চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

আনোয়ারা

মির্জাখীল দরবার শরীফের সাহেবে সাজ্জাদা ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান (ক.) সাহেব আগামীকাল আনোয়ারায় আসছেন

মোজাম্মেল হক আনোয়ারা ঃ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মোহাম্মদ আরেফুল হাই (কঃ) এর সাহেবে নেমত হজরত শাহ জাহাঁগীর ইমামুল আরেফীন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান (ক.) সাহেব আগামীকাল শুক্রবার আনোয়ারা তশরীফ নিয়ে আসছেন।

উল্লেখ্য যে, দু’শ বছরের অধিককাল ধরে সারা দুনিয়ায় হাজার হাজার খানকাহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোরান -সুন্নাহর প্রকৃত অনুসরণে জ্ঞান শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে তাসাউফের পথে ইসলামের নির্যাস ও হেদায়তের বাণী লক্ষ-কোটি মানবের অন্তরে পৌঁছানোর সাধনায় সিলসিলায়ে আলীয়া জাহাঁগীরিয়ার পীর-মুর্শিদগণ সদা-সর্বদা নিয়োজিত রয়েছেন।

সিলসিলাহ ই আলীয়াহ জাহাঁগীরিয়া এর জন্মস্থান, পবিত্র আস্তানা এবং প্রধান মারকয হলো মির্জাখীল দরবার শরীফ, যেথায় জন্ম, বেড়ে উঠা এবং আরামগাহ জাহাঁগীরিয়ার সিলসিলার মহান মহাত্মাগণ হলেন, হজরত শাহ জাহাঁগীর শেখুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মোখলেসুর রহমান (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর ফখরুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর শমসুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ মকছুছুর রহমান (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আরেফুল হাই (ক.) ও সাজ্জাদানশীন, হজরত শাহ জাহাঁগীর ইমামুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান (ক.)।

জানা গেছে, জুমার নামাজের পর মির্জাখীল দরবার শরীফ থেকে রওয়ানা হয়ে আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ’র হজরত লতিফ শাহের রহঃ (খলিফা সাহেব) দরগাহস্থ দায়রা ঘরে অবস্থান করবেন। সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরীর বাড়িতে তরিকতের কর্মসূচি সম্পন্ন করে তৈলারদ্বীপ দায়রা ঘরে রাত্রি যাপন করবেন। শনিবার সকালে বরুমচড়া ফুলগাজী চৌধুরী বাড়ী ও মহুরী বাড়ীতে তরিকতের কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করবেন।
এর আগে তিনি গত ২৩ নভেম্বর চন্দনাইশের কাঞ্চননগরস্থ দায়রা ঘরে তশরীফ নিয়ে গেলে তরিকতের ভক্ত-অনুরক্তের ঢল নামে।

দরবারের অনুসারীরা জানান, মির্জাখীল দরবার শরীফের পীর-মুর্শিদগণ ধর্মীয় খেদমতের সাথেসাথে জনকল্যাণকর ও সমাজ সংস্কারমূলক কর্মকান্ডে নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছেন নিরবে, নিবৃতে। যা কেবলমাত্র সেই জানতো যার কল্যাণ সাধিত হয়েছে। প্রচার বিমূখকতার সেই রীতিতেই অদ্যাবধি মির্জাখীল দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন- হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আরেফুল হাই (ক.), এর পবিত্র অস্তিত্বের উপস্থিতিতে উনারই জানশীন ও সাহেবে সাজ্জাদাহ হজরত শাহ জাহাঁগীর ইমামুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান (ক.) এর জাহাঁগীরিয়া সিলসিলার মুরিদগণের প্রতি মায়া-মমতা ভালবাসা ভরা দয়া-দানে, খেদমতে নিজেকে উজাড় করে শরীয়তের অনুসরণ, তরিকতের প্রসার, হাকিকতের শিক্ষা এবং মারেফতের গূঢ় রহস্যর রসাস্বাদনে নিবেদিত রয়েছেন আর তদারকি করছেন গায়েবী জগতের সবচেয়ে পছন্দনীয় এই সিলসিলার তথা স্কুল অব স্পিরিট্যুয়ালিজম’র।

 

তাঁর আনোয়ারা সফরকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দ-উদ্দীপনা। ইতিমধ্যে তৈলারদ্বীপ ও বরুমচড়ায় নির্মিত হয়েছে স্বাগত তোরণ।

দরবারের অনুসারী ও বরুমচড়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আবু জাফর চৌধুরী মিজান বলেন, দরবারের সাহেবে সাজ্জাদাহ এর আগমনে আমরা গর্বিত।

একই দরবারের অনুসারী ও আনোয়ারা
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, বড় মৌলানা সাহেবের আগমনকে ঘিরে দুই ইউনিয়নে খুশীর বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এলাকা সেজেছে নতুন সাজে। চারদিকে ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধের সুবাতাস বয়ে যাচ্ছে।

আনোয়ারায় শাহ্ সুফী ছৈয়দ আছহাব উদ্দিন (রহ.) বার্ষিকী অনুষ্ঠিত

আনোয়ারা প্রতিনিধি

 

আনোয়ারায় হযরত চারপীর আউলিয়া (রহ.) সিনিয়র মাদ্রাসার ওরশ ও মাহফিল পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে দক্ষিণ বন্দর হযরত মৌ. শাহ্ সুফী ছৈয়দ আছহাব উদ্দিন (রহ.) ১২০ তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত শনিবার রাতে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

চারপীর আউলিয়া (রহ.) সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক ও মাহফিল পরিচালনা কমিটির সম্মন্বয়ক খাদেম মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সহকারি শিক্ষক মোহাম্মদ শাহেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুতুব শরীফ দরবারের যুগ্ম পরিচালক ও আশেকানে গাউছে মোখ্তার যুব কমিটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শাহাজাদা শাহ্ আবদুল করিম আল কুতুবী আল আজমী, প্রধান ওয়ায়েজ ছিকন খলিফা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মৌ. হাফেজ আহমদ আলকাদেরী, বিশেষ ওয়ায়েজ বোয়ালখালী খিতাপচর আজিজিয়া মাবুদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক মৌ. মুহাম্মদ গোলম হোসেন, বড়উঠান গাউছিয়া হাশেমীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মৌ. ইলিয়াছ আজম নুরী, বিশেষ অতিথিদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উত্তর বন্দর গাউছিয়া হাশেমীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মৌ. মনির আহমদ আনোয়ারী, আশেকানে গাউছে মোখ্তার যুব কমিটি বাংলাদেশ আনোয়ারা উপজেলার সভাপতি ও শাহ্ মোহছেন আউলিয়া তৈয়্যবিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রধান অধ্যক্ষ কাজী মৌ. জাকের হোসাইন আনছারী, আশেকানে গাউছে মোখ্তার যুব কমিটি বাংলাদেশ বৈরাগ ইউনিয়নের সভাপতি মৌ. ইদ্রিছ আলকাদেরী, চারপীর আউলিয়া (রহ.) সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক মৌ. মোবারক হোসেন, ধর্মীয় শিক্ষক মৌ. ছাবের আহমদ, দক্ষিণ বন্দর আজিজিয়া তৈয়্যবিয়া কামালিয়া হেফজখানার প্রতিষ্ঠাতা মৌ. কামাল উদ্দিন আলকাদেরী প্রমূখ।

চট্টগ্রাম-১৩ : শক্ত অবস্থানে আ.লীগ, কেন্দ্রের অপেক্ষায় বিএনপি

সিটিজি বাংলাঃ

ছবিতে বাম দিক থেকে প্রথম সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, ২য় সরওয়ার জামাল নিজাম, ৩য় বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খাঁন, ৪র্থ মোস্তিাফিজুর রহমান।

চট্টগ্রাম-১৩ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৯০তম আসন। সীমানা আনোয়ারা-কর্ণফুলী দুটি উপজেলায় এক আসন। মোট ভোটার রয়েছে ৩ লক্ষ ৯ হাজার ৩৯৯ জন। আসনটি’র আনোয়ারা উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন এবং কর্ণফুলী উপজেলায় রয়েছে ৫টি ইউনিয়ন।

এর মধ্যে কর্ণফুলীতে ১ লাখ ১০ হাজার ৭৫৭ জন ও আনোয়ারায় ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪২ ভোটার। কর্ণফুলী উপজেলায় ভোটকেন্দ্র ৩৯ টি আর ভোটকক্ষ ২৫৫টি। এছাড়াও আনোয়ারায় ভোটকেন্দ্র ৬৭টি আর ভোটকক্ষ বেড়ে ৪০১টি।

সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীগণ মতবিনিময় সভা এবং দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আসনটিতে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র প্রার্থীর মধ্যে। আসনটিতে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি এবং কে পাচ্ছেন ধানের শীঁষ এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকা সরগরম হয়ে উঠছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ:
বর্তমান ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের দুই উপজেলার সক্রিয় নেতারা রয়েছেন। অপরদিকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওয়াশিকা আয়েশা খাঁন এমপি। তবে দুজনেই প্রয়াত পিতার উত্তরসূরী, পরিচিতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে জনসর্মথনে এগিয়ে রয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
বিএনপি যদি ২০০১ সালের মতো হারানো দুর্গ ফিরে পেতে চায় তাহলে এ আসনে যোগ্য প্রার্থী দিতে হবে। কারণ আ.লীগের সম্ভাব্য জাবেদ একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। তার সঙ্গে দুর্বল প্রার্থী দিয়ে ভোটযুদ্ধ জমে উঠবে না। পাশাপাশি দলের মনোনয়ন পেতে লবিং করছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে।

আনোয়ারা-কর্ণফুলী সংসদীয় আসনের বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম ও বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সহ অনেকে। দ্বি-ধারায় বিভক্ত আনোয়ারা-কর্ণফুলী বিএনপিতে চলছে হিসাব নিকাশ। বিগত কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দূরে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে সরওয়ার জামাল নিজামের বিরুদ্ধে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় নেতাদের কোন খবর রাখেনি বলেও অভিযোগ দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের।

কারা নির্যাতিত নেতা দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলী আব্বাস তৃণমূলে অনেকদিন কাজ করে গেছেন অতীতে। দলের দুঃসময়েও পাশে ছিলেন। জেল হতে বের হয়ে নেতাকর্মীদের প্রায় খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

অপরদিকে নতুন মুখ হিসেবে আনোয়ারা-কর্ণফুলী বিএনপির সাথে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অনুসারিরা রাজনীতির মাঠে একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এ অংশকে সাথে নিয়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নেতা ব্যবসায়ি মোস্তাফিজুর রহমান।

এ লক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি ও দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের একতাবদ্ধ করতে চেষ্টা করছেন তিনি। নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও দলীয় কর্মকা-ে। বিএনপির একটি অংশ তাকে সমর্থন দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি একটি নিবাচনমুখী দল। আগামী নির্বাচনে বিএনপি দলের ত্যাগী ও তরুণদের মনোনয়ন দিবেন। তাই আশা করি, আমি মনোনয়ন পাবো এবং বিএনপির হারানো আসন পুনরুদ্ধার করে ম্যাডামকে পুনরায় উপহার দিতে পারবো। ’

জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে কর্ণফুলী উপজেলার বিএনপির এক সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে এ আসনের জন্য একজন তরুণ নেতার প্রয়োজন। এতে মোস্তাফিজের বিকল্প চোখে পড়ে না। কেনোনা দলের কঠিন সময়ে তিনি প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি অবদান রেখে চলছেন।’

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সরওয়ার জামাল নিজাম পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পেতে ঢাকায় জোর লবিং করছেন। অন্যদিকে কবীর চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে মনোনয়ন পেতে ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানও থেমে নেই। তা ছাড়া, তৃণমুলের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা পরিবর্তন চায় চট্টগ্রাম ১৩ আসনে। কেনোনা র্দীঘ ১০ বছরে মাঠে নেই সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম। মাঠে লক্ষ্যনীয় ছিলো চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও আনোয়ারার মোস্তাফিজ রহমান এর সঙ্গে।

যদিও এই আসনে বিএনপি থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। নেতা-কর্মীদের বড় অংশ গত কয়েক বছরের মামলা, হামলায় কোণঠাসা। এলাকা ছাড়া অনেকেই। এখন পর্যন্ত বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের কারও মাঠে তৎপরতা নেই। দুই উপজেলায় বিএনপির বড় নেতা হলেন সাবেক সংসদ সরোওয়ার জামাল নিজাম ও দক্ষিণ জেলার সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক আলহাজ্ব আলী আব্বাস। বিএনপি নেতা এম মঈন উদ্দিন বলেন, স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এ আসনে নতুন কাউকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। মামলা-হামলায় কাবু বিএনপি-জামায়াতের কর্মকা- অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। তবে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নীরবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে স্থানীয় কয়েকজন নেতা বলেছেন, গত ওয়ান-ইলেভেনের অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে তরুণদের প্রাধান্য দেয়া হতে পারে। দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করায় অনেকেই মনোনয়ন তালিকা থেকে ছিটকে পড়তে পারেন।

তরুণ নেতাদের মধ্যে মনোনয়ন তালিকায় এগিয়ে আছেন সরকার বিরোধী আন্দোলনের দুঃসময়ে দলের দায়িত্ব পালন করা ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান। আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে এলাকায় তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘জাতীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি কিছু বলতে পারব না।’

জাতীয় পার্টি: ২০১৪ সালেও এ আসনে জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন । তবে সুবিধা করতে পারেনি। এবারো এ আসনে আলোচনায় আছেন বহিস্কৃত চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ সভাপতি তপন চক্রবর্তী। এছাড়াও আনোয়ারা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুর রব চৌধুরী টিপুর নাম ও শোনা যায়।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট: বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিনের নেতৃত্বে আনোয়ারা-কর্ণফুলী দুই উপজেলায় নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশ করতে দেখা যায়। এ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী এম এ মতিন। অনেকটা তৎপর আসন ভাগিয়ে নিতে জোট হতে।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ: ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে বেশ সক্রিয় রয়েছেন । এ আসন থেকে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রিজভী মনোনয়ন চাইতে পারেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিগত নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী আসনটিতে সরওয়ার জামাল নিজাম ১৯৯৬ সালে প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতাউর রহমান খান কায়সারকে হারান। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রায় ৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকেও। তবে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তাঁকে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হারিয়ে জয়ী হন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।

১৯৭৩ সালে ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ ইদ্রিছ বিকম। ১৯৭৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। ১৯৮৬ সালে ৭ মে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।

১৯৮৮ সালের ৩রা মার্চ চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে সাংসদ হন জাসদ প্রার্থী মোখতার আহমেদ। ১৯৯১ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম। ১২ জুন সপ্তম সংসদ ও ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হন বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম।

পরবর্তী ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সর্বশেষ সংসদ নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে তাঁর মৃত্যুতে ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি উপ নির্বাচনে মনোনয়ন পান তারই জ্যেষ্ঠ পুত্র ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

নির্বাচনে জাবেদ বিজয়ী হওয়ার পর উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন নতুন প্রজন্মের এই নেতা। এরপর ৫ জানুয়ারির বিএনপি বিহীন নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাবেদ। পরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে আনোয়ারা-কর্ণফুলীবাসী প্রথমবারের মতো মন্ত্রীর স্বাদ পায়।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে এবং বিএনপি’র বিভক্ত নেতারা এখনো কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে রয়েছে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন সে দৃষ্টিতে।

আমনে বাম্পার ফলন’ কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক” আনোয়ারা

 

হেমন্তের আগমনে ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব চলছে। চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা দিয়েছে। আমন ধানে ধানে ভরে গেছে মাঠ। যতদূর চোখ যায় মাঠে সোনালি ধানের শীষ। চারদিকে মৌ মৌ গন্ধ। এখন কৃষাণ-কৃষাণিরা গোলা, খলা, আঙ্গিনা পরিষ্কার করার কাজে ব্যস্ত।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নেআমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আগাম জাতের কিছু কিছু ধান পাকলেও ২০/২৫ দিনের মধ্যে আমন ধান পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু হবে। বন্যার কারণে কৃষকের ফসলের ক্ষতি হলেও আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা।বর্তমানে ধানের দামও ভালো। তা ছাড়া আগাম ধান কাটার পর আবার একই জমিতে মরিচ. আলু. টমেটো সহ সবজী জাতীয় ফসল চাষ করতে পারবেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক পরিমাণ জমিতে আমন ফসল অর্জিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বন্যার কারণে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আমনের চারা নষ্ট হয়ে যায়। আমনের চারা নষ্ট হওয়া জমিগুলো আমাদের পরামর্শে কৃষকরা আবার নতুন করে আমন ধানের চারা লাগায়। আমনের চারা নষ্ট হওয়া জমিগুলোসহ আবহাওয়া অনুকুল পরিবেশে ভালো থাকায় এবার আমন ধানে বিভিন্ন রকমের রোগবালাই কম হওয়ায় কৃষকরা স্বপ্রণোদিত হয়ে বাড়তি জমিতে আমন ধানের চাষ করেছে, বিধায় উপজেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

মেরিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের পূণনর্মিলনীর প্রস্তুতি সভা

আনোয়ারা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ মেরিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির উদ্যোগের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গত সোমবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের কক্ষে মেরিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম খানের সভাপতিত্বে পূনর্মিলনী প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, পূনর্মিলনীর প্রধান সমন্বয়ক ক্যাপ্টেন খোরশেদুল আলম, মিজানুর রহমান, মোবারক মিয়া, এমদাদ হোসেন, প্রকৌশলী রামচন্দ্র দাশ, বোরহান উল্লাহ, মামুন মিয়াজী, হামিদুল হক, মো. সেজান মাহিন, অপি, মুজিবুর রহমান প্রমূখ। সভায় আগামী ২৩ নভেম্বর বিদ্যালয়ের প্রথম পূনর্মিলনী অনুষ্ঠান সফল করার আহবান জানান।

বন্ধু মহলের উদ্যোগে পিইসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

আনোয়ারা প্রতিনিধি

কর্ণফুলী বড়উঠান এইচ. এ খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিইসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন স্থানীয় বন্ধু মহল নামে একটি সংগঠন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে বড়উঠান এইচ. এ খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংগঠনের উপদেষ্টা জাহেদুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বড়উঠান ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজ্জাদ খান সুমন, বিশেষ অতিথিদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কান্ত দে, সহকারি শিক্ষক মিলি দে, ঝনা দে, অভিভাবক সদস্য জসিম উদ্দিন প্রমূখ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আনোয়ারায় শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক

 

 

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক


আনোয়ারা উপজেলার প্রতিটি এলাকায় অধিক লাভের আশায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় উঁচু জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন জাতের সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যায় কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে জমিতে হাল চাষ, চারা রোপণ, ক্ষেতে পানি ও ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করাসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

শুধু নিজেদের চাহিদাই নয়, বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এসব সবজি। শীতের শুরুতে চট্টগ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে বিভিন্ন জাতের সবজি পাঠায় আনোয়ারার কৃষকরা।

মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি আলু, সিম,ফুলকপি, বাঁধাকপি,টমেটো, লাউ, বেগুন, মুলা, করলা, পটল, পালং ও লাল শাক মরিচ সহ রকমারি শীতকালীন সবজির চারা।

কেউ দাঁড়িয়ে কোঁদাল চালাচ্ছেন, কেউ গাছের গোঁড়ালির পাশ দিয়ে ঘোরাচ্ছেন নিড়ানি, কেউবা খালি হাতেই গাছগুলো ঠিক করছেন। কেউ বা নেতিয়ে পড়া চারার স্থলে সতেজ চারা প্রতিস্থাপন করছেন, আবার কেউ সার দিচ্ছেন কেইবা পানি দিচ্ছেন । এভাবেই শীতকালীন সবজি নিয়ে কাটছে এখানকার কৃষকের দিন।

বরুমচড়া গ্রামের কৃষক নরুল ইসলাম বলেন, ধান চাষে তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না তারা। কোনোভাবেই লোকসান ঠেকাতে পারছেন না, তাই রকমারি সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন উপজেলার অনেক কৃষক।

উপজেলার আইর মঙ্গল গ্রামের কৃষক আব্দুর কারিম বলেন, সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলক ভাবে মূলধনও কম লাগে। পরিশ্রমও তুলনামূলক কম। তবে সেবায় ক্রটি করা যাবে না। কিন্তু রোগবালাই দমনে সবজি ক্ষেতে সবসময় তদারকি করতে হয়। স্বল্প সময়েই সবজি বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠে।

উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শাক-সবজি চাষ-আবাদ চলছে। সবজির কদর সারাদেশেই রয়েছে। তবে তা আগাম চাষ করতে পারলে আরও বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষ করা সম্ভব। সবজি ক্ষেতে পোকামাকড় আক্রমণ করবেই। সেজন্য কীটনাশক ব্যবহার না করে আধুনিক বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকামাকড় দমন করা সম্ভব।

এ কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, কৃষকদের সবজি চাষে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে । সবজি চাষে যুক্ত উপজেলার কৃষকরা এবার বেশ উৎফুল্ল। কারণ তারা প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূল থাকায় এবার উৎপাদিত ফসলের ফলন ও দাম বেশ ভালো পাবেন বলে তিনি মনে করছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রাতদিন নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কৃষকদের সেক্সফোরেমন পদ্ধতির ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে সবজি ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার অনেকটাই কম থাকায় সবজি গুণগত মানে সেরা হওয়ায় চাহিদাও অনেক বেশি ।

যুবককে অপহরণের চেষ্টা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

মোজাম্মেল হক আনোয়ারা.

আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতের দক্ষিণে উত্তর পরুয়াপাড়া বেঁড়িবাধ এলাকায় রোববার সন্ধ্যায় এক যুবককে অপহরণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। পাঁচজনের একটি দল মাদক সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে চালায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সময় স্থানীয় জনতা এগিয়ে এসে দুইজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে চট্টগ্রাম শহর থেকে সিএনজি টেক্সি নিয়ে রাউজানের উরকিরচরের মৃত আনোয়ার চৌধুরীর পুত্র তাসিফ আনোয়ার (২৮) সহ ৫ জন পারকি সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসে। এদের সাথে আনোয়ারায় গুন্ধীপের সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবকও ছিল। সারাদিন ঘুরাঘুরির পর সন্ধ্যায় উত্তর পরুয়াপাড়া গ্রামের বাবু (২৮) নামে এক যুবককে সাথে নিয়ে তারা পরুয়াপাড়া বেঁড়িবাধ এলাকায় মাদক সেবন করতে যায়। সেখানে বাবুর সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে বাবুকে জোর করে সিএনজিতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ধাওয়া করলে সিএনজিটি পারকি এলাকায় উল্টে যায়।

এ সময় আনোয়ারায় গুন্ধীপের সাইফুলসহ তিন যুবক পালিয়ে গেলেও রাউজানের তাসিফ আনোয়ার ও অজ্ঞাত চালক জনতার গণপিটুনির শিকার হয়। খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। স্থানীয় অন্য একটি সূত্র জানায়, বাবু এলাকায় মাদক বিক্রির সাথে জড়িত। আরেক পক্ষ বলছে, বাবু স্থানীয় সিএনজি চালক। তাকে অজ্ঞাত যুবকেরা ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার এসআই একরাম উজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে স্থানীয় সিএনজি চালক বাবুর সাথে শহর থেকে বেড়াতে আসা যুবকদের মাদকের ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে বাবুকে তুলে নেয়ার সময় জনতা তাদের পিটুনি দেয়।

আনোয়ারায় ইসলামী ফ্রন্টের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

আনোয়ারা প্রতিনিধি:

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আনোয়ারায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করে আনোয়ারা উপজেলা ইসলামী ফ্রন্ট,যুবসেনা ও ছাত্রসেনা। উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মাওলানা কাজী বদরুজ্জামান নঈমীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের উপদেষ্টা মাস্টার এয়াকুব আলী। উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সহ সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদ আলম মুন্সীর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি মাওলানা মনির আহমদ আনোয়ারী,হাফেজ আবদুর রহিম,সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মিয়া,অর্থ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন, মাওলানা নাজিম উদ্দিন,শায়ের এনামুল হক,শামসুল হুদা মুনির,যুবনেতা আবু তাহের,ছাত্রনেতা আরমান হোসেন প্রমুখ। বক্তারা সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আনোয়ারায় জাগো বৈরাগ ফাউন্ডেশনেরর উদ্যোগে পিএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরন

 

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঃ আনোয়ারা :


আনোয়ারায় সামাজিক সংগঠন জাগো বৈরাগ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল শনিবার সকালে পূর্ব বৈরাগ রহমানিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার পিএসসি সমাপনী পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরনী অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে।

রহমানিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা সুপার মৌলানা লোকমান হাকিম হেলালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাগো বৈরাগ ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক এম. কামাল উদ্দিন, বিশেষ অতিথিদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা ওমর ফারুক, মফিজুর রহমান, নুরুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন, সদস্য সালাউদ্দিন সাব্বির, সাজ্জাদ হোসেন, মাহিন প্রমূখ। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।