চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

জাতীয়

তরুণদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়বার স্বপ্নের কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী

সিটিজি বাংলাঃ

ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগ, পরামর্শ ও চাওয়া-পাওয়ার কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানে তরুণদের মুখোমুখি হন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বর্তমান প্রজন্মের সাথে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। সেই সাথে তরুণদের কাছ থেকে গ্রহণ করেন দেশ গঠনে তাদের পরিকল্পনা ও পরামর্শের কথা।
সিআরআই-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তরুণরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায় অথবা তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলে কোন কোন সমস্যার সমাধান করবে’- এমন অনেক বিষয়ে আলোচনা হয় এবারের লেটস টক-এ।
প্রধানমন্ত্রী সারাদেশ থেকে আসা ১৫০ জন অংশগ্রহণকারী তরুণের সাথে দেশের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী বিষয়ে আলোচনা করেন। বিভিন্ন পেশাজীবী, চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত এবং দেশ গঠনে উদ্যমী তরুণ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এই আয়োজনে। সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘প্রথমবারের মতো’ প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মুখোমুখি হয়ে তাদের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন। তরুণদেরও বেশ কিছু প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের অনুপ্রেরণা প্রধানমন্ত্রী তার কৈশোর ও তারুণ্যের সময়ে ঘটে যাওয়া অজানা অনেক তথ্য তুলে ধরণের অংশগ্রহণকারীদের সাথে। এ ছাড়াও তিনি ব্যস্ততার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন, নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা নিয়েও তরুণদের সাথে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী একটি রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়েছেন তাঁর কৈশোর এবং তারুণ্য কি অন্যদের চাইতে আলাদা ছিল? কি রকম দুরন্ত সময় পার করেছেন তিনি? এমন অনেক প্রশ্নেরই উত্তর দেন তিনি। এ ছাড়াও কৈশোর ও তারুণ্যে রাজনীতিতে যোগদান, স্কুলের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে যোগ দান, মুক্তিযুদ্ধকালে তার অবরুদ্ধ জীবন, ৭৫ সালে দেশের বাইরে তার পরিবারের কঠিন জীবনযাপন, ১৯৮০ সালে লন্ডন যাওয়া, রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের অনুপ্রেরণা, দেশের মানুষের কাছে ফিরে আসা এমন আরো অনেক বিষয়ে অজানা তথ্য তরুণদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তরুণদের কাছ থেকে আসা এমন আরো সব আকর্ষণীয় প্রশ্ন ও তার উত্তর নিয়ে অপেক্ষা করছে ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় তা প্রচার হবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
তরুণরা যাতে দেশের নীতি নির্ধারকদের সাথে খোলামেলাভাবে আলোচনা করতে পারেন এবং নিজেদের ভাবনা ও সমস্যাগুলোর কথা নীতি নির্ধারকদের কাছে পৌঁছাতে পারেন সেজন্য সিআরআই নিয়মিত আয়োজন করে আসছে লেটস টক।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদকে নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার লেটস টক আয়োজন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আয়োজন করা হয় ‘লেটস টক’ উইথ শেখ হাসিনা’।সূত্রঃ বাসস

বঙ্গভবনে ড. কামাল হোসেন

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বঙ্গভবনে দাওয়াতে গেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তার সঙ্গে রয়েছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

এর আগে বেলা ১২টায় রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের র্শীষ নেতারা বৈঠকে বসেন। এতে ড. কামাল হোসেন ছাড়াও সরকারবিরোধী জোটের নেতা সুলতান মো. মনছুর, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার ও সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

তারেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসি’র প্রতি নাসিমের আহ্বান

সিটিজি বাংলাঃ

আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

আজ সোমবার দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিজিটাল চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে এ আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কারণ নির্বাচন কমিশনের বিধি লংঘন করে কেউ যদি কোনো বক্তব্য দেয়, আচরণবিধি লঙঘন করে, তাহলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে তারা যেন কঠোর ব্যবস্থা নেন। ’

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে এসেছে এটা স্বস্তির খবর, ভাল খবর। আশা করি, তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে এবং জনগণের রায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুুষ্ঠু নিরপেক্ষ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এটা নিশ্চিত। কারচুপির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচন কমিশনও বলেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সব দল নির্বাচনে আসায় দেশে ভোটের উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে নির্বাচনমূখী হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রোগীদের জন্য অত্যাধুনিক রেজিস্ট্রেশন বুথ ও অটোমেশন পদ্ধতি উদ্বোধনের সময়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ বি এম মাকসুদুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভে ইংরেজী লেখা প্লেকার্ড, এনজিও’দের দায়ী করছেন স্থানীয়রা

সিটিজি বাংলাঃ

ছবি: কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধে এনজিওদেরকে দ্বায়ী করেছে স্থানীয়রা। প্রত্যাবাসন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগন। একই সাথে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়ার কাজে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরও শাস্তির দাবী জানান সচেতন মহল। তাদের দাবী মিয়ানমার প্রত্যবাসনের দিনক্ষন ঠিক করে প্রত্যাবাসন না হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে তারা এখন সুযোগ নিবে এবং বহির্বিশ্বকে উল্টো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বুঝিয়ে সমালোচনা করবে এবং ভবিষ্যতে রোহিঙ্গারা আর ফিরে না যাওয়ারও যথেষ্ট সম্ভবনা আছে বলে দাবী করেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।

উখিয়া উপজেলা সুজন সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আসার পরে মিয়ানমার সরকার প্রথমে রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিক নয় বলে দাবী করেছিল, পরে আবার কিছু সীমান্তবর্তী মানুষকে অনধিকার প্রবেশ করানোর জন্য উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করেছিল। পরে বাংলাদেশের সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের তাদের নাগরিক হিসাবে স্বীকার করে প্রত্যাবাসনের জন্য রাজি হয়। এর পরে অনেক চুক্তি আর সময় ক্ষেপনের পর ১৫ নভেম্বর কিছু রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহন করে। কিন্তু বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারেনি এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখ জনক। সেদিন রোহিঙ্গারা যেভাবে শ্লোগান দিচ্ছিল এবং আমাদের দেশের অনেক সরকারি কর্মকর্তাদেরও নাজেহাল করছিল এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। এতে তাদের ভেতরে অপরাধবোধ জন্ম নেবে, এটা আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকারক হবে।

উখিয়ার ডিগলিয়াপালংয়ের মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, সীমিত সংখ্যক হলেও যে মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসন শুরু করেছে এটাই আমাদের জন্য ভাল খবর ছিল। পরে যে অবস্থা দেখলাম এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জা জনক। রোহিঙ্গাদের জন্য গাড়ী বহর ছিল, খাবার দাবার ছিল, বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা বাহিনী ছিল তার পরও কেন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো গেল না? এরা কি আমাদের দেশের আইন শৃংখলার বাইরে। এছাড়া আরো একটি দেখার বিষয় আছে,রোহিঙ্গাদের হাতে যে সমস্ত প্লেকার্ড ছিল তা ইংরেজীতে লেখা আর তাদের মুখে যে শ্লোগান ছিল তা অবশ্যই কারো না কারো শিখিয়ে দেওয়া। কারন রোহিঙ্গারা ইংরেজী লিখতে পারেনা, পারলেও প্রত্যাবাসন বিরুধী এত সুন্দর করে লিখতে পারার কথা না। এটা নিশ্চই কোন এনজিওর লোকজন তাদের লিখে দিয়েছে এবং শিখিয়ে দিয়েছে। তাই স্থানীয় জনগন হিসাবে আমরা দাবী করছি আগে সে সমস্ত এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হউক।

টেকনাফ উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবুল হোসেন রাজু বলেন, এতদিন আমরা অপেক্ষা করে ছিলাম মিয়ানমান কখন প্রত্যবাসনের জন্য রাজি হচ্ছে কিন্তু যখন তারা রাজি হলো আমরা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারলাম না। আগে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সহ সব আর্ন্তজাতিক সংস্থার কাছে গিয়ে বলতো রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে কিন্তু এখন মিয়ানমান সব জায়গায় গলা উচু করে বলবে আমরা ফেরত আনতে রাজি ছিলাম কিন্তু বাংলাদেশ ফেরত দিতে পারেনি। এতে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে। একই সাথে রোহিঙ্গাদের যে সমস্ত দাবীর কথা বলে ফেরত যায়নি আদৌ কি সেই সব দাবী কি পূরন করা সম্ভব? এসব দাবী একশত বছরেও পূরন হবে না বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। সুতরাং রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে সেটা অনেকটা নিশ্চিত। একই সাথে যে সমস্ত এনজিও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে তাদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাচ্ছি।

টেকনাফের সাবেক কমিশনার আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে খুবই ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। কারন রোহিঙ্গারা যদি আন্দোলন করে ফেরত যাওয়া বন্ধ করতে পারে তাহলে তাদের ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে নেওয়া খুব কঠিন হবে। আর রোহিঙ্গার কারনে যাদের লাভ হচ্ছে তারাই রোহিঙ্গাদের ফেরত না যেতে উৎসাহিত করছে বলে আমরা খবর পেয়েছি এর ফলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি তাদের হাতে জিম্মি হয়ে থাকবে নাকি আমরা ভিটামাটি ছেড়ে চলে যাব?

রামু কলেজের অধ্যাপক আবু তাহের বলেন,যখন থেকে শুনেছি রোহিঙ্গা প্রত্যবাসন হচ্ছে তখন থেকে একটি ভাল লাগা কাজ করছিল কিন্তু একটি সংশয়ও মনের মধ্যে ছিল আদৌ প্রত্যাবাসন হবে কিনা কারন রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মায়ানমারে যে নাগরিক সুবিধা পায়নি তার চেয়ে শতগুন সুযোগ সুবিধা বাংলাদেশে পাচ্ছে। তারা এখন ভাত কাপড়ের পাশাপাশি কথা বলা এমনকি আন্দোলন করারও সুযোগ পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা ফেরত না যাওয়াটা আমার মতে স্থানীয়দের জন্য একটি বড় অশনি সংকেত। আর সে দিন টিভিতে যেভাবে খবরে দেখলাম রোহিঙ্গারা যেভাবে বেপরোয়া ভাবে আন্দোলন করছে এটা কোন ভাবেই আমাদের জন্য মঙ্গল জনক নয়। কারন সুযোগ পেলে তারা অন্যকিছুর জন্য এভাবে আন্দোলন করতে পারে। আর ১২ লাখ রোহিঙ্গা যদি আন্দোলনে নামে তাহলে পরিস্থিতি কি হতে পারে সেটা সহজে অনুমেয়। তাই সময় থাকতে আমাদের সাবধান হতে হবে যে কোন ভাবেই হউক রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে শক্ত উদ্যোগ নিতে হবে।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ বারী বলেন,রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আলোচনার ভেতরে যখন জাতিসংঘ বিবৃতি দিচ্ছে মিয়ানমার এখনো প্রস্তুত না তখনি আমি মনে করেছিলাম প্রত্যাবাসন বোধয় বাধা গ্রস্থ হবে। কারন আর্ন্তজাতিক মহল রোহিঙ্গা ইস্যূ নিয়ে অনেক ধরনের রাজনীতি করছে। তবে কম হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হওয়াটা খুব জরুরী ছিল,কারন একটা প্রক্রিয়া শুরু হলে সেটা ধারাবাহিক থাকতো। এখন পুরু প্রক্রিয়াটাই বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম বলেন,এখনো সব কিছু শেষ হয়ে যায় নি,তবে রোহিঙ্গারা সেচ্ছায় ফিরতে চাইলেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে সচেতন মহলের দাবী রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার সম্ভবনা খুবই কম।

উখিয়া প্রত্যবাসন সংগ্রাম ও রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গারা চলে গেলে কতিপয় এনজিওদের চাকুরী থাকবেনা। মোটা অংকের বেতন গুনতে পারবেনা আর। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কতিপয় এনজিওরা উস্কানী দিচ্ছে।

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

সিটিজি বাংলাঃ

আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন ও তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষকে নিয়ে বসা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান সাংবাদিকরে বলেন, নির্বাচনী বছর ও তাবলিগ জামাতের মধ্যে বিদ্যমান দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। এছাড়াও চলতি বছর নির্বাচনী বছর হওয়ায় সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ। এসব বিবেচনায় তাবলিগের বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষই জানুয়ারিতে আলাদা আলাদা তারিখে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা করার ঘোষণা দিয়েছে। এ দ্বন্দ্ব নিরসন করতে তাবলিগ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারত যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ধর্ম সচিব বলেন, নির্বাচন শেষ হলে দুই পক্ষ বসেই তারিখ নির্ধারণ করবে।

সেক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মাওলানার ফরীদ উদ্দীন মাসঊদসহ তাবলিগের মুরব্বিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ভারতের তাবলিগের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভি অনুসারীরা গত বিশ্ব ইজতেমার পর ২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমার জন্য ১১, ১২, ও ১৩ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। অন্যদিকে ভারতে মাওলানা সাদবিরোধীরা ও হেফাজতপন্থী কওমি আলেমদের নিয়ে সম্প্রতি ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে জানুয়ারির ১৮, ১৯ ও ২০ ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেছিল। একইসঙ্গে দুই পক্ষই পৃথক তারিখে জেলা ভিত্তিক জমায়েতের তারিখ নির্ধারণ করেছিল। আর এই জমায়েতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে তাবলিগ জামাতের মুরব্বিদের মধ্যে শুরা সদস্য মাওলানা যুবায়ের আহমদ ও সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আলেমদের মধ্যে শোলাকিয়া ঈদগাহর খতিব মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ও গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নাল আবেদিন, পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ধর্মসচিব, সেতু বিভাগের সচিব, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুলল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে ইজতেমার তারিখ আপাতত চূড়ান্ত না করার অনুরোধ করেন। নির্বাচনের পর যথাসময়ে ইজতেমা হবে এমন আশ্বাস দেন।

রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পুলিশকে। এছাড়াও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে কোনো রাজনৈতিক মামলাও করা যাবে না।

শনিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষুদে বার্তায় এই নির্দেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

ক্ষুদে বার্তার শিরোনামে লেখা ছিল ‘SUSPENSION OF POLITICAL ARREST (রাজনৈতিক গ্রেফতারে স্থগিতাদেশ)’। পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) ও তার ঊর্ধ্বতনদের পাঠানো এই ক্ষুদে বার্তায় কমিশনার বলেন, ‘You are requested not to make any political arrest and not to record any political case without our knowledge until further order as instructed by hon home minister. Thanks, PC DMP’ (পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমাদের অবগত না করে কোনো রাজনৈতিক গ্রেফতার ও মামলা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)।

এই বার্তার কিছুক্ষণ পর আরেক বার্তায় কমিশনার জানান, ‘CLARIFICATION : No bar to execute warrants of Arrest, No bar to lodge case if any incident happens, It’s a short term strategy to see the political developments in the country.’ (ব্যাখ্যা : গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার ও কোনো দুর্ঘটনার মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা)।

এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘পুলিশ কখনও সুস্পষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোত্র বিশেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। বাংলাদেশ পুলিশ একটি জাতীয় সংস্থা হিসেবে কখনওই এমন করে না। এটি পুলিশের পেশাগত আচরণ ও নীতির পরিপন্থী। পুলিশ আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে কাউকে গ্রেফতার করতো না, মামলা দিত না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক (লিখিত) কোনো নির্দেশনা পাইনি।’

তবে পুলিশের একাধিক উপ-কমিশনার (ডিসি), অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ডিএমপি কমিশনারের মোবাইল থেকে এই ক্ষুদে বার্তা পাওয়ার বিষয়টি জাগো নিউজের কাছে নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম একটি দাবি ছিল নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করা। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের গত বৃহস্পতিবারের রাজশাহী অভিমুখের রোডমার্চটিও বাতিল করা হয় এই কারণে। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান জাগো নিউজকে বলেন, এই নির্দেশনা যদি আন্তরিক হয় তাহলে মঙ্গল, আর যদি রাজনৈতিক হয় বিপজ্জনক। আমাদের অন্যান্য দাবিগুলোকেও তাদের মানতে হবে।

দ্বিতীয় দফা সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা-গায়েবি মামলা ও গ্রেফতারকৃতদের তালিকা দেন।

নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের

সিটিজি বাংলাঃ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে ভোটের তারিখ এক মাস পিছিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে ফ্রন্টের পক্ষ থেকে।
আজ রাজধানীর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন এ সিদ্ধান্ত জানান। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার ৭ দফা মেনে নেয়নি। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নেয়া কঠিন। তারপরও আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, পরিবেশ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে।

নির্বাচনে অংশ নেয়াও এই আন্দোলনের অংশ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। আজ দুপুর ১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জোটের অন্যতম নেতা, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

কর্নেল (অব.) অলি বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনি সমন্বয় হবে। আমরা আশা করি নির্বাচনের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আমরা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ সময় ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অন্তত: এক মাস ভোট পেছানোর দাবি জানান অলি আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্ররাহিম, জমিয়তের আরেক অংশের সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস, আরেক অংশের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিবসহ অনেকে।

নির্বাচনের পথে ২০ দল, ধানের শীষ প্রতিকে অংশ নিতে পারে নিবন্ধনহীন জামায়াত

সিটিজি বাংলাঃ

২০ দলের বৈঠক

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো হলেও বিএনপির হাইকমান্ড, ২৩ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অধিকাংশ শরীক নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে জোটগতভাবে নির্বাচনের বিষয়টি বিএনপিসহ নিবন্ধিত দলগুলো রোববার পৃথকভাবে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানাবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়াসহ পরবর্তী কর্মসুচি ঠিক করতে শনিবার সিরিজ বৈঠক করে বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০দলীয় জোটের নেতারা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক চলছিল।
২০ দলীয় জোটের বৈঠকের পর জোটের নেতা এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ বলেন, দুই-একদিনের মধ্যেই নির্বাচন যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবে ২০ দল।

তিনি বলেন, আজকের (শনিবার) বৈঠকে দেশের নির্বাচন ও দেশে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে যাবো কি যাবো না এই ব্যাপারে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আগামী দুই দিনের মধ্যেই ২০ দলীয় ঐক্যজোট আমাদের মূল দল বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতির সামনে উপস্থাপন করব।

অলি বলেন, জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হলো আমাদের প্রধান্য, তাকে মুক্তি দিতে হবে। তাহলেই নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে আসবে। ২০ দলের অনেক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। যদিও সরকার বলছে যে, সকলের জন্য নির্বাচনের সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি এটা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ, পত্রিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখনো সকল দলের জন্যে সমান সুযোগ সৃষ্টি হয় নাই।

এলডিপির প্রধান বলেন, আমরা যারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এই জোটে আছি তারা কমিশনের কাছে চিঠি লেখবে। চিঠির ভাষা এমন হবে যে, যদি আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহন করি সেক্ষেত্রে আমাদের দলীয় প্রতীকে অনেকে নির্বাচন করবে। আবার অনেকে ২০ দলের মূল দল বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করবে। যদি আমরা নির্বাচন করি।

এক প্রশ্নের জবাবে অলি আহমদ বলেন, যদি নির্বাচন গেলে আমি আমার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন কবর।

জোটের এক নেতা জানিয়েছেন, তিনটি দল ছাড়া সবাই বৈঠকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী আজ তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছে।

অলি আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিএনপির নজরুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতের আবদুল হালিম, বিজেপি আন্দালিব রহমান পার্থ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, আহমেদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা এম এ রকীব, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, এনডিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা নুর হোসেইন কাসেমী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, বাংলাদেশ জাতীয় দল সৈয়দ এহসানুল হুদা, পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ, রিটা রহমান, মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক সুত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহনের পক্ষেই অধিকাংশ নেতা মত দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলসহ নির্বাচনী সব প্রক্রিয়ায় থাকার জন্য দ্রুত সময়ে কিভাবে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া নির্বাচনে সরকার কতটুকু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে এবং নির্বাচন কমিশন কতটুকু শক্তিশালী অবস্থান নেয় তা দেখে আন্দোলন শুরু করার ব্যাপারেও নেতারা মত দেন।

বৈঠক থেকে বের হয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদদু আহমদ বলেন, নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষযে আলোচনা হয়েছে। আজ রোববার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকগুলোর আলোচিত বিষয় ও সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানাতে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

জানা গেছে, আজ দিনের যেকোন সময়ে মির্জা ফখরুল কারাবন্দী দলের চেয়াপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করার চেষ্টা করবেন। নির্বাচনের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত জানার পরেই সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন মির্জা ফখরুল।
২০ দলীয় জোটের বৈঠকের পর একই স্থানে রাত আটটায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শুরু হয়।

ঐক্যফ্রন্টের সুরে চরমোনাই পীর

সিটিজি বাংলাঃ

ফাইল ছবি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সুর মিলিয়ে নির্বাচন পেছানোর কথা বললেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, আজ অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের সর্বস্তরের মানুষের গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের যৌক্তিক দাবিকে উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচনের জন্য কোন রকম সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী না করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তফসিল ঘোষণা দেশবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। দেশবাসী চায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন রাজৈনিক দলগুলোকে আস্থায় না নিয়ে তফসিল ঘোষণা করায় জনগণ চরম হতাশ হয়েছে।

দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়, অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শুক্রবার বিকাল ৩টায় খুলনা নগরীর নিউ মার্কেট সংলগ্ন বায়তুন নূর মসজিদ চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি জানান, ক্ষমতাসীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দলের জন্য গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরী করবে। কাঙ্খিত পরিবেশ তৈরীর জন্য ঘোষিত তফসিল বাতিল করে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানানরেজাউল করীম।

জনসভা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সভাপতি ও খুলনা-৩ নং আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক এর সভাপতিত্বে ও নগর সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দীন, নগর জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওলানা ইমরান হুসাইন ও জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারী ইঞ্জিনিয়ার এজাজ মানসুরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

জনসভায় চরমোনাই পীর খুলনার ৬ নং আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের খুলনাবাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেন।।

নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর

সিটিজি বাংলাঃ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৩ ডিসেম্বর সোমবার সারাদেশে একযোগে এই ভোট গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর, এবং ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর।

নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে বলে বক্তৃতায় আশা প্রকাশ করেন সিইসি। তিনি জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সব দল নির্বাচনে এলে অনিয়মের সুযোগ থাকবে না বলে মনে করেন সিইসি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কোনো বিরোধ থাকলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার প্রতি তাগিদ দেন সিইসি। (বিস্তারিত আসছে…)