চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

অর্থনীতি

গ্রামীণফোনের কলড্রপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

সিটিজি বাংলাঃ

গ্রামীণফোনের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের কলড্রপ নিয়ে সোমবার সংসদে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ ব্যাপারে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, গ্রামীণফোন ব্যবসার জন্য কলড্রপ করে। একটা কলে চার-পাঁচবার কলড্রপ, এটা বাস্তবসম্মত না। এর বিরুদ্ধে একটা পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে এ বিষয়ে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এসময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামীণফোনকে বেসরকারি খাতে ব্যবসার জন্য লাইসেন্স দিয়েছিলেন। ইদানীং একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, গ্রামীণফোনের প্রত্যেকটা কলে ‘কলড্রপ’ হয়। একেকটা কলে তিন থেকে চার-পাঁচবার পর্যন্ত কলড্রপ হয়। দেখা যায় একটা কল বারবার করতে হয়। এ ব্যাপারে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধও করেছি।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেখা যায় আমরা মোবাইলে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছি, কিন্তু হঠাৎ কলড্রপ। এছাড়া আমরা যখন বিদেশে যাই, আমাদের ফোন রোমিং থাকে। বিদেশ থেকেও একটা ফোন করলে একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তারা ব্যবসার জন্য কলড্রপ করে। তাও একবার-দুইবার নয়, চার-পাঁচবার কলড্রপ হয়। সুতরাং গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এর একটি ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশে প্রায় ৭ কোটির ঊর্ধ্বে গ্রাহক আছে গ্রামীণফোনের। সে হিসেবে বাজারের বড় অংশটাই তাদের দখলে।

তোফায়েল বলেন, ড. ইউনূসকে এই গ্রামীণ টেলিফোন দেয়া হয়েছিল। এর লাভের একটি অংশ গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে জড়িত সাধারণ মানুষের পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা পাচ্ছে কি না, জানি না।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকার পণ্য জব্দ

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

কাস্টম হাউসে জব্দকৃত পণ্য

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য আমদানি করায় ঢাকার জেএমকে এন্টারপ্রাইজের ১ কোটি ৭ লাখ টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

৯ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একটি দল চালানের এই অতিরিক্ত পণ্য জব্দ করে।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিদেশ থেকে আমদানি করা ঢাকার জেএমকে এন্টারপ্রাইজের চালানটির খালাস স্থগিত করে পণ্যগুলো পরীক্ষা করা হয়।

এতে দেখা যায়, ২ হাজার ৭৮২ দশমিক ৫০ কেজি বল বেয়ারিংয়ের জায়গায় ২৩ হাজার ৭৭৪ কেজি এবং বেয়ারিং হাউজিং ১৯ হাজার ৩৯৫ কেজির জায়গায় ৩ হাজার ৯৮৮ কেজি পণ্য আমদানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

যার শুল্কসহ পণ্যের মূ্ল্য ৮২ লাখ টাকা এবং মোট শুল্ককর ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ চালানটির ঘোষণাতিরিক্ত ১ কোটি ৭ লাখ টাকার পণ্য আমদানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব খালাসের দায়িত্বে ছিলো চট্টগ্রামের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।

এসময় জব্দ করা পণ্য চট্টগ্রামের কমিশনার কাস্টমস হাউসে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হলো আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

জাম্বুরী পার্ক উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও বনার্ঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম নগরীর বাণিজ্যেক এলাকা আগ্রাবাদের জাম্বুরী মাঠ খ্যাত বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা ‘জাম্বুরি পার্ক’ এর অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।

 

৮ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকালে নগরীর আগ্রাবাদ শিশু পার্কের পাশে বৃহৎ পরিসরের গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে তৈরি করা এ জাম্বুরী পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিডিএ’র চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

গণপূর্ত বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, ৮ দশমিক ৫৫ একর জমির ওপর বিশাল এলাকাজুড়ে এ পার্ক করতে ব্যয় করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। জাম্বুরী পার্কে রয়েছে সাড়ে তিনফুট গভীরতার বিশাল কৃত্রিম লেক। এর পাড়ে পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ফলদ ও বনজ গাছ। রয়েছে বসার আসন ও সুদৃশ্য ফোয়ারা। হ্রদের পাশ দিয়ে পায়ে হাঁটার পথ। পার্ক এলাকায় দুটি গণশৌচাগার, গভীর নলকূপ ও একটি বিদ্যুতের উপকেন্দ্র রয়েছে। পার্কে প্রবেশের জন্য রয়েছে ছয়টি গেট। নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব রয়েছেন ছয়জন কর্মী। পার্ক পরিস্কার রাখতে এখানে কোনো রেস্তোঁরা রাখা হয়নি। এমনকি পার্কে প্রবেশে কোনো প্রবেশ ফি নেই। পার্কটিতে সন্ধ্যার পর বর্ণিল আলোকসজ্জায় মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করতে লাগানো হয়েছে অসংখ্য আলোক সজ্জা।

 

আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের ঝর্নার ফোয়ারা

এছাড়াও পার্কে লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে শিউলি, নাগেশ্বর, সোনালু, টগর, কৃষ্ণচূড়া, শিমুল, রাধাচূড়া, কাঁঠালচাঁপা, বকুল, মৌ সন্ধ্যা, নয়নতারা, জারুলসহ বিভিন্ন ফুলের গাছ। লেকের ধার দিয়ে চলে গেছে পায়ে চলার পথ, যা ব্যায়াম এবং হাঁটার উপযোগী। এখানে থাকবে ড্যান্সিং লাইট, দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা ও একাধিক ঝরনা। নির্মিত হবে ক্যাফেটেরিয়া, আকর্ষণীয় গ্লাস ব্রিজসহ ১৩৮টি সিটিং বেঞ্চ। এছাড়া থাকছে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থাও।

 

এছাড়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের শরীর চর্চার সুবিধার্থে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তাছাড়া বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯ টা পার্কটি বিনোদন পিপাসুদের জন্য খোলা রাখা হবে সপ্তাহের সাতদিনই।

 

জাম্বুরী পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আবদুল্লাহ নূর জানান, সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে আর কম্পাউন্ড রোড মিলে ৮ হাজার রানিং ফুটের পার্কটির মাঝে ৫০ হাজার বর্গফুটের জলাধার রাখা হয়েছে। জলাধারের কিনারায় বসার জন্য তিনটি বড় গ্যালারি রাখা হয়েছে। মাঠজুড়ে সাড়ে পাঁচশ লাইটের পাশাপাশি নজরকাড়া দুইটি বর্ণিল ফোয়ারা রয়েছে এ পার্কে। ফলে সন্ধ্যার পর আলো ঝলমলে হয়ে ওঠে পার্কটি।

 

আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের রাতের আলোক সজ্জা

তিনি আরো জানান, এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল শারীর চর্চার জন্য প্রশস্ত ও দীর্ঘ জগিং ট্র্যাক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মানসিক প্রশান্তির জন্য উন্মুক্ত উদ্যান এবং নির্মল বাতাসের জন্য জলাধার স্থাপন। পার্কের ভেতরের ও বাইরের পানি নিষ্কাশনের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ মাস্টার ড্রেন। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি থেকে পার্কটি সুরক্ষার জন্য পুরো পার্কটি ৩ ফুট উঁচু করা হয়েছে।

তিনি জানান, পার্কের চার কর্নারে চারটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা রাখা হয়েছে। যার মধ্যে দুইটি টয়লেট ব্লক, একটি গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ অফিস, একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র। আড়াই হাজার ফুট দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন সীমানাপ্রাচীরের পাশেও রাখা হয়েছে ওয়াকওয়ে। পার্কে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৬টি ফটক। জলাধারের পাশে রয়েছে দুইটি পাম্প হাউস। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। মাঠজুড়ে লাগানো হয়েছে ৬৫ প্রজাতির ১০ হাজার গাছের চারা।

জাম্বুরী পার্কের জনবহুল পরিবেশ

পার্কটি ঘুরে পরিবেশ ও বিনোদন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরণের মুক্ত একটি পার্ক হওয়ায় অত্যন্ত জরুরি ছিল এবং তা চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ করে দেখিয়েছেন। তবে যদি দীর্ঘমেয়াদে ফোয়ারার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, লাগানো ঘাস ও চারাগাছগুলোর পরিচর্যা করা হয় তবে শুধু চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের হাঁটা বা শরীরচর্চার ক্ষেত্র শুধু নয় জাম্বুরি পার্ক দেশি-বিদেশি পর্যটকদেরও দৃষ্টি কাড়বে বলে মনে করছি।

 

এদিকে উদ্বোধনী দিনে দর্শনার্থীদের চাপে উদ্বোধনের আগেই পার্কটি খুলে দেয়া হয়েছে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা বয়সী মানুষের ভিড় করে এই পার্কে। গত একমাস ধরে পার্কটিতে শত শত মানুষের ভীড় লেগেই রয়েছে বলে পার্ক সূত্র জানিয়েছে।

চট্রগ্রাম রেকর্ড পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ: দামে কেনায় বিপাকে ক্রেতারা

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

 

প্রক্রিয়াজাতকরণ চামড়া

চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন এখানকার আড়তদারেরা। এখন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি চামড়া সংগ্রহের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

২৪ আগষ্ট শুক্রবার পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার থেকে ছাড়িয়ে গেছে চামড়া সংগ্রহ করা। এখন চলছে এইগুলোর প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ।

তবে আড়তদারদের অভিযোগ করেছেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীর কারণে এবার বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করতে হয়েছে তাদেরকে।

এবার চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সাড়ে ৫ লাখ পিস। এই লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যে অর্জন করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছে চামড়ার আড়তদার ব্যবসায়ীরা।

কোরবানির পর থেকে অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া সংগ্রহ শুরু করেছেন। পরে সেগুলো নগরীর বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে জড়ো করেন। সন্ধ্যার পর থেকে সেগুলো যেতে শুরু করে নগরীর আতুরার ডিপোর চামড়ার আড়তে। দুইদিন দুই রাত চামড়া সংগ্রহ করেন আড়তদারেরা। সেই সঙ্গে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ চলতে থাকে আড়তে।

চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, আতুরার ডিপোতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লাখের মতো চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। আরও প্রায় দুই লাখ চামড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন গ্রাম বাংলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সংগ্রহ করা আছে। ওগুলো এখানে চলে আসবে শনিবারের মধ্যে।

এবার সরকারি ভাবে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দর ফুটপ্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা।
তবে সরকারি দরে কাঁচা চামড়া কেনা যায়নি বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে।

চট্টগ্রামের ১১২ জন আড়তদার এবার প্রতিটি চামড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ওই দামে তাঁরা কিনতে পারেননি বলে জানা গেছে।

আতুরার ডিপো এলাকায় রফিক নামের এক আড়তদার জানান, ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায়ও চামড়া কিনতে হয়েছে। চামড়ার চেয়ে মৌসুমী ক্রেতা বেশি হওয়ায় বেশি দামে কিনতে হয়।

চট্টগ্রাম চামড়া আড়তদার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, ‘বাড়তি দামে কাঁচা চামড়া কিনতে হয়েছে আড়তদারদের। প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচসহ কোনোভাবেই সরকারি দরে চামড়া বিক্রি করা যাবে না। আড়তদারদের এই চামড়া নিয়ে বিপাকে থাকবে।’

সরকারি দামে বিক্রি হচ্ছে না চামড়া: বাড়ছে পাচারের আশঙ্কা

 

সিটিজি বাংলা, অর্থনীতি ডেস্ক:

কোরবানির পশুর চামড়া

 

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয়ের কথা থাকলেও তার চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে। কুরবানিকৃত পশুর চামড়া বা বিক্রয়লব্ধ টাকা সমাজের গরীব-দুঃস্থ এবং এতিমখানায় দান করে হয় বলে তারাই মূলত চামড়ার এই নিম্ন মূল্যের কারণে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

মূলত স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী, ফড়িয়া বা মৌসুমী ক্রেতারা তৃণমূল পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহ করে তা বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে থাকে।

 

এবার সরকার নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি বড় গরুর চামড়া ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকায়, মাঝারি আকারের ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় আর ছোট আকারের চামড়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় সংগ্রহ করছে ক্রেতারা। তবে, খাসি, ভেড়া বা বকরির চামড়া কিনতে প্রতিবারের মতো এবারও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম দেখা গেছে।

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে উৎপাদিত মোট চামড়ার ৬০ শতাংশই সংগ্রহ করা হয় কোরবানির ঈদে। যার মধ্যে গরুর চামড়া ৬৫ শতাংশ, মহিষের চামড়া ২ শতাংশ, খাসির চামড়া ৩২ শতাংশ এবং ভেড়ার চামড়া ১ শতাংশ।

 

সরকারী হিসাব অনুযায়ী, এবারের কুরবানীর ঈদে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ গবাদি পশু কোরবানি হওয়ার কথা। যার মধ্যে রয়েছে গরু-মহিষ ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া ৭১ লাখ। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪ লাখ ২২ হাজার।

 

বাংলাদেশে প্রাপ্ত ৩০ কোটি বর্গফুট চামড়ার মধ্যে গরুর চামড়া ৭০ লাখ পিস, ছাগল এক কোটি পিস এবং মহিষ ও ভেড়ার চামড়া ১৫ লাখ পিস। দেশে অভ্যন্তরীণ চামড়ার চাহিদা ২ দশমিক ৭৫ কোটি বর্গফুটের মতো। আর বাকিটা রফতানি হয়।

 

বর্তমানে চামড়া শিল্প থেকে বাংলাদেশের রফতানি আয় হচ্ছে ১১৬ কোটি মার্কিন ডলার। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চামড়া শিল্প থেকে আয় হয়েছিল ১৩৮ কোটি এক লাখ মার্কিন ডলার। পরের অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১২৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।

 

বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘সাভারে ট্যানারি পল্লী স্থানান্তরিত হওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াজাত ক্ষমতা আগের থেকে দুই-তিনগুণ বেড়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত কাঁচা চামড়া না পাওয়ায় রফতানি সম্ভাবনাকে আমরা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছি না।’

 

পর্যাপ্ত চামড়া রফতানি করা গেলে ২০২১ সালের মধ্যে এ খাত থেকে আমাদের বৈদেশিক আয় ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করেন শাহীন আহমেদ।

 

ট্যানারী মালিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারক এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রায় প্রতি বছর কোরবানির পরপরই দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথে কাঁচা অবস্থাতেই লবন মাখানো চামড়া পাচার যায়। ফলে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

 

এ প্রসঙ্গে জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল লতিফ খান বলেন, সরকার কর্তৃক চামড়ার মূল্য কমরেটে নির্ধারণ করে দেবার কারণে সীমান্তবর্তী জেলা থেকে তা মোকামে আসছে না। এসব চামড়া সীমান্ত পথে পাচার হয়ে যাবার আশংকা করছেন তিনি।

 

তিনি আরো জানান, ট্যানারী মালিকরা তাদের পাওনা পরিশোধ না করার কারণে এবং কোনো রকম ঋণ সহায়তা না পাবার কারণে চামড়া ব্যবসায়ীরা সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

 

এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ চামড়া পাচার রোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে এ শিল্পটি ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

এদিকে, কোরবানি পশুর চামড়া পাচার ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ইতোমধ্যেই সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

বিশ্বে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়তে পারে

সিটিজি বাংলা, আন্তর্জাতিক:

প্রতিকী ছবি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আসন্ন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিখ্যাত হেজ ফান্ড এ সতর্কবার্তা দিয়েছে।

 

আগামী ৪ নভেম্বর থেকে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।
আমেরিকা বলছে, সেই নিষেধাজ্ঞা এত কঠোর হবে যে, তার ফলে ইরান বিশ্বের কোথাও জ্বালানি তেল বিক্রি করতে পারবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি তেলের শূন্যস্থান পূরণ করবে সৌদি আরব। এজন্য দেশটি প্রতিদিন বাড়তি ২০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের এ বক্তব্য সঠিক নয়। কারণ এটা এক কাপ কফি অর্ডার করা নয়; কেউ চাইলেই এক কাপ কফির মতো ২০ লাখ ব্যারেল তেলের অর্ডার দিতে পারে না।
গত ৮ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

 

এরপর গত ৬ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর প্রভাবে এরইমধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলার ছাড়িয়েছে।

বুধবার থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, চাপ সামলাতে প্রস্তুত নতুন ৪১টি কোচ

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

 

চট্টগ্রাম রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আসন্ন কোরবানি ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুধবার থেকে।

৭ আগষ্ট মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সরদার সাহাদাত আলী।

তিনি জানান, আগামী ২২ আগস্ট কোরবানির সম্ভাব্য দিন ধরে রেলওয়ের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৮ আগস্ট বুধবার সকাল আটটা থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে।

৮ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের নিয়মিত ট্রেনগুলোর ১৭ থেকে ২১ আগস্ট যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে দুইটি স্পেশাল ট্রেন কোরবানির আগে ১৮ থেকে ২১ আগস্ট চার দিন এবং কোরবানির পর ২৪ থেকে ৩০ আগস্ট সাত দিন চলাচল করবে।

 

রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) সৈয়দ ফারুক আহমদ জানান, কোরবানির অগ্রিম টিকিট বিক্রি ও নির্বিঘ্নে ট্রেন পরিচালনার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ সামলাতে ৭৫টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পাহাড়তলীর বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (কারখানা) এফএম মহিউদ্দিন জানায়,
৭৫ টির মধ্যে ইতিমধ্যে ৪১টি কোচের কাজ শেষ হয়েছে এবং এগুলো আসন্ন কোরবানি ঈদের চাপ সামলাতে ব্যবহার করা হবে।

তিনি আরো জানান, কারখানার ২ হাজার ২০০ অনুমোদিত পদের মধ্যে আছেন ১ হাজার ৫০ জন। অর্ধেকের কম জনবল দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৭৫টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। সকাল ও বিকাল দুই পালায় শ্রমিকরা কাজ করছেন। প্রয়োজন অনুসারে দুই ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজও করানো হচ্ছে।

 

আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে বাকি ৩৪টি কোচ মেরামতের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

বঙ্গোপসাগরে ১১০০ টন গম নিয়ে ডুবে গেছে লাইটার জাহাজ

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

 

প্রতিকী ছবি

বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলের কাছে ১১০০ টন গম বোঝাই একটি লাইটার জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

৭ আগষ্ট মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম বন্দর সীমা থেকে ৭ নটিক্যাল মাইল দূরে দুটি লাইটারেজ জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের পর এমভি পাটগাটি-২ নামের জাহাজটি ডুবে যায়।

 

খবরটি নিশ্চিত করেছেন বন্দর রেডিও কন্ট্রোল রুম।

কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে বহির্নোঙ্গরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে আমদানীকৃত ১১০০ টন গম নিয়ে লাইটারেজ জাহাজ এমভি পাটগাটি-২। নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার সময় সন্দ্বীপ চ্যানেলের কাছে অপর লাইটারে জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ আসিফ-১০ সাথে ধাক্কা লেগে পাটগাটি-২ এর তলা ফেটে যায়। এতে পানি ঢুকে এটি আস্তে আস্তে ডুবে যায়।

তবে জাহােজে থাকা ১৪ জন নাকিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সর্তক বার্তা পেয়ে আসে পাশে থাকা নৌযান দিয়ে এর নাবিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনারস্থল বন্দর চ্যানেলের বাইরে হওয়ায় বন্দরে জাহাজ চলাচলে কোন ধরণের সমস্যা হচ্ছে না। তবে বর্তমানে নৌ বাহিনীর একটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌছেছে বলে জানান বন্দরের এ কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা

সিটিজি বাংলা,

 

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জন্য ২ হাজার ৪২৫ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

 

১০ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে নগর পিতা ও চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চসিকের কে বি আদুস ছত্তার মিলনায়তনে এ প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন।

 

সিটি মেয়র নাছির উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত মোট বাজেটের মধ্যে ৬৯৪ কোটি ৯২ লাখ ৮২ হাজার চসিকের নিজস্ব খাত থেকে আয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ত্রাণ সাহায্য, উন্নয়ন অনুদান ও অন্যান্য উৎস থেকে ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আশা করছি এই বাজেট চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।

এসময় কর্পোরেশনের উদ্ধোতন কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শাহাবুদ্দিন আলম : ব্যাংক লুটের কারিগর

বণিক বার্তায় প্রকাশিত সংবাদঃ

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. শাহাবুদ্দিন আলম। ভাগ্যগুণে দেশের দুই ডজন ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়েছেন। ব্যাংকগুলোও বাছবিচার ছাড়াই প্রায় জামানতবিহীন ঋণ দিয়েছে এ ব্যবসায়ীকে। ঋণের অর্থে তিনি গড়ে তুলেছেন দেড় ডজন কোম্পানি। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের ভারে নিমজ্জিত এসএ গ্রুপের এ কর্ণধার এখন চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডোবানোর। যদিও তিনি নিজেই একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালক এবং তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে শতাধিক মামলা রয়েছে পাওনাদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।

শাহাবুদ্দিন আলমের এসএ গ্রুপের অধীন অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান ‘সামান্নাজ ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেড’। ঋণের দায়ে নিমজ্জিত হয়ে কোম্পানিটি অবসায়ন বা বিলুপ্তির জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। তবে এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে ঋণদাতা অধিকাংশ ব্যাংক।

এসএ গ্রুপকে ঋণদাতা অধিকাংশ ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে কথা হয়েছে বণিক বার্তার। প্রত্যেকেই জানান, গ্রুপটিকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। নামমাত্র জামানত, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জামানত ছাড়াই শাহাবুদ্দিন আলম ঋণ পেয়েছেন। ঋণের এ অর্থ আদায়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যাংকের নির্বাহীরা।

তারা বলছেন, ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়ে শাহাবুদ্দিন আলমের মতো গ্রাহক দুর্লভ। নানা কৌশলে তিনি ব্যাংকারদের মুগ্ধ করেছেন। এতেই শত শত কোটি টাকার ঋণ তার পকেটে ঢুকেছে।

জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এসএ গ্রুপের ঋণ রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। গ্রুপটির কাছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ঋণের পরিমাণ ৪৮১ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ৪২৩ কোটি ও ব্যাংক এশিয়া সিডিএ শাখার ৩৩৮ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়ার বড় অংকের এ ঋণের বিপরীতে জামানত রয়েছে নামমাত্র।

পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া গ্রুপটিকে কেন ঋণ দেয়া হয়েছে— জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বণিক বার্তাকে বলেন, আপনি ব্যাংকার না হয়েও আমাকে এ প্রশ্ন করছেন। অথচ ব্যাংকার হয়েও আমরা নিজেকে প্রশ্নটি করতে পারিনি। এসএ গ্রুপকে ঋণ দেয়া প্রতিটি ব্যাংকই বিপদে আছে। কোম্পানি অবসায়ন আবেদনের বিরুদ্ধে ব্যাংক এশিয়া আপিল করেছে। আপিল আদেশ আমাদের পক্ষে এসেছে।

এসএ গ্রুপের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ঋণের পরিমাণ ২২১ কোটি টাকা। এছাড়া গ্রুপটির কাছে জনতা ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ঋণের পরিমাণ ২০০ কোটি, রূপালী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ১৫১ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি শাখার ১১৮ কোটি ও কৃষি ব্যাংক ষোলশহর শাখার ১০০ কোটি টাকা। পূবালী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখারও ২৮৮ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে এসএ গ্রুপের কাছে।

এসএ গ্রুপের কাছে পূবালী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে গ্রুপটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল হালিম চৌধুরী। তিনি বলেন, গ্রুপটির কাছে ব্যাংকের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে জামানত রয়েছে মাত্র ২০-২৫ কোটি টাকার সম্পদ। এজন্য আদালতে কোম্পানি অবসায়নের আবেদনের বিরুদ্ধে পূবালী ব্যাংকের পক্ষে আপিল করা হয়েছে। আদালতের আদেশ পূবালী ব্যাংকের পক্ষে এসেছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা এসএ গ্রুপকে ঋণ দিয়েছে সাড়ে ৫৩ কোটি টাকা। এছাড়া গ্রুপটিতে উত্তরা ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ঋণ রয়েছে ৫২ কোটি, প্রাইম লিজিংয়ের ৩৬ কোটি ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ১৪ কোটি টাকা। ঢাকা ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখারও ২৪৭ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে এসএ গ্রুপের কাছে।

এসএ গ্রুপকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা ছিল বলে জানান ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, এটা দুর্ভাগ্য যে, ব্যাংকিং খাতেরই একজন উদ্যোক্তা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করে কোম্পানি অবসায়নের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। গ্রুপটির কাছে ঢাকা ব্যাংকের পাওনা প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আদায়ে এরই মধ্যে মামলা করা হয়েছে। এসএ গ্রুপ কোম্পানি অবসায়নের যে আবেদন জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়েছে। আপিল আদেশ ব্যাংকের পক্ষে এসেছে। কোম্পানিটির যে পরিমাণ ঋণ আছে, সে অনুপাতে সম্পদ নেই বললেই চলে। অবসায়ন হলে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হবে।

এসএ গ্রুপের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে কয়েক বছর ধরেই আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ঋণদাতা অধিকাংশ ব্যাংক। এর মধ্যে ২০১৫ সালে কয়েকটি ব্যাংক থেকে ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধাও গ্রহণ করে গ্রুপটি। তবে নির্দিষ্ট সময় পরও প্রতিষ্ঠানটি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেনি। এতে আবারো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো আদালতের দ্বারস্থ হয়।

কয়েক বছরে এসএ গ্রুপের কর্ণধারদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে এ পর্যন্ত ১০০-এর বেশি মামলা দায়ের করেছে পাওনাদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এগুলোর বেশির ভাগই চেক-সংক্রান্ত ও অর্থঋণ মামলা। এসব মামলার বেশ কয়েকটিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এমনকি দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞাও আছে এসএ গ্রুপের কর্ণধারের বিরুদ্ধে।

২০১৫ সালে ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা পাওয়া ১১ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এসএ গ্রুপও রয়েছে। ওই সময় এসএ গ্রুপের এসএ অয়েল রিফাইনারি ও সামান্নাজের পক্ষে ৯২৮ কোটি টাকা ঋণ পুনর্গঠন করে ছয়টি ব্যাংক। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯৯ কোটি টাকা পুনর্গঠন করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে কিস্তি পরিশোধের কথা থাকলেও আর কোনো অর্থই পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বেশির ভাগ ব্যাংক আবারো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। অনেক ব্যাংকের কাছে ঋণের বিপরীতে কোনো বন্ধকি সম্পত্তিও নেই।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ব্যবসার জন্য ঋণ নিলেও দীর্ঘদিনেও ঋণের টাকা ফেরত দেননি এসএ গ্রুপের কর্ণধার। এরই মধ্যে আমরা চেক-সংক্রান্ত ও অর্থঋণ মামলা দায়ের করেছি। একটি মামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্ণধার শাহাবুদ্দিন আলম ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন আলমের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছেন আদালত। এ মামলায় শাহাবুদ্দিন জামিনে থাকলেও তার স্ত্রী পলাতক।

পাওনাদার ব্যাংকগুলোর ক্রমাগত চাপ ও আইনি ঝামেলায় পড়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার দায় এড়াতে নতুন কৌশল নিয়েছেন শাহাবুদ্দিন আলম। কোম্পানির অবস্থা ভালো না হওয়ায় সামান্নাজ ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেড অবসায়নের আবেদন করেছে।

কোম্পানি অবসায়নের আবেদন, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও ব্যবসার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে তিনদিন ধরে এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আলমের সঙ্গে চেষ্টা করা হয়। এসব বিষয়ে তিনি তার বক্তব্য দেবেন বলেও দেননি। অবশেষে রাত ১১টার দিকে টেলিফোনে তার বক্তব্য পাওয়া যায়। কোম্পানি অবসায়নের আবেদনের বিষয়ে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার কারণেই সামান্নাজ ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডকে অবসায়নের জন্য আদালতে আবেদন করেছি। কোম্পানির বিলুপ্তির জন্য পৃথিবীব্যাপী এটি স্বীকৃত পন্থা। এখন এটি আদালতের বিষয়। আমি এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আমার কাছে ব্যাংকগুলো যে অর্থ দাবি করছে, তা সুদের টাকা।

কিছু ব্যাংক ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের শিল্প ধ্বংস করছে বলেও অভিযোগ করেন শাহাবুদ্দিন আলম। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের শিকার হয়ে বাংলাদেশের শিল্পগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমি পরিশ্রম করে ১৮টি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছি। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। এক টাকাও বিদেশে পাচার করিনি। বৈষয়িক ও দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এসএ গ্রুপের ভোজ্যতেলের কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার কনডেন্সড মিল্ক, পেপার ইন্ডাস্ট্রি, ট্যানারিসহ অন্য ইন্ডাস্ট্রিগুলো ভালোভাবেই চলছে।

এসএ গ্রুপের কর্ণধার শাহাবুদ্দিন আলমকে শৈশব থেকেই চেনেন এমন একজন ব্যাংকার বলেন, ব্যবসায়িক শৃঙ্খলার অভাবে শাহাবুদ্দিন আলম সব শেষ করে দিয়েছেন। ব্যাংকের টাকা সঠিক খাতে ব্যয় না করে জমি কেনা, বাড়ি তৈরি ও ভোগ-বিলাসে উড়িয়েছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে তার বিপুল পরিমাণ জমি, বহুতল ভবন, বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এ সম্পদের বড় অংশই ব্যাংকের জামানতের বাইরে। শাহাবুদ্দিন আলম নিজে ডুবেছেন, ব্যাংকারদেরও ডুবিয়েছেন।

চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত এলাকার খুলশীতে চার একর জমিতে শাহাবুদ্দিনের বর্তমান বাড়ি। তার আত্মীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, খুলশীতে চার একর জমিতে অবস্থিত এ প্রাসাদ কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি। ইপিজেড এলাকায় রয়েছে তাদের পুরনো বাড়ি।