চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

আইন-আদালত

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

সিটিজি বাংলাঃ

মানহানির মামলায় গ্রেপ্তার ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর মূখ্য হাকিম আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুর ১টার দিকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে আদালতে হাজির করা হয় তাকে। এসময় আদালতে মইনুল হোসেনের আইনজীবী জামিন ও ডিভিশন আবেদন করেন । সোমবার রাত সোয়া দশটার দিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে সোমবার বিকেলে রংপুরের মানবাধিকারকর্মী মিলি মায়া সেখানকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। সন্ধ্যায় বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটিতে তিনি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন।

গত ১৬ই অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টক শো ‘একাত্তর জার্নাল’ এ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি প্রশ্ন করেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন- আপনি বলেছেন আপনি নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, আপনি কী জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে সেখানে উপস্থিত থাকেন।’

মাসুদা ভাট্টির এই প্রশ্নে মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নেই। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।’ এ ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে মইনুল হোসেন মাসুদা ভাট্টিকে ফোন করে এবং সংশ্লিষ্ট টকশোর উপস্থাপিকাকে চিঠি লিখে দুঃখপ্রকাশ করেন। এরপর গত ২১শে অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি। পরে জামালপুর ও কুড়িগ্রামেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর মধ্যে ঢাকা ও জামালপুরের মামলায় গত রোববার পাঁচ মাসের এবং গতকাল কুড়িগ্রামের মামলায় ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পান তিনি।

প্রসঙ্গত, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সম্প্রতি গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জড়িত হন। তিনি ফ্রন্টের একাধিক বৈঠকেও অংশ নেন। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতের আ স ম আবদুর রবের  উত্তরার জসিম উদ্দীন রোডের বাসায় বৈঠক করেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা। ৃ

ব্যারিস্টার মইনুল গ্রেফতার

সিটিজি বাংলাঃ

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (২২ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম বাংলানিউজকে জানান, রংপুরের একটি মানহানি মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ডিবির হেফাজতে রয়েছেন।

এর আগে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আ স ম রবের ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুল বাংলানিউজকে জানান, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চারটি গাড়ি এবং পুলিশের দু’টি গাড়ি রবের বাসার সামনে অবস্থান করছে।

গত ১৬ অক্টোবর রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে উদ্দেশ্য করে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ‘চরিত্রহীন’ মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ নিয়ে ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে একটি মানহানির মামলা করেন মাসুদা ভাট্টি। একই অভিযোগ এনে জামালপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আরেকটি মামলা হয়। যদিও মামলা দু’টিতে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন ব্যারিস্টার মইনুল। তবে সোমবারও তার বিরুদ্ধে রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মামলা হয়।

ইয়াবা বহন-কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড

সিটিজি বাংলাঃ

মাদকদ্রব্য বহন, সেবন, বিপণন, মদদ দান ও পৃষ্ঠপোষকতায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত সভায় এ আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো ব্যক্তি ৫ গ্রামের বেশি পরিমাণে ইয়াবা বহন, সেবন, বিপণন, মদদ দেওয়া ও পৃষ্ঠপোষকতা করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে। তবে যদি এর পরিমাণ ৫ গ্রামের নিচে হয় তাহলে সর্বনিম্ন ১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। এর সঙ্গে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

তিনি বলেন, হিরোইন, শিশা বা কোকেনের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রামের বেশি বহন, সেবন, বিপণন, মদদ দান ও পৃষ্ঠপোষকতা করলে তার ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি এর পরিমাণ ২৫ গ্রামের কম হয় তাহলে সর্বনিম্ন ২ বছর ও সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হবে। এর সঙ্গে অর্থদণ্ডও করা যাবে।

এ আইন অনুমোদনের ফলে মাদক ব্যবসায়ীদেরও শাস্তির আওতায় আনা যাবে বলে জানান তিনি।

শফিউল আলম বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের আগের আইনটি ১৯৯০ সালে করা। ২৮ বছরের পুরনো আইনটির সঙ্গে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী সব আইনের সমন্বয় করে নতুন খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

নতুন আইনে এই সময়কালে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া হেরোইন-কোকেনসহ সমজাতীয় ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত মাদকদ্রব্য ২৫ গ্রাম বা তার বেশি পরিমাণে বহনে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ২৫ গ্রামের কম বহনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের এবং সর্বনিম্ন ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, যদি কোনও পানীয়তে ০ দশমিক ৫ শতাংশ বা এর বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল থাকে তবে সেটি বিয়ার হিসেবে গণ্য হবে। এই জাতীয় পণ্য বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্সের কোনও শর্ত ভঙ্গ করলে, লিখিত মুচলেকা প্রদান সাপেক্ষে এক লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

শিসাবার ও ডোপ টেস্টের মত বিষয়গুলো আইনে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। সব ধরনের মাদককে নতুন আইনে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় কারাগারে আসলাম চৌধুরীর স্ত্রী

সিটিজি বাংলাঃ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর স্ত্রী জমিলা নাজনীন মাওলাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

৮ অক্টোবর সোমবার মহানগর বিশেষ জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালত এ আদেশ দেন।

দুদকের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, দুর্নীতির মামলায় জমিলা নাজনীন মাওলাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

তিনি বলেন, সাউথইস্ট ব্যাংকের ১৩৫ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ২৮৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার চার্জশিট দাখিল হওয়া পর্যন্ত জামিনে ছিলেন জমিলা। চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

২০০৮ সালে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী, তার স্ত্রী জমিলা নাজনীন মাওলাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাউথইস্ট ব্যাংকের হালিশহর শাখা থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন দুদকের তৎকালীন উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন মৃধা।

পরে মামলার চার্জশিট থেকে সাউথইস্ট ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম ও মাহবুবুর রহমান সাব্বিরকে বাদ দেওয়া হয়।

ফের জামিন নামঞ্জুর জামায়াতের নেতা শাহজাহান চৌধুরীর

সিটিজি বাংলা, রাজনৈতিক ডেস্ক:

 

জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী

চট্টগ্রাম আদালতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ সাত নেতাকর্মীকে হাজির করে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন চাইলে আদালত তা ফের নামঞ্জুর করেছেন।

১২ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে মহানগর দায়রা জজ মো. আকবর হোসেন মৃধার আদালতে শাহজাহান চৌধুরীসহ সাতজনের জামিন না মঞ্জুর করেন। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর নগরীর চকবাজার থানার অন্য দুইটি মামলায় আদালতে হাজির করে শাহজাহান চৌধুরীর জামিনের আবেদন করলে আদালত তা না মঞ্জুর করেন।

 

এ বিষয়ে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ফখরুদ্দীন চৌধুরী বলেন, নগরীর খুলশী থানায় দায়ের করা মামলায় সাতজনকে আদালতে হাজির করে জামিন চান আসামি পক্ষের আইনজীবী। কিন্তু আদালত শুনানি শেষে জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করেন।

 

উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট খুলশী থানার মুরগির ফার্ম খুলশী আবাসিক এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর মাহফুজুল আলমের বাসা থেকে ‘গোপন বৈঠক’ করার সময় জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ আটজনকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর ও বন্দর জোন। পরে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। এ মামলায় ৬ আগস্ট শাহজাহান চৌধুরীকে দুই দিনের রিমান্ডেও নেয় পুলিশ।

 

ওই মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী (৬৪), মো. আবু তাহের ভুইয়া (৬৯), মঞ্জুর আলম (৩৩), মো. মাহাবুব আলম প্রকাশ মিঠু (৩২), মিনহাজুল আরেফিন আফতাহী (২৪), মো. আবুল বাশার (২৬), এইচ এম সাইফুদ্দিন (৩৬) ও মো. রাসেল (১৯)।

হালিশহরের মহিউদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাজী ইকবালের আদালতে আত্মসমর্পণ

সিটিজি বাংলা, মো নাজমুল হুদা:

 

আদালত চত্বরে আত্মসমর্পণ করার পর পুলিশের সঙ্গে

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় যুবলীগকর্মী মো. মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে খুনের ঘটনার প্রধান আসামি হাজী ইকবাল আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।

 

১০ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দীন মুরাদের আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী।

 

তিনি জানান, আদালতে হাজী ইকবাল আত্মসমর্পণের পর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দীন হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাজী ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থেকে রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানান তিনি।

 

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দীন হত্যায় হাজী ইকবালসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় বন্দর থানা পুলিশ। অভিযোগপত্রে আসামি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবাল, তার ভাই মুরাদ, বিপ্লব, ডিউক, আজাদ, শেখ মহিউদ্দিন, মাহিব, আজগর, জিসান সহ মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে ৯ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন । এ মামলার প্রধান আসামি হাজী ইকবালসহ ১১ জন আসামি পলাতক ছিল।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ নগরের হালিশহরের সল্টগোলা ক্রসিংয়ের মেহের আফজাল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি সভা চলাকালীন প্রধান শিক্ষকের রুমে ঢুকে যুবলীগকর্মী মো. মহিউদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ কাদের এবং স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান মুরাদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন নিহত মহিউদ্দিন। যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও কোন পদে ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভাসমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ করতো এই মহিউদ্দিন।

ফাইল ফটো

 

একই এলাকায় তাদের বিরোধী গ্রুপে ছিলেন জাতীয় নির্বাচনে বন্দর আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবাল। যিনি ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে নগরীর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘হায় মুজিব হায় মুজিব’ মাতমে নিজের শরীর থেকে কথিত রক্ত ঝড়ানোর চেস্টায় জিঞ্জির চাকু দিয়ে আঘাত করে শিয়াদের মতো মাতম করে আলোচনায় আসেন।

 

তারই সূত্র ধরে যুবলীগকর্মী মহিউদ্দিন প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হাজী ইকবালের বিরুদ্ধে প্রায় সময় স্ট্যাটাস দিতেন। এর দ্বন্দ্ব থেকেই মহিউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের শুরু থেকেই।

চট্টগ্রামের আদালতে স্ত্রীকে হত্যার রায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালতে নিজ স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

 

৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আদালতে স্ত্রী লাইলী বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী আনোয়ার উল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের এ রায় দেন। একই রায়ে আদালত আনোয়ার উল্লাহকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। আসামি আনোয়ার উল্লাহ ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের কালাকুম গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

 

চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) একেএম সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিজ স্ত্রী লাইলী বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী আনোয়ার উল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালত এবং একই রায়ে আদালত আনোয়ার উল্লাহকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।

আসামি আনোয়ার উল্লাহ রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং এ রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান একেএম সিরাজুল ইসলাম।

 

উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ২২ এপ্রিল রাতে নিজঘরে স্ত্রী লাইলী বেগমকে হাত-পা বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে নৃশংসভাবে খুন করেন আনোয়ার উল্লাহ। পরদিন লাইলীর বাবা কামাল উল্লাহ বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০০১ সালের ২৭ জানুয়ারি আনোয়ার উল্লাহকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০১ সালের ৮ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পর ১২ জনের সাক্ষ্য নেয় রাষ্ট্রপক্ষ।

রনিকে হত্যার স্বীকারোক্তির জবানবন্দি দিল বাস হেলপার মানিক

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম নগরীর সিটি গেট এলাকায় বাস থেকে ফেলে রেজাউল করিম রনিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি ওই বাসের হেলপার মো. মানিক সরকার (২৬) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরান খানের আদালতে তিনি বাস থেকে হত্যার স্বীকারোক্তির উপর এ জবানবন্দি দেন।

 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রেজাউল করিম রনি হত্যা মামলার আসামি ওই বাসটির হেলপার মানিক সরকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরান খানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর লক্ষীপুর থেকে ওই বাসের হেলপার মানিক সরকারকে গ্রেফতার করে পু্লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মানিক সরকার নগরীর আকবরশাহ থানার ফিরোজশাহ এলাকার মো. মোস্তফা সরকারের ছেলে।

এর আগে, গত ২৭ আগস্ট দুপুরে নগরের সিটি গেট এলাকায় চলন্ত বাসে ভাড়া নিয়ে ঝগড়ার পর মারধর করে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠে বাসচালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে। পরে রনিকে বাস চাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে পরিবার ও স্থানীয়রা।

এরই ভিত্তিতে ২৮ আগস্ট রাতে নগরীর আকবর শাহ থানায় নিহত রনির মামা আব্দুর রহমান বাদী হয়ে বাসচালক দিদারুল আলম, হেলপার মো. মানিক সরকার ও বাস মালিককে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বাসটির চালক দিদার ও বাস মালিক পলাতক রয়েছে ও তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জসিম উদ্দিন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী রিমান্ডে

সিটিজি বাংলাঃ

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা এক চাঁদাবাজির মামলায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হকের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল হক এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মিরপুর থানা পুলিশ তাকে সাতদিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করে মিরপুর মডেল থানার পুলিশ।

রাইফার মৃত্যুতে অভিযুক্ত চার চিকিৎসকের আদালতে জামিন

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

 

 

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদিবাগে অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল ম্যাক্স এর চার চিকিৎসককে জামিন দিয়েছে চট্টগ্রামের মূখ্য আদালত।

 

২৬আগষ্ট সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ২য় আদালতের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবু ছালেম মো.নোমান তাদেরকে এই জামিনের আদেশ দিয়েছেন। ওই চার চিকিৎসক ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক কন্যা শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছিল।

 

জামিন পাওয়া চিকিৎসকরা হলেন, ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ম্যাক্স হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ রায় চৌধুরী, শুভ্রদেব ও হাসপাতালের পরিচালক লিয়াকত আলী।

 

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ম্যাক্স হাসপাতালে শিশু কন্যা যাইবা মৃত্যুর অভিযোগে অভিযুক্ত ওই চার চিকিৎসকদের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদেরকে জামিন দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত।

প্রসঙ্গত, রাইফার মৃত্যুতে ম্যাক্সের ওই চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন শিশুটির পিতা সাংবাদিক রুবেল।