবিত্রতা, সালাত ও আমল করে যাবে, যতক্ষণ না ১০০% ভাগ ধারণা হয় যে, কিছু বের হয়েছে। কারণ, কিছু বের না হওয়াই শারীরিকভাবে নিয়ম।

 

আরো স্মরণ রাখবে যে, শয়তানের ওয়াসওয়াসা, তার প্ররোচনা ও তার সৃষ্ট সন্দেহ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুমিনকে ক্লান্ত করা ও তাকে কল্যাণকর এসব কাজ থেকে বিরত রাখা। আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাচ্ছি। (শাইখ আবদুল্লাহ ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ-এর ফতোয়া অবলম্বনে লিখিত) বিপরীতেও মন্তব্য থাকতে পারে।

হজ ও ওমরাহ নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে – ধর্মমন্ত্রী

সিটিজি বাংলা:

 

 

বাংলাদেশের হজ্ব যাত্রীদের অসুবিধা লাঘবে এ বছর জাতীয় হজ্ব ও ওমরাহ নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে এ বছর হজ্বে এই ধরনের বিড়ম্বনা এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যায় বলেছেন ধর্মমন্ত্রী।

 

২৭ জুন বুধবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সদস্য মাহজাবিন খালেদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা জানান।

 

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সংসদকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট সিডিউল অনুযায়ী হজ্ব এজেন্সিসমূহ কর্তৃক যথাসময়ে টিকিট সংগ্রহ না করা এবং বিমান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক টিকিট সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা আরোপ না করায় বিগত সময়ে ফ্লাইট সিডিউল পরিবর্তন হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

 

ধর্মমন্ত্রী জানান, ওই নীতির অনুচ্ছেদ ১০দশমিক ৯ অনুযায়ী হজ ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে এয়ারলাইন্সসমূহ সকল টিকিট বিক্রি/বুকিং সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির সমসংখ্যক হজ্ব যাত্রীর নামের অনুকূলে বরাদ্দ ও ইস্যু করার এবং তা দৈনিকভিত্তিক অনলাইনে প্রদর্শনের নির্দেশনা রয়েছে।

 

আওয়ামী লীগের এ কে এম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে মতিউর রহমান সংসদকে জানান, বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সারাদেশের ওয়াক্ফ সম্পত্তি থেকে ওয়াক্ফ চাঁদা আদায়ের পরিমাণ ৬ কোটি ৫২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬৭ টাকা। বর্তমানে ওয়াক্ফ আমানত হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকে ৩৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জমা আছে।

 

উক্ত আয় থেকে ওয়াক্ফ প্রশাসক, উপ প্রশাসক, সহকারী প্রশাসক ও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদিসহ সকল সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলা পরিচালনার ব্যয়ও এখান থেকে নির্বাহ করা হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

দক্ষিণ চট্টগ্রামে ৪০টি গ্রামে মীর্জাখীল দরবারের অনুসারীদের ঈদুল ফিতর আজ

সিটিজি বাংলা:

 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-চন্দনাইশসহ কয়েকটি উপজেলার ৪০টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।

১৫ জুন শুক্রবার সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলায় বেশ কয়েকটি গ্রামের কিছুসংখ্যক মানুষ সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উদযাপন করছেন।

সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রতি বছর সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন। এবারো তার ব্যতিক্রম করেনি মির্জাখলী দরবারের অনুসারীরা।

শুক্রবার সকাল ১০টায় কয়েক হাজারো মুসল্লী মির্জারখীল দরবার শরীফে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।

 

 

 

দরবার শরীফের পীর হয়রত মাওলানা মোহাম্মদ আরেফুল হাই এর বড় ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মকছুদুর রহমান ঈদের নামাজে ইমামতি করেছেন।পবিত্র ঈদের জামাত শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলির মাধ্যমে কুশল বিনিময় করেছেন। এরপর নিজের ঘরে, এলাকায় ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছেন মীর্জাখীল দরবারের অনুসারীরা।

সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মির্জারখীল দরবার শরীফের অনেক মুরিদ ঈদের নামাজে শরীক হয়েছেন। দরবার শরীফ ছাড়াও মাদার্শা ইউনিয়ন ও বিভিন্ন গ্রামে মুরিদরা ঈদ জামাতের আয়োজন করেছেন। সেখানেও হাজারো মুসল্লী অংশ নিয়েছেন।

মির্জারখীল দরবার শরীফের সূত্রমতে, সাতকানিয়ার মির্জাখীল, মাদার্শা গাটিয়া ডেঙ্গা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, কানাই মাদারি, হারাল, বাইনজুরি, সাতবাড়িয়া, রওশনহাট, বরকল, দোহাজারী, জামিরজুরি, বাঁশখালীর চাম্বল, শেখের খীল, কালিপুর, ছনুয়া, আনোয়ারার বরুমছড়া, তৈলারদ্বীপ, লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, কলাউজান, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, রাউজান, ফটিকছড়ির কিছু এলাকাসহ চট্টগ্রামের প্রায় ৪০ গ্রামের কিছু সংখ্যক মানুষ শুক্রবার ঈদ-উল ফিতর উদযাপন করছেন।

সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবারের পরিচালনা কমিটির সচিব মাস্টার বজলুর রহমান বলেন, যেহেতু সৌদি আরবের দিনক্ষণ অনুসরণ করি, সে অনুযায়ী রোজা ও ঈদ ইত্যাদি একই নিয়মে পালন করে আসছি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা ঈদের নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে সকলেই মির্জাখীল দরবার শরীফে এসেছেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন জানান, সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মির্জারখীল দরবার শরীফ ও মাদার্শা ইউনিয়নের ২টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়াও কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও হ্নীলা এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ির বেশ কয়েকটি গ্রামের কিছু লোক একই সময়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

উল্লেখ্য, প্রায় ২০০ বছর আগে তৎকালীন পীর মাওলানা মুখলেছুর রহমান (রহঃ) একদিন আগে অর্থাৎ পৃথিবীর অন্য যেকোন দেশে চাঁদ দেখা গেলেই রোজা, ঈদ এবং কোরবানী পালনের নিয়ম প্রবর্তন করেন। এরপর থেকে সারাদেশে মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা এ নিয়ম পালন করে আসছেন।

‘লাইলাতুল কদরের রাত হাজার রাতের চেয়ে উত্তম’

রুমেন চৌধুরী, এডিটর:

 

ধর্মীয় ডেস্ক: “পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাত হাজার রাতের চেয়েও উত্তম”

পবিত্র লাইলাতুল কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকত ও পুণ্যময় রজনী।

১২ জুন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদরের রজনী। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআন লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়।

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘আমি কদর রাতে কোরআন নাজিল করেছি’।

তাই মুসলিম উম্মাহ’র নিকট শবে কদরের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত অত্যধিক। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যময় পরিবেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারাদেশে পবিত্র শবে কদর পালন করবে।

লাইলাতুল কদরের শ্রেষ্ঠত্ব, মহাত্ম্য ও মর্যাদার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এ গৌরবময় রজনীতে মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ মহাপবিত্র ঐশীগ্রন্থ আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

একদিন নবী করিম (সা.) বনী ইসরাইলের শামউন নামক একজন আবিদ-জাহিদের দীর্ঘকালের কঠোর সাধনা সম্পর্কে বলছিলেন। সেই মহৎ ব্যক্তি এক হাজার মাস লাগাতার দিবাভাগে সিয়াম ও জিহাদে রত থাকতেন এবং সারা রাত জেগে থেকে আল্লাহর ইবাদতের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতেন।

উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম আল্লাহর এ নেক বান্দার কঠোর সাধনার কথা শুনে বলতে লাগলেন, হায়! আমরাও যদি ওই লোকটির মতো দীর্ঘায়ু পেতাম, তাহলে আমরাও ওই রকম ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে দিবস-রজনী অতিবাহিত করতে পারতাম। এমন সময় সূরা আল-কদর নাজিল হয়।

ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কি জানো? কদরের রাত সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। (সূরা আল-কদর, আয়াত: ১-৫)

শবে কদরের যাবতীয় কাজের ইঙ্গিত দিয়ে এ রাতের অপার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, হা-মিম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) এক মুবারকময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। (সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ১-৪)

কদরের রাতে অজস্র ধারায় আল্লাহর খাস রহমত বর্ষিত হয়। এ রাতে এত অধিকসংখ্যক রহমতের ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন যে, সকাল না হওয়া পর্যন্ত এক অনন্য শান্তি বিরাজ করতে থাকে।
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (মাজহারি)

লাইলাতুল কদরে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিজিক, বৃষ্টি ইত্যাদির পরিমাণ নির্দিষ্ট ফেরেশতাদের লিখে দেওয়া হয়, এমনকি এ বছর কে হজ করবে, তা-ও লিখে দেওয়া হয়।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী চারজন প্রধান ফেরেশতাকে এসব কাজে সোপর্দ করা হয়। যথাক্রমে তারা হলেন হজরত ইসরাফিল (আ.), হজরত মিকাইল (আ.), হজরত আজরাইল (আ.) ও হজরত জিবরাইল (আ.)। (তাফসিরে মারেফুল কোরআন)

সহস্র মাস ইবাদতে যে সওয়াব হয়, কদরের এক রাতের ইবাদত তার চেয়ে উত্তম। লাইলাতুল কদরের অপার মহিমা ও ফজিলতময় রাতে মুমিন মুসলমানদের ওপর আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। এ রাতে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে মাগফিরাত, নাজাত ও ক্ষমা পাওয়ার পরম সুযোগ লাভ করা যায়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তার আগে করা সব গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন।

অন্য হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে আত্মসমর্পিত হৃদয় নিয়ে ইবাদতে কাটাবে, আল্লাহ তার ইজ্জত ও মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন। লাইলাতুল কদরে যে বা যারা আল্লাহর আরাধনায় মুহ্যমান থাকবে, তার ওপর থেকে দোজখের আগুন হারাম করে দেওয়া হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সমস্ত রজনী আল্লাহ তাআলা লাইলাতুল কদর দ্বারাই সৌন্দর্য ও মোহনীয় করে দিয়েছেন, অতএব তোমরা এ বরকতময় রজনীতে বেশি বেশি তাসবিহ-তাহলিল ও ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাকো।

 

তিনি আরও বলেছেন, তোমরা তোমাদের কবরকে আলোকিত পেতে চাইলে কদরের রাত জেগে ইবাদতে কাটিয়ে দাও। আল্লাহর অশেষ রহমতে আবৃত এ রাত্রি যাতে বৃথা না যায় সেজন্য ইবাদত-বন্দেগি, তাসবিহ-তাহলিল এবং অন্তরের আকুতিভরা প্রার্থনার মাধ্যমে রাহমানুর রাহিমের অসীম করুণা ও ক্ষমা ভিক্ষা করা বান্দার জন্য খুবই জরুরি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমজানের শেষ ১০ রাতে শবে কদর সন্ধান করো। (বুখারি ও মুসলিম)
তিনি আরও বলেছেন, মাহে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে তোমরা শবে কদর সন্ধান করো। (বুখারি)

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে কদরের রাতে দণ্ডায়মান হয়, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং এ রাতে তারাবি-তাহাজ্জুদসহ অধিক নফল নামাজ, পবিত্র কোরান তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির, একাগ্রচিত্তে দোয়া এবং অতীত পাপমোচনে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য পরিবার-পরিজনকে উদ্বুদ্ধ করা উচিত। ইবাদতের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণই মুমিন মুসলমানের প্রধান কাজ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সিজদায় বান্দা তার প্রভুর অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে। তাই তোমরা অধিক দোয়া করো। (মুসলিম)

হজরত আয়েশা (রা.) একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে রাসুলুল্লাহ! আমি যদি লাইলাতুল কদর পাই তখন কী করব? তিনি বললেন, তুমি বলবে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন, তুহিব্বুল আফ্ওয়া ফাফু আন্নি—অর্থাৎ হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন, অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিজি)

লাইলাতুল কদর গোটা মানবজাতির জন্য অত্যন্ত পুণ্যময় রজনী। এ রাত্রি বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের অপার সুযোগ এনে দেয়। এ রাত হচ্ছে মহান আল্লাহর কাছে সুখ, শান্তি, ক্ষমা ও কল্যাণ প্রার্থনার এক অপূর্ব সুযোগ। এ রাতে অবতীর্ণ মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ পবিত্র কোরআনের অনুপম শিক্ষাই ইসলামের অনুসারীদের সার্বিক কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, ইহকালীন শান্তি ও পারলৌকিক মুক্তির পথ দেখায়। তাই এটাই প্রমাণিত এই রাত হাজার রাতের চেয়ে অধিক থেকে অধিকতর উত্তম।

রমযান মাসে জান্নাত পাবার জন্য যে দু’আ পড়তে হয়

সিটিজি বাংলা, ধর্মীয় ডেস্ক:

 

রমযান মাসটি হল সহমর্মিতার মাস। এই মাসে ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে রোজা রাখার নিয়ম। সকল প্রকার মিথ্যা কথা বলা, গীবত করা, অন‍্যায়, অনাচার থেকে দূরে থাকা। আর এ রমজানের চূড়ান্ত প্রাপ্তি হচ্ছে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ।

রাসুলে আরাবি বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল কিন্তু নিজেকে গোনাহমুক্ত করতে পারলো না, তার মতো হতভাগা আর কেউ নেই।

২১তম রমজানে অনেক মুমিন মুসলমান নিজেদের গোনাহমুক্ত করতে এবং লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য ইতেকাফে বসেছেন। আবার অনেকেই এ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে বসতে পারেনি।

যারা ইতেকাফে বসেছেন, আর যারা বসতে পারেনি তাদের সবার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে নিষ্কৃতি লাভে অন্যায় ও গোনাহমুক্ত জীবনের প্রত্যাশায় আল্লাহর কাছে ধরনা দেয়ার একটি দোয়া আছে। আর দু’আটি হলো এই…

اَللَّهُمَّ اجْعَلْ لِىْ فِيْهِ اِلَى مَرْضَاتِكَ دَلِيْلًا
وَ لَا تَجْعَلْ لِلشَّيْطَانِ فِيْهِ عَلَىَّ سَبِيْلًا
وَاجْعَلِ الْجَّنَّةَ لِىْ مَنْزِلًا وَ مَقِيْلًا
يَا قَاضِىَ حَوَائِجِ الطَّالِبِيْنَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাঝআ’ল লি ফিহি ইলা মারদাতিকা দালিলা; ওয়া লা তাঝআ’ল লিশশায়ত্বানি ফিহি আ’লাইয়্যা সাবিলা; ওয়াঝআ’লিল জান্নাতা লি মানযিলাওঁ ওয়া মাক্বিলা; ইয়া ক্বাদিয়া হাওয়ায়িঝিত ত্বালিবিন।

অর্থ : হে আল্লাহ! এ দিনে আমাকে তোমার সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত কর। আমার ওপর শয়তানদের আধিপত্য বিস্তার করতে দিওনা। জান্নাতকে আমার গন্তব্যে পরিণত কর। হে প্রার্থনাকারীদের অভাব মোচনকারী।

অতএব…
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের শেষ দশকের প্রথম দিনে দুনিয়ার সব ফেতনা থেকে মুক্ত হয়ে জাহান্নামের আগুন ও ভয়াবহ আজব থেকে মুক্তি লাভের মাধ্যমে চিরস্থায়ী জান্নাতের গন্তব্যে পৌছাঁর তাওফিক দান করুন। পবিত্র মাহে রমজানে সকলেই এই দুুু’আ পড়বেন! ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাত পাবার তওফিক দান করুন। আমীন।

লাইলাতুল-কদরের রাত পেলে কি দু’আ পড়বেন!

 

সিটিজি বাংলা, ধর্মীয় ডেস্ক:

শুরু হলো রমযান মাসের নাযাতের শেষ ১০ দিন। হাদিস অনুযায়ী, ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাতে কদর হতে পারে।

তবে ২৬ রমজান দিবাগত রাতেই লাইলাতুল কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত।[১৪][১৫] আয়েশা থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, মুহাম্মদ রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমজানের শেষ ১০ রাতে শবে কদর সন্ধান করো। (বুখারি ও মুসলিম)

আরেকটি হাদিসে মুহাম্মদ বলেছেন, মাহে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তোমরা শবে কদর সন্ধান করো। [১৬] (সহীহ বুখারী)[১৭][১৮]

হাদিস শরীফে এসেছে দু’আ সমস্ত ইবাদতের মগজ। তথাপি শবে কদরের অন্যতম আমলও হচ্ছে দু’আ। তাই সুমহান ফযিলতপূর্ণ এ রাতে সেই দু’আটি বেশী বেশী করা যা নবী কারিম সা. আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. কে শিখিয়েছিলেন।
হাদিস শরীফে এসেছে,

عائشة – رضي الله عنها – قالت: قلت يا رسول الله: أرأيت إن علمت أي ليلة ليلة القدر ما أقول فيها؟ قال: قولي اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

আয়েশা রা. নবী কারিম সা. কে জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যদি বুঝতে পারি কোন রাত লাইলাতুল কদর, তাহলে কি দু’আ করবো? রাসুলুল্লাহ সা. বললেন, বলবে-

“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল্ আফওয়া ফা’ফু আন্নী”। (আহমদ,৬/১৮২)

অর্থ, হে আল্লাহ! তুমি পরম ক্ষমাশীল। ক্ষমা করা তুমি পছন্দ কর, তাই আমাকে ক্ষমা কর”।

এছাড়াও এ রাতে পছন্দ মত দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর যাবতীয় সকল দু’আ করতে পারেন। সে গুলো হতে পারে কুরআন বা হাদিসে প্রমাণিত সহিহ আরবী ভাষায়, অথবা নিজ ভাষায় মনের মাধুরি মিশিয়ে পরম আবেগে যে কোন কল্যাণের দু’আ।

এ ক্ষেত্রে ইবাদতকারী একটি সুন্দর সহীহ দু’আ সংকলিত দুআর বইয়ের সাহায্য নিতে পারে। সালাফে সালেহীনদের অনেকে এই রাতে অন্যান্য ইবাদতের চেয়ে দু’আ করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

কারণ, এতে বান্দার মুক্ষাপেক্ষীতা, প্রয়োজনীয়তা ও বিনম্রতা খুব করে ফুটে ওঠে, যা আল্লাহ পছন্দ নিজেই করেন।