চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

সন্দ্বীপ

রুবেলের মুক্তির দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

সিটিজি বাংলাঃ

কৃতি ফুটবলার মো. রুবেলকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজলোর সন্তোষপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া সংগঠনও। ব্যানার, প্লেকার্ডে শিক্ষাথীরা রুবেলের মুক্তি দাবি করেন।

একই দাবিতে গত বুধবার সন্দ্বীপের আকবর হাট এলাকায় মানববন্ধন করে ২৪ টি সামাজিক সংগঠন।

প্রসঙ্গত, নামের একাংশের মিল থাকায় এক রুবেলের বদলে নিরাপরাধ আরেক রুবেলকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি ভালো ফুটবলও খেলতেন। শনিবার যে স্কুল কর্মসূচি পালন করেছে সেই স্কুল থেকেই ২০১১ সালে এসএসসি পাস করেন রুবেল।

গত মঙ্গলবার ‘নামই যখন কাল’ শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর রুবেলের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে সন্দ্বীপের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শনিবারের মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ইউনিটি ফ্রেন্ডস ক্লাবের উপদেষ্টা মহিউদ্দিন জাফর। বক্তব্য রাখেন সন্তোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম আক্তার, সহকারী প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল মাওলা, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য অহিদুল মাওলা মন্টু, সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার আলাউদ্দিন, সন্দ্বীপ উপজলো ছাত্রলীগের সাংগঠনকি সম্পাদক আতিকুর রহমান ফাহমি প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা  বলেন, ২০০৯ সালে সন্তোষপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন রুবেল। তিনি এলাকায় ভালো ছেলে হিসাবে পরিচিত। নিরাপরাধ এ ছেলেকে যারা হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রুবেলকে মুক্তি দিতে হবে।

সন্দ্বীপে অস্ত্র কারখানার সন্ধান, মালিকসহ গ্রেফতার ২

সিটিজি বাংলাঃ

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে উপকূলীয় উপজেলা সন্দ্বীপের একটি অস্ত্র কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। কারখানায় তৈরি কমপক্ষে ২০টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহ¯পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সন্দ্বীপের রহমতপুর ইউনিয়নের কালা মইন্যার বাড়িতে এই অভিযান চালিয়ে অস্ত্র কারখানার কারিগর ও মালিকের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) এইচ এম মশিউদ্দৌলা রেজা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন প্রিয়া বেগম (২২) ও সাইফুল ইসলাম (৩০)।

সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, অস্ত্র তৈরির কারখানাটির মূল মালিক মনির হোসেন। তার স্ত্রী প্রিয়া বেগম এই অস্ত্র কেনাবেচায় জড়িত। আর কারখানার মূল কারিগর সাইফুল। আমরা মনিরকে ধরতে না পারলেও তার স্ত্রী ও কারিগরকে ধরতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, নিজের ঘরের পাশে আরেকটি ঘর বানিয়ে সেখানে গোপনে অস্ত্র তৈরি করত মনির। সেই অস্ত্রের মূল ক্রেতা ছিল জলদস্যুরা।

এছাড়া আধিপত্য বিস্তারের জন্য স্থানীয় সন্ত্রাসীরাও মনিরের কাছ থেকে এসব অস্ত্র ক্রয় করত।

কারখানায় একনলা বন্দুক, পাইপগান, এলজি তৈরী হতো। এ ধরণের ২০টিরও বেশি অস্ত্র কারখানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দ্বীপ থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি মোহাম্মদ শাহজাহান।

সন্দ্বীপে ফুটবলার রুবেলের মুক্তির দাবিতে হাতে হাত ধরে দাঁড়াল ২৪ সংগঠন, ব্যবসায়ীদের একাত্মতা প্রকাশ

সিটিজি বাংলাঃ

প্রকৃত আসামীকে বাদ দিয়ে কৃতি ফুটবলার নিরপরাধ মো. রুবেলকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে ২৪ অক্টোবর বুধবার উত্তাল ছিল চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা। ২৪টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে রুবেলের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে। এ মানববন্ধনে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, পৌরসভা আওয়ামী লীগ, কালাপানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, উত্তর সন্দ্বীপ ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করে। দ্বীপের নতুন বাজার আকবর হাট এলাকায় হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এ মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বাজারে থাকা অর্ধশত দোকানপাটও বন্ধ রাখে ব্যবসায়ীরা।

সর্বস্তরের মানুষ নিয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদী মানববন্ধনে অবিলম্বে নিরাপরাধ রুবেলকে মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুশিয়ারিও দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে চট্টগ্রামের হালিশহরে মাসুদ হত্যা মামলায় আসামি করা হয় সিটি রুবেলকে। কিন্তু সিটি রুবেলকে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়ে নিরাপরাধ মো. রুবেলকে আসামি বানিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বুধবারের মানববন্ধনে অংশ নেয় সন্দ্বীপের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা ১৭টি সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন। আর একাত্মতা পোষণ করে মানববন্ধনে বক্তব্য দেয় সাতটি রাজনৈতিক দল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। আলাদা আলাদা ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিল- ইউনিটি ফ্রেন্ডস ক্লাব সন্তোষপুর, আবাহনী ক্রীড়াচক্র শিবের হাট, ইচ্ছাশক্তি স্পোর্টিং ক্লাব, খেলাঘর শিবের হাট, গুপ্তচড়া বাজার স্পোর্টিং ক্লাব, এলেভেন ইস্টার চৌধুরী বাজার, রহমতপুর একাডেমি, কনফিডেন্স ক্লাব কালাপানিয়া, কালাপানিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, কর্মজীবী ক্লাব আমানুল্লাহ, হৃদয়ে একাত্তর স্পোর্টিং ক্লাব সন্তোষপুর, তরুণ সংঘ ক্লাব গাছুয়া, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্পোর্টিং ক্লাব বাউরিয়া, আকবর হাটের দ্বীপবন্ধু স্পোটিং ক্লাব, মুন্সিরহাটের দ্বীপবন্ধু ক্লাব, আকবরহাট ব্যবসায়ী সমিতি, গাছুয়া-সন্তোষপুর-পোলঘাট দ্বীপ স্টার ক্লাব। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ফ্রেন্ডস ইউনিটি ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মহিউদ্দিন জাফর।

বক্তব্য রাখেন কালাপানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলিমুর রাজী টিটু সন্দ্বীপ আবহানী ক্রীড়া চক্রের সভাপতি সাহেদ সারোয়ার শামীম, বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হেলাল উদ্দিন খোকা মিয়া, সন্দীপ পৌরসভার সাবেক কমিশনার সফিকুল আলম, উত্তর সন্দ্বীপ ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শেখ ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সিরাজুল মাওলা, সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাবলু, সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল আফসার, সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান সুমন, গুপ্তচড়া বাজার স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ গোফরান উদ্দিন, সন্তোষপুরের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব টিপু সুলতান, ইচ্ছেশক্তি স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ রানা, গাছুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর জাভেদ পারভেজ, সন্দ্বীপ আবাহনী ক্রীড়াচক্রের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল আজম, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শামীম কায়ছার, সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান ফাহিম প্রমুখ।

চট্টগ্রামের বাইরে থাকায় টেলিফোনে বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে এ কর্মসূচিতে একাত্মতা পোষণ করেন সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সন্দ্বীপ উপজেলার কৃতি ফুটবলার মো. রুবেল ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি মহল পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। নিরপরাধ হয়েও এখন জেল খাটছে রুবেল। শিগগির রুবেলকে মুক্তি দেওয়া না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুমকি দেন বক্তারা।

লেখক-সংগঠক মফিজ উল্যাহ খুশীর ইন্তেকাল, সোনালী মিডিয়ার শোক

শাহাদাত হোসেন আশরাফঃ

এম মফিজ উল্যাহ খুশী

সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের খুশীরগো বাড়ীর এম মফিজ উল্যা খুশী রাত সোয়া তিনটার সময় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। তিনি চট্টগ্রামের হালিশহর হাউজিং এস্টেটের বি ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

বেলা ১ টায় মরহুম এম মফিজ উল্যা খুশীর মরদেহ নিয়ে সন্দ্বীপ রওয়ানা হয়েছে স্বজনেরা। বাদ আছর মুছাপুর খুশীরগো মসজিদে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে।

সোনালী মিডিয়া এন্ড পাবরিকেশন্স পরিবার ও সোনালী মিডিয়া ফোরাম এর পক্ষ থেকে এম মফিজ উল্যা খুশীর মৃত্যুতে শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।

তিনি সন্দ্বীপ উপজেলার প্রথম বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ. মুছাপুর, পন্ডিতের হাটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। সারাজীবন মনে প্রাণে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করেছেন।

জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘ ১৭ বছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে অবস্থান করলেও ভাগ্যসুপ্রসন্ন হয়নি এম মফিজ উল্যাহ খুশীর। বলতে গেলে শূন্য হাতে এবং দুচোখে ছানী নিয়ে দেশে ফিড়ে আসেন। সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফোরকান উদ্দিন আহম্মেদ, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন ও এডুকেশন সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লায়ন শাহাদাত হোসেন এর সহযোগীতায় লায়ন চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসার পর চোখের আলো ফিরে পেলেও দেশে এসে হযে পড়েন বেকার।

সম্ভবত ২০০৬-৭ এর দিকে ওনার সাথে পরিচয় হয়। দেশে থাকতেও লেখালেখি ও সামাজিক নানা আচার অনুষ্ঠানে ব্যাস্ত থাকতেন।

কাতারেও সে অভ্যাসটুকু ত্যাগ করেতে পারেননি। সেখানেও ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছেন। লিখেছেন বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়। তাই, দেশে এসে আবারও সোনালী সন্দ্বীপ, সন্দ্বীপ দর্পন সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা-লেখিতে জড়িয়ে পড়েন।

ছোট্ট পরিসরে ব্যবসা-বানিজ্যে জড়ালেও তেমন সফলতা আসেনি। বাড়ীতে স্ত্রী, দু কন্যা সন্তান থাকলেও তিনি চট্টগ্রাম থাকতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন। এরি মধ্যে দু’মেয়ের বিয়েও সম্পন্ন হয়েছে। ……(চলমান…)

সন্দ্বীপ চ্যানেলে এমভি ফারদিন নামের জাহাজ ডুবি

সিটিজি বাংলা, সন্দ্বীপ প্রতিনিধি:

প্রতীকী ছবি

 

বঙ্গোপসাগরে বর্হিনোঙ্গরে সন্দ্বীপ চ্যানেলে দুটি জাহাজের সংঘর্ষে ‘এমভি ফারদিন’ নামে একটি জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

 

৯ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড পূর্বাঞ্চলের অপারেশন অফিসার লে. কমান্ডার সাইফুল ইসলাম।

 

কোস্টগার্ডের অপারেশন অফিসার জানান, রোববার সকাল ১০টার দিকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের ভাসানচরের দক্ষিণ-পশ্চিমে এমভি বসুন্ধরা ও এমভি ফারদিন নামে দুটি জাহাজের মধ্যে সাগরের বুকে সংঘর্ষ হয়। এ সময় এমভি বসুন্ধরা জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে ফুটো হয়ে যায় এমভি ফারদিন।

এতে এমভি ফারদিন নামের জাহাজটি আস্তে আস্তে সাগরের বুকে ডুবে যায়। এ সময় ওই জাহাজে থাকা নাবিকেরা সাগরে ঝাঁপ দেন।

স্থানীয় জেলেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাছ ধরার ট্রলারের মাধ্যমে ডুবে যাওয়া জাহাজ এমভি ফারদিনের ১৩ জন ক্রুকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে।

সৌদি আরবের জেদ্দায় একই পরিবারের চারজন বাংলাদেশী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

সিটিজি বাংলা, প্রবাস প্রতিবেদক:

জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাবা ও তিন মেয়ে

সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার একই পরিবারের ৪ জন নিহত ও অপর দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

১৬ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত (বাংলাদেশ সময়) সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে নিহতদের স্বজনদের সূত্র জানায়।

সন্দীপের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে বারোটার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সৌদি আরবের জেদ্দায় মহাসড়কে। একই পরিবারের ৬ সদস্য তায়েফ যাওয়ার পথে মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। জেদ্দায় মহাসড়কে এ দুর্ঘটনায় বাবাসহ ও তিন মেয়ে নিহত হয়েছেন। অপর দুই জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

 

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-সন্দ্বীপ উপজেলার মাইডভাঙ্গা গ্রামের মৃত অহিদ রহমানের ছেলে প্রবাসী মশিউর রহমান (৪৭), তার তিন মেয়ে – সায়মা (১৪), সিনথিয়া (১২) ও সাবিহা (৯)।

দুর্ঘটনায় মশিউর রহমানের স্ত্রী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বঙ্গোপসাগরে ১১০০ টন গম নিয়ে ডুবে গেছে লাইটার জাহাজ

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

 

প্রতিকী ছবি

বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলের কাছে ১১০০ টন গম বোঝাই একটি লাইটার জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

৭ আগষ্ট মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম বন্দর সীমা থেকে ৭ নটিক্যাল মাইল দূরে দুটি লাইটারেজ জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের পর এমভি পাটগাটি-২ নামের জাহাজটি ডুবে যায়।

 

খবরটি নিশ্চিত করেছেন বন্দর রেডিও কন্ট্রোল রুম।

কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে বহির্নোঙ্গরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে আমদানীকৃত ১১০০ টন গম নিয়ে লাইটারেজ জাহাজ এমভি পাটগাটি-২। নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার সময় সন্দ্বীপ চ্যানেলের কাছে অপর লাইটারে জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ আসিফ-১০ সাথে ধাক্কা লেগে পাটগাটি-২ এর তলা ফেটে যায়। এতে পানি ঢুকে এটি আস্তে আস্তে ডুবে যায়।

তবে জাহােজে থাকা ১৪ জন নাকিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সর্তক বার্তা পেয়ে আসে পাশে থাকা নৌযান দিয়ে এর নাবিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনারস্থল বন্দর চ্যানেলের বাইরে হওয়ায় বন্দরে জাহাজ চলাচলে কোন ধরণের সমস্যা হচ্ছে না। তবে বর্তমানে নৌ বাহিনীর একটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌছেছে বলে জানান বন্দরের এ কর্মকর্তা।

হে কান্ডারীরা, আর কত সস্তা হবে আমাদের মৃত্যু…

সরোয়ার সুমনের টাইমলাইন থেকে নেয়াঃ

মাহফুজুর রহমান মিতা। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের বর্তমান এমপি। প্রায় প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে নিজ এলাকায় যান তিনি। গেছেন গত সপ্তাহেও। কিন্তু পায়েলের নির্মম মৃত্যুর আজ ১৪ তম দিনেও তাদের হালিশহরের বাসায় আসার সুযোগ হয়নি উনার। অবশ্য টেলিফোন করে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আশ্বাস দিয়েছিলেন দেখারও। তাই আশায় বুক বেঁধেছিলো পরিবারের সদস্যরা। তাদের বিশ্বাস ছিলো এমপি মহোদয় এগিয়ে আসলে হয়তো দেখা মিলবে প্রধানমন্ত্রীরও। কিন্তু হলো না।

দেখা মিলেনি আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেক প্রভাবশালী প্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীরও। অথচ বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে সংবাদ সন্মেলন করতে ২ আগষ্ট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এসেছিলেন তিনি। চট্টগ্রামে ছিলেন পুরোদিনই। কিন্তু হালিশহরে গিয়ে পায়েলের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে পারেননি তিনিও। অথচ সন্দ্বীপে উনার মেডিকেল ক্যাম্পের প্রচারণায় হামলার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফোনও করিয়েছিলেন ডা: জামাল। পায়েলের হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিতে আমাদের খুব দরকার ছিলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ফোন। কিন্তু হলোনা এটিও।

সড়কপরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে নাকি ঘনিষ্ঠতা বেশি আমাদের উপজেলা আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান মাস্টার শাহজাহান বিএর। কিন্তু সেই সর্ম্পকটিও কাজে লাগাননি তিনি। হালিশহরে এসে পায়েলের শোকাহত পরিবারকেও দেননি কোন সান্তনা। অথচ আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনিও। সন্দ্বীপ পৌরসভার মেয়র জাফর উল্যা টিটু। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন নাকি খুব ভালো জানেন তাকে। গর্ব করে এটি বলেনও তিনি। কিন্তু এই সর্ম্পকটিও কাজে লাগলোনা আমাদের পায়েলের জন্য। এমনকি হালিশহরে এসেও সমবেদনা জানাননি আমাদের মেয়র।

জেলা পরিষদ সদস্য আফতাব খান অমির সাথে খুব ঘনিষ্ট সর্ম্পক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালামের। আর এমএ সালামের সাথে ভালো সর্ম্পক সেতু মন্ত্রীর। কিন্তু এটিও কোন কাজে লাগলো না আমাদের। অথচ ভবিষ্যত কান্ডারী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন অমি খানও। একই স্বপ্নে বিভোর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ন-সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানও। উনার সাথে দহরম মহরম সর্ম্পক প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্বীয় ও যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের। এটি কাজে লাগিয়ে এমপি হতে চান তিনি। কিন্তু পায়েলের জন্য তিনিও করলেন না কিছু।

পায়েলের নির্মম মৃত্যু পুরো দেশকে কাাঁদালেও কোন অশ্রু নেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কারো চোখেই। চট্টগ্রামে থাকলেও তিনবারের সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশা একটি ফোন করেও সমবেদনা জানাননি পায়েলের পরিবারকে। উনার সাথে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদেরও ঘনিষ্ট সর্ম্পক। কিন্তু খসরু সাহেবও সমবেদনা জানাতে আসেননি একটিবার। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল এবং কাতার প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল মোস্তফা খোকনদেরও কেউ হালিশহরে গিয়ে জানাননি সমবেদনা। শোকাহত পরিবারকে সান্তনা দিতে করেননি কোন ফোনও।

হে আগামীর জনপ্রতিনিধি,
আমরা যারা পায়েল হত্যার বিচার চেয়ে ১৪ দিন ধরে বৃষ্টিতে ভিজছি, রোদে পুড়ছি তাদের চোখ কাঁদতে কাঁদতে অশ্রুহীন। আমাদের জিজ্ঞাসা, আপনাদের চোখের অশ্রু গেলো কোথায় ? নৌ ট্রাজেডীতে ১৮ প্রাণ হারালেও কেন আমরা পায় না কোন ক্ষতিপূরণ? এমন নির্মম মৃত্যুর পরও কেন আমরা দেখা পায় না আপনাদের ? আমাদের মৃত্য আর কত সস্তা করবেন আপনারা …?

সরোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান, দৈনিক সমকাল।

শুক্রবার পায়েল হত্যার প্রতিবাদে সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম’র মানববন্ধন

সিটিজি বাংলাঃ

সন্দ্বীপ সন্তান নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েল হত্যার প্রতিবাদে মানবন্ধনের ডাক দিয়েছে সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম।

২৮ জুলাই শুক্রবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।

সংগঠনের সভাপতি একেএম বেলায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ রিপন সন্দ্বীপবাসী সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষদেরকে মানববন্ধনে উপস্থিত থাকার আহবান জানিয়েছেন।

 

সন্দ্বীপ চৌমুহনী বাজারে ভয়াবহ আগুন

রহিম উল্লাহঃ

সন্দ্বীপ চৌমুহনী বাজারে একটি দোকানে আগুন লেগে মালামালসহ প্রায় ৩২ লাখ ক্ষয়ক্ষতির ধারনা পাওয়া গেছে।রাত আনুমানিক ১ টায় বাজারের উত্তর প্রান্তে অবস্হিত আকতার সওদাগরের মুদি দোকানে আগুন লাগে। বাজারের দারোয়ানরা আগুন দেখে হৈচৈ শুরু করলে ও মসজিদের মাইক থেকে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পরলে এলাকাবাসী অাগুন নেভাতে এগিয়ে আসে। পুলিশ ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেছে। এ সময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন মিশন ও বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্হিত ছিলেন। মেয়াদত্তীর্ন গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাতের আশংকা করছে পুলিশ।
প্রথমে টিউবওয়েলের পানি ও পরে খাল থেকে দুটি পাম্প মেশিনের মাধ্যমে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ঘন্টাখানেক সময় লেগে যায়। ততক্ষনে আগুনের লেলিহান শিখায় সম্পন্নরুপে দোকানটির সকল মালামাল পুরে যায় এবং এটির অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।দোকানের প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামালসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৩২ লাখ টাকার পরিমান হওয়ার আশংকা করছে পুলিশ ও মুদি দোকানের মালিক আখতার।