চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

জাতীয়

আরবে ১১ বাংলাদেশে ১২ আগষ্ট ঈদুল আজহা

 

ধর্মীয় ডেস্ক:  মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ চাঁদ দেখা নিয়ে অধীর আগ্রহে রয়েছেন বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ইতোমধ্যেই পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা।

 

বিভিন্ন সংস্থা বলছে, সৌদি আরবসহ মধ্যপাচ্যে ঈদুল আজহা হতে পারে ১১ আগস্ট। মধ্যপাচ্যের পরের দিন বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়ে আসছে। সেই হিসেবে আগামী ১২ আগস্ট (রবিবার) বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাচিত হতে পারে।

বিভিন্ন অনলাইন নিউজে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ওই ছুটি ঘোষণা করেছে ফেডারেল অথরিটি ফর গভর্নমেন্ট হিউম্যান রিসোর্সেস (এফএএইচআর)।

 

আরও বলা হচ্ছে, ৯ই জিলহজ্ব তারিখে পবিত্র আরাফাত দিবস। সে হিসেবে জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে উদযাপিত হবে ঈদুল আযহা।

আবুধাবি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের পরিচালক মোহাম্মদ শওকত ওদেহ বৈজ্ঞানিক হিসাবনিকাশ করে বলেছেন, এবার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা ১১ আগস্ট শনিবার।

একই কথা বলেছেন, কুয়েতি জ্যোতির্বিদ ও ইতিহাসবেত্তা আদেল আল সাদুন।

তিনি কুয়েতি বার্তা সংস্থা কুনা’কে বলেছেন, জিলহজ মাস শুরু হতে পারে ২রা আগস্ট শুক্রবার।

যদি তাই হয় তাহলে আরাফাত দিবস পালিত হবে ১০ই আগস্ট রোজ শনিবার।

টিকটক করতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া তরুণের লাশ উদ্ধার

সিলেটে টিকটক করতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া আবদুস সামাদের (১৮) লাশ তিন দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার বিকেল তিনটার দিকে সিলেটের বিশ্বনাথ লামাকাজি এলাকার সুরমা নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে বিশ্বনাথ থানা–পুলিশ। আবদুস সামাদ সিলেট নগরের বাগবাড়ি এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে।

বিশ্বনাথ থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, আজ দুপুরে লামকাজি এলাকার সুরমা নদীতে একটি লাশ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা থানায় জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে সিলেটের টুকের বাজার শাহজালাল তৃতীয় সেতু থেকে টিকটক ভিডিও করতে বন্ধুর সঙ্গে বাজি ধরে নদীতে ঝাঁপ দেন আবদুস সামাদ। তাঁর বন্ধু মিলন আহমদ (১৮) সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সামাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ডুবুরিরা শনিবার সারা দিন সুরমা নদীতে অভিযান চালালেও তাঁকে উদ্ধার করতে পারেননি।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সামাদ, মিলন ও আরেক বন্ধু মিলে টুকের বাজার এলাকার তৃতীয় শাহজালাল সেতুতে যান। এ সময় সামাদ ও মিলন টিকটক ভিডিও করতে নিজেদের মধ্যে বাজি ধরে সেতু থেকে লাফ দেন। তাদের সঙ্গে থাকা অপর বন্ধু ভিডিও ধারণ করেন। একপর্যায়ে মিলন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সামাদ নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন মিলনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুদ্দোহা জানান, আজ বিকেল তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। লাশটি কয়েক দিন পানিতে থাকার কারণে ফুলে গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

জাপার প্রস্তাবে সায় নেই সরকারের

সাবেক প্রেসিডেন্ট, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন সংক্রান্ত প্রস্তাবে সায় মেলেনি সরকারের। মৃত্যুর পর এরশাদকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দাফন করতে সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছিলো জাতীয় পার্টি। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়া হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি’র চিঠির ভিত্তিতে গতকাল (১৪ই জানুয়ারি) সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ- এর মৃত্যু পরবর্তী রাষ্ট্রীয়ভাবে দাফন সংক্রান্ত’ শিরোনামে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি অধিশাখার উপসচিব মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, আপনার পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, দি প্রেসিডেন্ট (রিম্যুনারেশন এন্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৫(২০১৬ সালের মে পর্য্ন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী সাবেক প্রেসিডেন্টদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের কোন বিধান নেই। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্টদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের বিষয়ে কোন নজির নেই। সাবেক সেনাপ্রধান এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার মৃত্যু পরবর্তী রাষ্ট্রীয় দাফনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক কোন কাযক্রম গ্রহণেরও কোন বিধান বা নজির নেই। জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা এরই মধ্যে তারা জেনেছেন।

তরল দুধে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক : যা বলছে ‘ক্যাব’

বাজারে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত (পাস্তরিত) দুধের নুমনা পরীক্ষায় ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাবার প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টারের পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক এর বিরুদ্ধে প্রাণী সম্পদ বিভাগ, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় গবেষনা প্রতিবেদন নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করায় ভোক্তা স্বার্থ ক্ষুন্œ হয়েছে, গবেষনাটি দশে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে সহায়ক হবে বলে দাবি করেছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি পাস্তুরিত দুধের মান ও গবেষনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে পত্রপত্রিকা ও মিডিয়াতে প্রকাশিত তথ্য ও পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ এর পর এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন দুধের পরীক্ষায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তেইশটি প্যারামিটার নির্ধারন করলেও বাংলাদেশে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) মাত্র ০৯টি অনুজীব ও ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা করে থাকেন। প্রফেসর এ বি এম ফারুক ১৮টি প্যারামিটার অ্যান্টিবায়েটিক, কলিফর্ম, ব্যাকটেরিয়া ও ডিটারজেন্ট পরীক্ষা করেছেন। যাতে চার ধরনের অ্যন্টিবায়েটিকের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু প্রাণিসম্পদ বিভাগ নমুনা সংগ্রহ ও গবেষনা তথ্য সর্বসাধারনের কাছে প্রকাশ করার বিষয়ে প্রশ্ন তুললেও নমুনা সব সময় গ্রাহক পর্যায়(বাজার) থেকে সংগ্রহ করার বিধান। কারন উৎস স্থল হতে নমুনা সংগ্রহ করা হলে নমুনায় প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে না। উন্নত দেশগুলিতে তেইশটি প্যারামিটারে দুধের পরীক্ষা করার বিধান থাকলেও রাস্ট্রীয় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর সীমাবদ্ধতা ও সক্ষমতা না থাকায় দেশে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও গবেষনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করলে দেশে মুক্ত চিন্তা, মতপ্রকাশ ও স্বাধীনতা খর্ব হবে মলে মতপ্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীন শিক্ষক, বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টারের পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবম ফারুক নিতান্তই জাতির বিবেকের তাড়নায় গবেষনাটি সম্পাদন করেছেন। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির বিবেক হিসাবে জাতির যে কোন ক্রান্তিকালে জাতিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় পাস্তুরিত দুধ নিয়ে যখনই নানা তর্কবিতর্ক হচ্ছে, তখনই প্রফেসর আ ব ম ফারুক এগিয়ে এসেছেন জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে, সেকারনে তাঁর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। তিনি তাঁর গবেষনায় পাস্তুরিত তরল দুধের সমস্যাগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি তরল দুধ ভালভাবে ফুিটয়ে পান করলে তার ব্যাকটেরিয়া গুলি ধ্বংস হবে বলেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর গবেষনায় যে সমস্ত অসংগতি ও দুর্বলতা ফুটে উঠেছে তা প্রাণিসস্পদ বিভাগ, বিএসটিআই ও দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলি তা সংশোধনের দিকে নজর না দিয়ে উল্টো তাঁকে নানাভাবে হেনস্তা, হয়রানি ও হুমকি প্রদান করে দেশের ১৬ কোটি ভোক্তার নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির বিষয়কে ভয়াবহ হুমকিতে ফেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বারবার সরকারী-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গবেষনা কার্যসম্পাদনের জন্য বারবার তাগিদ প্রদান করছেন। সে জায়গায় গবেষনা তথ্য জনসাধারনের কাছে প্রকাশ করায় উল্টো প্রবীন অধ্যাপকের প্রতি বিরুপ মন্তব্য করা কোনভাবেই শোভনীয় নয়।

অন্যদিকে হাইকোর্ট যে চার প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিতে পাস্তুরিত তরল দুধ পরীক্ষার আদেশ দিয়েছেন, সেগুলো হলো জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর-বি) এবং সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট এ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিএসটিআইকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাজার থেকে দুধের নমুনা সংগ্রহ করে সংগৃহীত নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিক, ডিটারজেন্ট, ব্যাকটেরিয়া, কলিফর্ম, অ্যাসিডিটি, স্টাইফলোকাস্টেস ও ফরমালিন আছে কিনা তা পরীক্ষা করে চারটি গবেষণাগারকে আলাদাভাবে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে এটি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য বাজারে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নমুনা পরীক্ষা করে সেগুলোয় অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পরীক্ষার ফলাফল গত ২৫ জুন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টারের পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরীক্ষায় পাস্তুরিত দুধের সাতটি নমুনার সবগুলোতেই লেভোফ্লক্সাসিন ও সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং ছয়টি নমুনায় এজিথ্রোমাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের চারটি নমুনায় ডিটারজেন্ট এবং অপাস্তুরিত দুধের একটি নমুনায় ফরমালিন পাওয়া গেছে বলে জানান এ গবেষক। পাস্তুরিত দুধের ব্র্যান্ডগুলো হলো মিল্ক ভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ, ইগলু, ইগলু চকোলেট ও ইগলু ম্যাংগো। পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতির কথা জানানোর পর পরীক্ষার মান নিয়ে বিতর্ক ওঠে। এর মধ্যেই দ্বিতীয় দফা পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন গবেষকরা। বাজার থেকে সংগৃহীত ১০টি নমুনার সবগুলোতেই অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কথা জানান গবেষক আ ব ম ফারুক। প্রথমবারের মতো এবারো পাঁচটি কোম্পানির সাতটি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধের ও তিনটি খোলা দুধের নমুনা একই জায়গা থেকে সংগ্রহ করে নিয়ম অনুযায়ী একই ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। ফল আগের মতোই উদ্বেগজনক। এবারো সব নমুনাতেই অ্যান্টিবায়োটিক শনাক্ত করা গেছে। অ্যান্টিবায়োটিকের মোট সংখ্যা ছিল চারটি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও লেভোফ্লক্সাসিন)। এর মধ্যে প্রথমবার ছিল না এমন অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে দুটি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোফ্লক্সাসিন)। ১০টি নমুনার মধ্যে তিনটিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে চারটি, ছয়টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে তিনটি এবং একটিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে দুটি।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, যুগ্ন সম্পাদক আবু মোশারফ রাসেল, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক এএম তৌহিদুল ইসলাম, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি

পুলিশ কনস্টেবল পদে নির্বাচিত হয়েই চাঁদাবাজি

নিউজ ডেস্ক::

পুলিশের কনস্টেবল পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েই চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন রাকিবুল হাসান শান্ত (২৩) নামে এক যুবক। আজ মঙ্গলবার দুপুরে যশোর শহরের সিটি প্লাজায় পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তিনি আটক হন। এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশের ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। আটক শান্ত যশোর শহরতলী পালবাড়ি গাজীরঘাট এলাকার শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে। তাকে আইডি কার্ড তৈরিতে সহায়তা করায় মামুন হোসেন জনি নামে আরেকজনকে আটক করা হয়েছে। মামুন হোসেন জনি শহরের নতুন খয়েরতলার মোশাররফ হোসেনের ছেলে।

কোতয়ালী থানা পুলিশের এসআই ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রকিবুল হাসান শান্ত নামে ওই যুবক সিটি প্লাজার এসএস ফ্যাশনে গিয়ে নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন। এ সময় তিনি দোকান কর্মচারী সাইফুল ইসলামের কাছে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কর্মচারীকে তিনি একথা বলেন যে, মায়ের চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু ৫ লাখ টাকা যোগাড় হয়েছে। এ জন্য বাকি ৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করছেন। কিন্তু কর্মচারী সাইফুল ইসলাম দাবিকৃত ৫ হাজার টাকা দিতে অস্বীকার করলে রকিকুল হাসান শান্ত দোকানের কাগজপত্র দেখতে চান। এছাড়া দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এসময় দোকানের বাইরে থাকা দোকান মালিক শাহ আলমকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান সাইফুল ইসলাম। পরে দোকান মালিক শাহ আলম এসে পুলিশ পরিচয়দানকাী রকিবুল হাসান শান্তর কাছে চাকরির কর্মস্থল জানতে চান। এ সময় রকিবুল হাসান শান্ত তাকে জানান তিনি কুষ্টিয়া মডেল থানায় কর্মরত। কিন্তু তার কাছে পুলিশ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের এক পর্যায়ে রকিবুল হাসান শান্ত অবস্থা বেগতিক দেখে দোকান কর্মচারীর পা জড়িয়ে ধরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে মাফ চান। এ সময় সেখানে আরও লোকজন জড়ো হয়ে যায়। তাদের সামনেই রকিবুল হাসান শান্ত স্বীকার করেন যে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শহরের পালবাড়ি গাজীরঘাট রোড এলাকার শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে তিনি। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং অবসরপ্রাপ্ত বিশেষ বাহিনীর সদস্য।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে সিটি প্লাজায় গিয়ে তারা রকিবুল হাসান শান্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশের একটি ভুয়া আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়। আইডি কার্ডে তাকে দেখা যায় পুলিশের পোশাকে নায়েক ব্যাচের র‌্যাঙ্ক লাগানো রয়েছে। পরে জিজ্ঞাসবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, পালবাড়ি এলাকার ‘এবি মাল্টিমিডিয়া’ নামে একটি দোকানের কর্মচারী মামুন হোসেন জনি তাকে পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ড বানিয়ে দিয়েছেন। ৩ দিন আগে ১২০ টাকা দিয়ে তিনি তার কাছ থেকে ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে এনেছেন।

পুলিশ জানায়, পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ড বানিয়ে দেওয়ার অভিযোগে পরে মামুন হোসেন জনিকে আটক করা হয়। এ সময় মামুন হোসেন জনি নিজের দোষও স্বীকার করেছেন। সূত্র জানায়, ওই দোকান থেকে কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া দোকান থেকে একাধিক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের ডুপ্লিকেট উদ্ধার করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে কোতয়ালী থানা পুলিশের ওসির দায়িত্বে থাকা ইনসপেক্টর (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার জানান, পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা: দু’জন বাংলাদেশী নিহত, আহত পাঁচ, দু’জন নিখোঁজ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত দু’জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন বলে সেখানে বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দূতাবাসের অনারারী কনসাল শফিকুর রহমার ভুইয়া বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, দু’জন বাংলাদেশীর পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা এখন পর্যন্ত নিশ্চি হয়েছেন।
তিনি বলেন, নিহতদের একজন ড. আবদুস সামাদ, যিনি স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। ড. সামাদ বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন বলে তিনি জানান।
নিহত অন্যজনের পরিচয় সম্পর্কে মি. ভুইয়া বলেন যে মিসেস হোসনে আরা একজন গৃহবধূ ছিলেন।
মসজিদে হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশী আহত হয়েছে বলে বাংলাদেশের দূতাবাস এখন পর্যন্ত খবর পেয়েছে।
এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানান মি. ভুইয়া।
এছাড়া, গোলাগুলির ঘটনার পর দু’জন নিখোঁজ রয়েছে।
অনারারী কনসাল জানান, নিখোঁজদের মধ্যে একজন ড. আবদুস সামাদের স্ত্রী।
আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে অনেক মুসলমান জড়ো হয়েছিলেন। এমন সময়ে সেখানে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনা ঘটে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, মসজিদে হামলার ঘটনায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

তরুণদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়বার স্বপ্নের কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী

সিটিজি বাংলাঃ

ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগ, পরামর্শ ও চাওয়া-পাওয়ার কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানে তরুণদের মুখোমুখি হন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বর্তমান প্রজন্মের সাথে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। সেই সাথে তরুণদের কাছ থেকে গ্রহণ করেন দেশ গঠনে তাদের পরিকল্পনা ও পরামর্শের কথা।
সিআরআই-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তরুণরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায় অথবা তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলে কোন কোন সমস্যার সমাধান করবে’- এমন অনেক বিষয়ে আলোচনা হয় এবারের লেটস টক-এ।
প্রধানমন্ত্রী সারাদেশ থেকে আসা ১৫০ জন অংশগ্রহণকারী তরুণের সাথে দেশের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী বিষয়ে আলোচনা করেন। বিভিন্ন পেশাজীবী, চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত এবং দেশ গঠনে উদ্যমী তরুণ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এই আয়োজনে। সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘প্রথমবারের মতো’ প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মুখোমুখি হয়ে তাদের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন। তরুণদেরও বেশ কিছু প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের অনুপ্রেরণা প্রধানমন্ত্রী তার কৈশোর ও তারুণ্যের সময়ে ঘটে যাওয়া অজানা অনেক তথ্য তুলে ধরণের অংশগ্রহণকারীদের সাথে। এ ছাড়াও তিনি ব্যস্ততার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন, নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা নিয়েও তরুণদের সাথে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী একটি রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়েছেন তাঁর কৈশোর এবং তারুণ্য কি অন্যদের চাইতে আলাদা ছিল? কি রকম দুরন্ত সময় পার করেছেন তিনি? এমন অনেক প্রশ্নেরই উত্তর দেন তিনি। এ ছাড়াও কৈশোর ও তারুণ্যে রাজনীতিতে যোগদান, স্কুলের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে যোগ দান, মুক্তিযুদ্ধকালে তার অবরুদ্ধ জীবন, ৭৫ সালে দেশের বাইরে তার পরিবারের কঠিন জীবনযাপন, ১৯৮০ সালে লন্ডন যাওয়া, রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের অনুপ্রেরণা, দেশের মানুষের কাছে ফিরে আসা এমন আরো অনেক বিষয়ে অজানা তথ্য তরুণদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তরুণদের কাছ থেকে আসা এমন আরো সব আকর্ষণীয় প্রশ্ন ও তার উত্তর নিয়ে অপেক্ষা করছে ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় তা প্রচার হবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
তরুণরা যাতে দেশের নীতি নির্ধারকদের সাথে খোলামেলাভাবে আলোচনা করতে পারেন এবং নিজেদের ভাবনা ও সমস্যাগুলোর কথা নীতি নির্ধারকদের কাছে পৌঁছাতে পারেন সেজন্য সিআরআই নিয়মিত আয়োজন করে আসছে লেটস টক।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদকে নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার লেটস টক আয়োজন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আয়োজন করা হয় ‘লেটস টক’ উইথ শেখ হাসিনা’।সূত্রঃ বাসস

বঙ্গভবনে ড. কামাল হোসেন

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বঙ্গভবনে দাওয়াতে গেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তার সঙ্গে রয়েছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

এর আগে বেলা ১২টায় রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের র্শীষ নেতারা বৈঠকে বসেন। এতে ড. কামাল হোসেন ছাড়াও সরকারবিরোধী জোটের নেতা সুলতান মো. মনছুর, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার ও সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

তারেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসি’র প্রতি নাসিমের আহ্বান

সিটিজি বাংলাঃ

আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

আজ সোমবার দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিজিটাল চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে এ আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কারণ নির্বাচন কমিশনের বিধি লংঘন করে কেউ যদি কোনো বক্তব্য দেয়, আচরণবিধি লঙঘন করে, তাহলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে তারা যেন কঠোর ব্যবস্থা নেন। ’

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে এসেছে এটা স্বস্তির খবর, ভাল খবর। আশা করি, তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে এবং জনগণের রায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুুষ্ঠু নিরপেক্ষ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এটা নিশ্চিত। কারচুপির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচন কমিশনও বলেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সব দল নির্বাচনে আসায় দেশে ভোটের উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে নির্বাচনমূখী হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রোগীদের জন্য অত্যাধুনিক রেজিস্ট্রেশন বুথ ও অটোমেশন পদ্ধতি উদ্বোধনের সময়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ বি এম মাকসুদুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভে ইংরেজী লেখা প্লেকার্ড, এনজিও’দের দায়ী করছেন স্থানীয়রা

সিটিজি বাংলাঃ

ছবি: কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধে এনজিওদেরকে দ্বায়ী করেছে স্থানীয়রা। প্রত্যাবাসন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগন। একই সাথে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়ার কাজে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরও শাস্তির দাবী জানান সচেতন মহল। তাদের দাবী মিয়ানমার প্রত্যবাসনের দিনক্ষন ঠিক করে প্রত্যাবাসন না হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে তারা এখন সুযোগ নিবে এবং বহির্বিশ্বকে উল্টো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বুঝিয়ে সমালোচনা করবে এবং ভবিষ্যতে রোহিঙ্গারা আর ফিরে না যাওয়ারও যথেষ্ট সম্ভবনা আছে বলে দাবী করেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।

উখিয়া উপজেলা সুজন সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আসার পরে মিয়ানমার সরকার প্রথমে রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিক নয় বলে দাবী করেছিল, পরে আবার কিছু সীমান্তবর্তী মানুষকে অনধিকার প্রবেশ করানোর জন্য উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করেছিল। পরে বাংলাদেশের সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের তাদের নাগরিক হিসাবে স্বীকার করে প্রত্যাবাসনের জন্য রাজি হয়। এর পরে অনেক চুক্তি আর সময় ক্ষেপনের পর ১৫ নভেম্বর কিছু রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহন করে। কিন্তু বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারেনি এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখ জনক। সেদিন রোহিঙ্গারা যেভাবে শ্লোগান দিচ্ছিল এবং আমাদের দেশের অনেক সরকারি কর্মকর্তাদেরও নাজেহাল করছিল এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। এতে তাদের ভেতরে অপরাধবোধ জন্ম নেবে, এটা আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকারক হবে।

উখিয়ার ডিগলিয়াপালংয়ের মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, সীমিত সংখ্যক হলেও যে মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসন শুরু করেছে এটাই আমাদের জন্য ভাল খবর ছিল। পরে যে অবস্থা দেখলাম এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জা জনক। রোহিঙ্গাদের জন্য গাড়ী বহর ছিল, খাবার দাবার ছিল, বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা বাহিনী ছিল তার পরও কেন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো গেল না? এরা কি আমাদের দেশের আইন শৃংখলার বাইরে। এছাড়া আরো একটি দেখার বিষয় আছে,রোহিঙ্গাদের হাতে যে সমস্ত প্লেকার্ড ছিল তা ইংরেজীতে লেখা আর তাদের মুখে যে শ্লোগান ছিল তা অবশ্যই কারো না কারো শিখিয়ে দেওয়া। কারন রোহিঙ্গারা ইংরেজী লিখতে পারেনা, পারলেও প্রত্যাবাসন বিরুধী এত সুন্দর করে লিখতে পারার কথা না। এটা নিশ্চই কোন এনজিওর লোকজন তাদের লিখে দিয়েছে এবং শিখিয়ে দিয়েছে। তাই স্থানীয় জনগন হিসাবে আমরা দাবী করছি আগে সে সমস্ত এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হউক।

টেকনাফ উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবুল হোসেন রাজু বলেন, এতদিন আমরা অপেক্ষা করে ছিলাম মিয়ানমান কখন প্রত্যবাসনের জন্য রাজি হচ্ছে কিন্তু যখন তারা রাজি হলো আমরা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারলাম না। আগে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সহ সব আর্ন্তজাতিক সংস্থার কাছে গিয়ে বলতো রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে কিন্তু এখন মিয়ানমান সব জায়গায় গলা উচু করে বলবে আমরা ফেরত আনতে রাজি ছিলাম কিন্তু বাংলাদেশ ফেরত দিতে পারেনি। এতে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে। একই সাথে রোহিঙ্গাদের যে সমস্ত দাবীর কথা বলে ফেরত যায়নি আদৌ কি সেই সব দাবী কি পূরন করা সম্ভব? এসব দাবী একশত বছরেও পূরন হবে না বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। সুতরাং রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে সেটা অনেকটা নিশ্চিত। একই সাথে যে সমস্ত এনজিও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে তাদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাচ্ছি।

টেকনাফের সাবেক কমিশনার আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে খুবই ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। কারন রোহিঙ্গারা যদি আন্দোলন করে ফেরত যাওয়া বন্ধ করতে পারে তাহলে তাদের ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে নেওয়া খুব কঠিন হবে। আর রোহিঙ্গার কারনে যাদের লাভ হচ্ছে তারাই রোহিঙ্গাদের ফেরত না যেতে উৎসাহিত করছে বলে আমরা খবর পেয়েছি এর ফলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি তাদের হাতে জিম্মি হয়ে থাকবে নাকি আমরা ভিটামাটি ছেড়ে চলে যাব?

রামু কলেজের অধ্যাপক আবু তাহের বলেন,যখন থেকে শুনেছি রোহিঙ্গা প্রত্যবাসন হচ্ছে তখন থেকে একটি ভাল লাগা কাজ করছিল কিন্তু একটি সংশয়ও মনের মধ্যে ছিল আদৌ প্রত্যাবাসন হবে কিনা কারন রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মায়ানমারে যে নাগরিক সুবিধা পায়নি তার চেয়ে শতগুন সুযোগ সুবিধা বাংলাদেশে পাচ্ছে। তারা এখন ভাত কাপড়ের পাশাপাশি কথা বলা এমনকি আন্দোলন করারও সুযোগ পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা ফেরত না যাওয়াটা আমার মতে স্থানীয়দের জন্য একটি বড় অশনি সংকেত। আর সে দিন টিভিতে যেভাবে খবরে দেখলাম রোহিঙ্গারা যেভাবে বেপরোয়া ভাবে আন্দোলন করছে এটা কোন ভাবেই আমাদের জন্য মঙ্গল জনক নয়। কারন সুযোগ পেলে তারা অন্যকিছুর জন্য এভাবে আন্দোলন করতে পারে। আর ১২ লাখ রোহিঙ্গা যদি আন্দোলনে নামে তাহলে পরিস্থিতি কি হতে পারে সেটা সহজে অনুমেয়। তাই সময় থাকতে আমাদের সাবধান হতে হবে যে কোন ভাবেই হউক রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে শক্ত উদ্যোগ নিতে হবে।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ বারী বলেন,রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আলোচনার ভেতরে যখন জাতিসংঘ বিবৃতি দিচ্ছে মিয়ানমার এখনো প্রস্তুত না তখনি আমি মনে করেছিলাম প্রত্যাবাসন বোধয় বাধা গ্রস্থ হবে। কারন আর্ন্তজাতিক মহল রোহিঙ্গা ইস্যূ নিয়ে অনেক ধরনের রাজনীতি করছে। তবে কম হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হওয়াটা খুব জরুরী ছিল,কারন একটা প্রক্রিয়া শুরু হলে সেটা ধারাবাহিক থাকতো। এখন পুরু প্রক্রিয়াটাই বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম বলেন,এখনো সব কিছু শেষ হয়ে যায় নি,তবে রোহিঙ্গারা সেচ্ছায় ফিরতে চাইলেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে সচেতন মহলের দাবী রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার সম্ভবনা খুবই কম।

উখিয়া প্রত্যবাসন সংগ্রাম ও রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গারা চলে গেলে কতিপয় এনজিওদের চাকুরী থাকবেনা। মোটা অংকের বেতন গুনতে পারবেনা আর। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কতিপয় এনজিওরা উস্কানী দিচ্ছে।