চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

রাউজান

চট্টগ্রামে উত্তর জেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন

সিটিজি বাংলা, রাজনৈতিক ডেস্ক:

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির অনশন কর্মসূচি

কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তি এবং কারাগারে আদালত স্থাপনের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

 

১২ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে উত্তর জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এর সভাপতিত্বে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়া। বিএনপি নেতা ফিরোজ আহমেদ এর পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর, মাঈন উদ্দিন মাহমুদ, আজমত আলী বাহাদুর, নিজামুল হক চৌধুরী তপন, শফিউল জামান, আবু জাফর চৌধুরী,ইলিয়াছ চৌধুরী, আলহাজ্ব মো: রফিক, এম এ হালিম, আবু বকর ছিদ্দিকী সোহেল, মহিউদ্দিন মাসুদ, মো: আবছার উদ্দিন, মো: এহসান।

 

অনশন চলাকালে নেতারা বলেন-আওয়ামী লীগ একদিকে নির্বাচনের কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রধান নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে বন্ধী রেখে তড়িগড়ি করে একটি রায় দিয়ে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করতে চায় এবং প্রত্যেকদিন থানায় থানায় গায়েবী মামলা দায়ের করে নির্যাতনের ষ্টীম রুলার চালিয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার আরেকটি ৫ জানুয়ারির মত নির্বাচন করে ক্ষমতায় আকড়ে থাকতে চাই। আওয়ামী লীগের এই স্বপ্নকে বাংলাদেশে জনগণ কোনদিন বাস্তবায়ন হতে দেবে না।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন যুবদল সহ সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, সাবের সুলতান কাজল, ইকবাল চৌধুরী, হাজী সাদেক, এম শাহজাহন সাহিল, জানে আলম, কামরুল ইসলাম, সাহাব উদ্দিন, শামীম, সালাউদ্দিন, আনিসুজ্জামান সোহেল, মো: মুছা, মো: ইউনুস, মো: আলমগীর, আইয়ুব মেম্বার, মো: আলাউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল নুরুল ইসলাম বাবুল মো: ইউছুপ তালুকদার, মো: একরাম মিয়া, মো: রহিম উদ্দিন রাজু, মো: আবুল কাশেম মুন্না, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মুছা মেম্বার, বেলাল হাসান, নূর মোহাম্মদ, কুতুব উদ্দিন, আবদুল সালাম, মো: ইব্রাহিম, নাছির উদ্দিন, মো: এয়ার খান, মো: জাসু, মো: সাহাব উদ্দিন, ছাত্রদল নেতা মিয়ান রায়হানুল রাহী, একরামুল আজিম, শাহাদাত মির্জা, শফিউল আজম, শওকত, রায়হান, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, এম জি কিবরীয়া, জিয়াউদ্দিন, বিপুল খান, মো: একরাম, আজগর, ফরিদ উদ্দিন, রবিন, লিমন চৌধুরী বাপ্পা, তৌহিদ, রহিম, সাজ্জাদ, আরিফ, সাজ্জাদ, গাজী রাসেল, কাজী পিয়াল, রোকন, সিরাজুল ইসলাম, জাহেদুল আলম, জাহেদুল ইসলাম, মো: বেলায়েত, সাইমন প্রমুখ।

ফজলুল কবির চৌধুরীর ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সিটিজি বাংলা, ডেস্ক রিপোর্ট:


মরহুম ফজলুল কবির চৌধুরী

 

রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি.এম. ফজলে করিম চৌধুরী এমপির পিতা সাবেক পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা (Leader Of The Opposition, Provincial Assembly), পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা মরহুম আলহাজ্ব এ.কে.এম. ফজলুল কবির চৌধুরীর ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

 

৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় এ উপলক্ষে রাউজান উপজেলাধীন গহিরা গ্রামে মরহুমের নিজ কবরস্থান সংলগ্ন মসজিদে পবিত্র খতমে কুরআন, ১০ টায় মিলাদ মাহফিল, ১১টায় মোনাজাত ও কবরে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়েছে।

এমপির একান্ত সচিব ও উরকিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেল জানান, মরহুমের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্গীরা উপস্থিত থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

তিনি আরো জানান, ডাবুয়া হিংগলা এ কে এম ফজলুল কবির চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কদলপুর ইসলামিয়া নতুন পাড়া এ কে এম ফজলুল কবির চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলদিয়া সাজেদা কবির চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব গুজরা সাতবাড়িয়া এ কে এম ফজলুল কবির চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গহিরা সাজেদা কবির চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াজিষপুর সাজেদা কবির চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলদিয়া ইয়াছিন শাহ্ কলেজ এ কে এম ফজলুল কবির চৌধুরী হল, মরহুম এ কে এম ফজলুল কবির চৌধুরী অডিটোরিয়াম হল, মাধ্যম ফতেহ নগর সাজেদা কবির চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাউজান, রাউজানের হলদিয়া আমির হাটে সাজেদা কবির চৌধুরী পাঠাগার, মরহুম এ কে এম ফজলুল কবির চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত রাউজান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, রাউজান উপজেলা গহিরা শান্তির দ্বীপ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি, গহিরা সাজেদা কবির চৌধুরী ফোরকানিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পৃথক পৃথক ভাবে দিনটি উদযাপনের কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, রাজনীতিবিদ এ কে এম ফজলুল কবির চৌধুরী ১৯১৭ সালের ১ নভেম্বর রাউজানের গহিরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি আলহাজ্ব খান বাহাদুর আবদুল জব্বার চৌধুরীর ও মাতৃকুল মধ্যযুগীয় মুসলিম মহিলা কবি রহিমুন্নেসার পৌত্রী বেগম ফাতেমা খাতুন চৌধুরানীর ঔরশে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে আইন শাস্ত্রে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। মরহুম এ.কে.এম. ফজলুল কবির চৌধুরী সাবেক পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা (Leader Of The Opposition, Provincial Assembly), পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।

তিনি চট্টগ্রাম পোর্ট- ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, মেরিন এন্ড মার্কেন্টাইল একাডেমীর গভর্ণর ও চট্টগ্রাম ডিস্ট্রিক কাউন্সিলের কাউন্সিলর ছিলেন। জনাব চৌধুরী একক প্রচেষ্টায় ১৯৬৩ সালে রাউজান কলেজ এবং ১৯৬২ সালে রাউজানের গহিরায় শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনকারী বেলজিয়ামের ফাদার পীয়ের অনুদানে প্রতিষ্ঠা করেন শান্তিরদ্বীপ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম নাইট কলেজ, চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ এবং চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। আলহাজ্ব এ.কে.এম. ফজলুল কবির চৌধুরী ১৯৭২ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৫৬ বছর বয়সে ঢাকাস্থ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন।

রাউজানের ঊনসত্তর পাড়ায় গণপিটুনিতে দুই চোর নিহত

সিটিজি বাংলা, রাউজান প্রতিনিধি:

ঊনসত্তর পাড়ায় নিহত দুই চোরের লাশ

চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনীর শিকার হয়ে নিহত হয়েছে দুইজন যুবক এমনটি জানিয়েছেন রাউজানের সংবাদদাতা।

৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভোরে উপজেলার ঊনসত্তর পাড়া এলাকার গৌরীশংকর হাট এলাকার সিরাজ কলোনিতে এ ঘটনাটি ঘটে।

 

গণপিটুনি নিহতরা হলো- মো. মোক্তার হোসেন (২৬) ও সাইফুল ইসলাম (২২)। নিহত দুজন রাউজান পাহাড়তলি ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকার ইউসুফ মেম্বার বাড়ির বাসিন্দা বলে জানাগেছে।

 

এ বিষয়ে রাউজান পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রোকন উদ্দিন জানান, শুক্রবার ভোরে ঊনসত্তর পাড়ার সিরাজ কলোনির এক বাড়িতে তারা হানা দেয় চুরির উদ্দেশ্যে। বাড়ির দরজা ভাঙার সময় মালিক বিষয়টি টের পেলে ঘরের সকল সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে ওই দুইজন। তখন স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাদের ঘীরে ফেলে।

এলাকাবাসী ঘিরে ফেলার পর তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পাশ্ববর্তী এক পুকুরে গিয়ে তারা ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা সেখান থেকে তাদের তুলে গণপিটুনি দিলে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে দুজনের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

 

এদিকে রাউজান থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কেফায়েত উল্লাহ জানান, ভোরের দিকে উপজেলার গৌরীশংকর হাট এলাকার সিরাজ কলোনিতে একটি ঘরে চুরি করতে ঢোকে ওই দুইজন চোর। এসময় ঘরের গৃহকর্তা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধরার চেষ্টা করলে এরা দুজনই অস্ত্রের মুখে ঘরের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। পরে কৌশলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের আটক করে গণপিটুনি দিলে তারা যারা যায়।

রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায় অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

সিটিজি বাংলা, রাউজান প্রতিনিধি:

অজ্ঞাত যুবকের লাশের ছবি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

৩১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশ থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ দেখতে পেয়ে চুয়েট পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেয়া হয়। পরে নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শেখ জাবেদ মিয়া, চুয়েট পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহত ওই ব্যক্তির গায়ে হাফ হাতা লাল রংয়ের শার্ট পরোনে ছিল।

 

এ বিষয়ে নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শেখ জাবেদ মিয়া বলেন, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানা গেছে। যে স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে প্রতিদিন তাকে দেখা যেত বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছে। তবে শরীরের কোন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু।

অজ্ঞাত যুবকের লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর জন্য এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। যেহেতু লোকটি পাগল সেহেতু আত্মীয়-স্বজন নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ময়না তদন্ত করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন তাহলে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারদের সহযোগিতায় দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

রাউজানে চেকপোস্ট বসিয়ে ৬ হাজার জাল টাকাসহ গ্রেফতার ২

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

 

 

জাল টাকাসহ গ্রেফতারকৃতা

চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় ৬ হাজার টাকার জাল নোটসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে রাউজান থানা পুলিশ।

২০ আগস্ট সোমবার দুপুরে রাউজান পৌর সদরের শাহনগর সড়ক থেকে ওই জাল নোটসহ দুজনকে আটক করা হয়।

 

আটককৃতরা হলেন রাউজান পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের সাপলাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমরা মিয়ার পুত্র সোহেল (২৫) ও হলদিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের এয়াছিন্নগর গ্রামের আবু তালুকদার বাড়ীর মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে জয়নাল আবেদীন ( ২৬)। রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ জানান তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে।

 

রাউজান থানার সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক তরুন চাকমা জানান, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ১২ টার দিকে শাহনগর সড়কে অবস্থান নিলে আটককৃতরা মোটর সাইকেল যোগে আসার পথে তাদেরকে আটকানো হয়। এসময় তাদের চ্যালেঞ্জ করে তল্লাশি চালানো হলে প্রথমে মানিব্যাগে ১ টি একহাজার টাকার জালনোট, পরে তাদেরই সিকারোক্তিতে পাশেই থাকা ইউএননো নিজস্ব সি সি ক্যামরার সহযোগিতা নিলে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া সিগারেটের প্যাকেটের ভিতর থেকে আরো ৫ টি হাজারী জালনোট উদ্বার করা হয়।

আটককৃত দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

রাউজানের কুখ্যাত সন্ত্রাসী চট্টগ্রাম নগরীতে অস্ত্র সহ আটক

সিটিজি বাংলা, রাউজান প্রতিনিধি:

 

রাউজানের কুখ্যাত সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ আটক

চট্টগ্রামের রাউজানের হলদিয়ায় ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদক হাসান মুরাদ রাজুর উপর হামলাকারী দুই সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

১৭ আগষ্ট শুক্রবার মধ্যরাতে নগরীর বায়োজিদ থানার অক্সিজেন এলাকা থেকে রাউজান থানা পুলিশ তাদের অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নের এয়াছিন্নগর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার পুত্র মহিউদ্দিন (২৮) ও মৃত আব্দুছ ছালামের পুত্র মুহাম্মদ খিদার মিয়া (৩৫)।

 

রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে পুলিশ টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অস্ত্রের সন্ধ্যন জানায়। ওই রাতে তাদের নিয়ে নিজ গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। এতে মহিউদ্দিন স্বীকারোক্তিতে তার বসতঘরে ২টি দেশীয় তৈরী বন্দুক, খাটের নিছে থেকে একটি শর্টগান সদৃশ একনলা দেশীয় তৈরী বন্দুক উদ্ধার করে।

 

১৮ আগষ্ট শনিবার দুপুরে রাউজানের ওসি জানান, আটক হওয়া ২ জনই হলদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদক হাসান মুরাদ রাজু হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী। আটককৃত মহিউদ্দিনের পূর্বের একটি খুনের মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী বলে জানান তিনি।

 

রাউজান থানার এস আই সাইমুল বাদী হয়ে ২ জনের বিরুদ্বে অস্ত্র আইনে মামালা দায়ের করে আসামীদের আদালতে প্রেরন করেছেন বলে জানান ওসি।

ওসি আরও জানান, আসামীদের বিরুদ্বে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

চুয়েটের ১০৮ তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত

সিটিজি বাংলা, চুয়েট প্রতিনিধি:

 

 

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) -এর সিন্ডিকেট কমিটির ১০৮ তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

৮ আগস্ট বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে উক্ত সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিন্ডিকেটের চেয়ারম্যান ও চুয়েটের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম।

 

সভায় সিন্ডিকেট সদস্যগণের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রণজিৎ কুমার সূত্রধর, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন (পিএন্ডডি) দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি) এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) জনাব মোঃ মহিউদ্দীন খান, ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ আবদুস সবুর, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর যন্ত্রকৌশল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. দীপক কান্তি দাশ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুল আলম এবং সিন্ডিকেটের সচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনার শেষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

চুয়েট শাখার ছাত্রশিবিরের সভাপতি গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম উত্তর জামাত শিবিরের নিন্দা

সিটিজি বাংলা, চুয়েট প্রতিনিধিঃ

 

 

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শাখার শিবির সভাপতি জামিল আহম্মদকে পরীক্ষার হল থেকে আটকের পর বেধম মারধর করে হাতে অস্ত্র দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা।

 

২০ জুলাই শুক্রবার দুপুরের দিকে এ ঘটনায় জামিল আহম্মদকে একমাত্র আসামী করে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে চুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ বাকের।

 

ছাত্রলীগের দাবি এই ছুরিটি নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলো জামিল আহম্মদ। জামিল আহম্মদ ঠাকুরগাঁও জেলার পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে এবং চুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী।

 

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেফায়েত উল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের চুয়েট শাখার সভাপতি মোহাম্মদ বাকের ফোন করে জানায় চুয়েট শিবির সভাপতিকে আটক করা হয়েছে। পরে আমরা সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে আসি। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের পর বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী (উত্তর)।

ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী (উত্তর) সভাপতি আহমেদ সাদমান সালেহ ও সেক্রেটারী আ স ম রায়হান এক বিবৃতিতে বলেছেন, চুয়েট শাখা ছাত্রলীগ নামধারী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সৈয়দ ইমাম বাকের সহ কতিপয় সন্ত্রাসীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রশিবির সভাপতি জামিল আহম্মেদকে প্রকাশ্যে পরীক্ষার কক্ষ থেকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর জোর পূর্বক দেশীয় অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সারা দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় সরকার দলীয় সোনার ছেলেরা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে।

 

তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ইভটিজিং, ছাত্রী-শিক্ষক লাঞ্চনা, মাদকের ভয়াবহ আস্তানা তৈরি সহ নানা অপরাধ কর্ম করলেও সরকারের অভিযান কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সেদিকে কোন কর্ণপাত করছে না।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অস্ত্র নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তাদের দ্বারাই সম্ভব যারা নিয়মিত অস্ত্র উঁচিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানারূপ ভয়ভীতি দেখায়। কেননা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করে কলম, পেন্সিল সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সাথে নিয়ে।

সারা দেশ যেখানে সরকার দলীয় দুঃশাসনের কঠিন যাতাকলে নিপতিত এ অবস্থায় শিবির নেতার সাথে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো অন্ধকে হাতির অঙ্গ দর্শনের গল্প শেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

চমেক হাসপাতালের ২৮ জন চিকিৎসক বিভিন্ন উপজেলায় বদলি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

সিটিজি বাংলা,

 

 

চট্টগ্রাম নগরীর সরকারি মেডিকেল কলেজ (চমেক)ও হাসপাতালের ২৮ জন চিকিৎসককে বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালগুলোতে বদলির আদেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

১০ জুলাই মঙ্গলবার এ আদেশ আসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলেছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এএম মজিবুল হক।

 

ওই ২৮ জন চিকিৎসককে আগামী ১৫ জুলাই রোববারের মধ্যে আগের কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করে নতুন বদলির কর্মস্থলে যোগদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে জানান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এএম মজিবুল হক।

 

এ বিষয়ে তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এক আদেশে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দায়িত্বরত ২৮ চিকিৎসককে বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। তাদের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ছাড়পত্র নিতে হবে এবং নতুন কর্মস্থলে চলে যেতে হবে।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. কিশোয়ার নাসরিনকে বদলি করা হয়েছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে,

চমেক হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. অর্পনা দাশকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে,
চমেক হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রখি বণিককে সাতকানিয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে,
চট্টগ্রামের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. শরমিলা বড়ুয়াকে কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
ও সহকারী সার্জন ডা. মো. আনোয়ার হোসেনকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া চমেক হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার সাঈদকে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে,

চমেকের সহকারী সার্জন ডা. পলাশ নাগকে বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে,

চমেক হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. প্রসেনজিৎ ঘোষকে চন্দনাইশের বরকল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে,

সহকারী সার্জন ডা. মুমতাহিনা মাহমুদাকে পটিয়ার শিকলবাহা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রে,

মেডিকেল অফিসার ডা. মুহাম্মদ তাহেরুল ইসলামকে মিরসরাই কমর আলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে,

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা.শুভ দাশকে বাঁশখালীর সরল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে,

চমেক হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. লাইলী ইয়াসমীন আক্তারকে দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে,

ফৌজদারহাট আইএইচটির সহকারী সার্জন ডা. শামীমা আক্তারকে মিরসরাই সাহেরখারী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে,

চমেক হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবিরুল ইসলামকে বড়হাতিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে,

চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেল সহকারী সার্জন ডা. পলাশ কান্তি করকে লোহাগাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে,

রৌফবাদ আরবান ডিসপেন্সারির সহকারী সার্জন ডা. রিফাত বিরতে রেজায়ীকে, হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে,

চমেক হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. তাহিরা বেনজীরকে লোহাগাড়া চরম্বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

ও চমেকের মেডিকেল অফিসার শারাবানা তাহুরাকে ফেনীর শর্শদী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে হালদা নদী রক্ষা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে ১১ টি সুপারিশ পেশ

সিটিজি বাংলা,

 

 

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী রক্ষায় হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্লান্টসহ অক্সিজেন থেকে কুলগাঁও পর্যন্ত শিল্প-কারখানা এবং এশিয়ান পেপার মিলসহ অন্যান্য শিল্প কারখানায় ইটিপি স্থাপন ও ব্যবহার বাধ্য করাসহ ১১টি সুপারিশ করেছে হালদা নদী রক্ষা কমিটি।

 

২৯ জুন শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ উপস্থাপন করেন হালদা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনজুরুল কিবরীয়া।

 

সংবাদ সম্মেলনে হালদা রক্ষায় যে সব সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো হলো:

হাটহাজারীর নন্দীর হাটস্থ স্থানীয় মরা ছড়া খালের বর্জ্য ডাম্পিং স্থায়ীভাবে বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ,

বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে উঠা পোল্ট্রি ফার্মসমূহের দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ,

অনন্যা আবাসিক এলাকার ভরাট হয়ে যাওয়া বামনশাহী খাল পুনঃখনন করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা,

অনন্যার মাস্টার ড্রেনেজ সিস্টেমকে বামনশাহী খাল এবং কুয়াইশ খাল থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, অনন্যা আবাসিক এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসটিপি স্থাপন করা,

শিকারপুর ও মাদার্শা এলাকার ছোট খাল ও ছড়াসমূহ খনন করার মাধ্যমে পানির প্রবাহ বাধামুক্ত করা,

অবিলম্বে হালদা নদীকে পরিবেশগত বিপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা,

হালদা নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় সাধনের জন্য ‘হালদা নদী কমিশন’ গঠন করা

এবং হালদা নদীকে ‘জাতীয় নদী’ ঘোষণার মাধমে এই নদী রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

তাছাড়া হালদা নদীর পানি দূষণে প্রধান চারটি কারণও উল্লেখ করা হয়।

 

 

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, গত ১৯ জুন ২০১৮ রাত থেকে হালদা নদী ব্যাপক দুষণ আগ্রাসনের শিকার হয়। গত ২০-২১ জুন পর্যন্ত হালদা নদী এবং এর অববাহিকার বিলগুলোতে ব্যাপক হারে মাছ মরে ভেসে উঠে। হালদা নদী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সম্পৃক্ততা থাকা স্বত্ত্বেও এ ধরনের সমস্যা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। এমতাবস্থায় কয়েকটি সরকারি সংস্থা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি ও বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় আমরা হালদা নদী রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে গত ২১ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত হালদা নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে পানির নমুনা পরীক্ষা, মৃত মাছ সনাক্ত এবং নদী দূষণের উৎস সনাক্ত করার চেষ্টা করি।

 

তিনি আরও বলেন, প্রথম বারের মত হালদা নদীতে বিপর্যয়ের এমন অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে এবং এর প্রতিক্রিয়া হবে সুদূরপ্রসারী। এর কারণ উৎঘাটনে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে হালদার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। কারণ আপনারা জানেন কয়েক বছর ধরে হালদা দূষণের বিষয়ে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে আসছি। যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নিলে আজ হয়ত এই বিপর্যয় প্রতিহত করা সম্ভব হতো।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, নদী রক্ষায় বর্তমান সরকার বিগত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক। বালি মহাল বন্ধ, ড্রেজার নিষিদ্ধকরণসহ হালদা রক্ষায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তার প্রমাণ বহন করে। তাছাড়াও কিছু বেসরকারি সংস্থাও ইতোমধ্যে হালদার পরিবেশ ও মা মাছ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে যার প্রেক্ষিতে মা মাছ এবার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ডিম ছেড়েছে। গত ২১ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত হালদা নদী থেকে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি ওজনের মৃত মৃগেল ব্রড মাছ, ৫/৬ কেজি ওজনের আইড় এবং প্রায় ২ দশমিক ৫ কেজি ওজনের বামোস, চিড়িং, চেউয়া, কুচিয়া, বুরগুনি মাছসহ প্রায় মৃত ১৮ প্রজাতির মাছ ও ২ প্রজাতির চিংড়ি সনাক্ত করি। এখানে উল্লেখ্য, হালদা নদীতে মৃত ভেসে উঠা মাছগুলোর মধ্যে তলদেশীয় মাছের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।

 

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ্য করা হয়, কর্ণফুলীর মুখ, হাটহাজারী খন্দকিয়া খালের মুখ, কাটাখালী খালের মুখ, মাদারিখালের মুখ, রামদাশ হাট এলাকা, নাপিতের ঘোণা, আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোণা, সর্তারঘাট এলাকাসহ ১১টি পয়েন্টে পানির নমুনা পরীক্ষা করি। আমাদের পর্যবেক্ষণে ছায়ার চর থেকে রামদাস মুন্সির হাট পর্যন্ত এলাকায় পানির প্রচন্ড দুর্গন্ধযুক্ত ও কালো বর্ণের পানি পরিলক্ষিত হয়। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন খুব কম (০ দশমিক ২১ থেকে ১ দশমিক ০০ মিলি/লি) পাওয়া গেছে যা মাছের বসবাসের উপযোগী নয়। নমুনা পরীক্ষায় নদীর উজানের চেয়ে ভাটি এলাকায় দূষণের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাউজানের আজিমের ঘাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় দূষণের মাত্রা (গড় দ্রবীভূত অক্সিজেন ১.০১ মিলি/লি) তুলনামূলক বেশি ছিল। সাধারণত প্রতি লিটার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা থাকে ৫ মিলিগ্রাম। কিন্তু হালদার পানিতে গড়ে পাওয়া গেছে ২ মিলিগ্রামের চেয়েও কম। তাছাড়াও খন্দকিয়া খাল ও কাটা খালির মুখে দ্রবীভূত অ্যামোনিয়ার পরিমাণ ছিল খুব বেশি। যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০০ গুন বেশী। শাখা খালগুলোর মুখে এবং বিক্ষিপ্ত কিছু জায়গায় পানির উপরের স্তরে তেল ভাসতে দেখা যায়। সুতরাং কম পরিমাণ দ্রবীভূত অক্সিজেন এবং অতিরিক্ত মাত্রার অ্যামোনিয়ার বিষক্রিয়া হালদা নদীতে মাছের মৃত্যুর অন্যতম কারণ।’

 

হালদা নদী রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা শামসুল হক হায়দরীর সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি চৌধুরী ফরিদ।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন হালদা রক্ষা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেজা মুজাম্মেল, সদস্য আমিনুল ইসলাম মুন্না, হালদা নদীর ডিম সংগ্রহকারী কামাল উদ্দিন সওদাগর, আশু বড়ুয়া, শ্রীধাম জলদাস, দুলাল জলদাস, রোগাংগীর আলমসহ অনেকেই।