চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

আইন-আদালত

র‌্যাব-৭ এর হাতে ৩১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ এএসআই আটক

সিটিজি বাংলা, মিরসরাই প্রতিনিধি:

র‌্যাব-৭ হাতে ইয়াবাসহ আটক পুলিশের এএসআই

চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট এলাকা থেকে ৩১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ আবুল বাশার নামে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) মোটরসাইকেলসহ আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৭।

 

১৮ আগস্ট শনিবার সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে বলে জানান র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. নুরুজ্জামান।

 

আটক এএসআই আবুল বাশার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত রয়েছেন এবং তিনি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার বৈশের কোট এলাকার আবদুল হামিদের ছেলে বলে জানান তিনি।

 

তিনি আরো জানান, ফেনী ক্যাম্পের কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল ফাহিমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট এলাকা থেকে ৩১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ আবুল বাশার নামে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) আটক করেছে এবং তার কাছ থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে। এসময় বাশারের সাথে থাকা ব্যাগ থেকে সিলেট রেঞ্জের পুলিশের পোষাক ও পুলিশের স্টিকারযুক্ত মোটরসাকেল জব্দ করা হয়।

ফেনী ক্যাম্পের কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল ফাহিম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত ওই এএসআই কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ইয়াবাগুলো নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছিলেন।

 

র‌্যাব-৭ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, আবুল বাশার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত ছিলো। গত ২৬ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শশিদলে ৬০ বিজিবি’র কাছে মদ্যপ অবস্থায় মদ এবং অবৈধ মোটরসাইকেলসহ আটক হয় আবুল বাশার।

পরে এ ঘটনায় আবুল বাশারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়। তারপর থেকে সে বরাখাস্ত অবস্থায় আছে। ক্লোজড থাকাকালীন দ্বিতীয়বারের মতো উখিয়াতে যায় এবং ইয়াবা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার পথে র‌্যাবের হাতে আটক হয়। সে কোন জায়াগা থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল তা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, আমাদের কাছে তথ্য আছে যে , গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেও এএসআই আবুল বাশার ১৯ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে নারায়নগঞ্জ গিয়েছিল।

ট্রাফিক সপ্তাহ সমাপ্ত: ১১ হাজারের বেশি মামলা

সিটিজি বাংলা,

চট্টগ্রাম নগরী জুড়ে চলমান ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে যথাযথ নিয়মে সফলতার সাথে সমাপ্ত হয়েছে।

১০ দিন ব্যাপি ট্রাফিক সপ্তাহ জুড়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ যথাযথ কাগজপত্র না থাকার কারনে মোট ১১,৭১২ টি মোটরযান সংক্রান্ত মামলা দিয়েছে।

গাড়ি আটক করা হয়েছে ৯৪৫ টি। মামলা গুলোতে জরিমানা করা হয়েছে পঁয়ত্রিশ লক্ষ তেত্রিশ হাজার একশত টাকা।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ৫ অগাস্ট থেকে সারা দেশে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দেয় পুলিশ। গত শনিবার ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও তিনদিন বাড়িয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত করা হয়।

নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাফিক সপ্তাহের ১০দিনে মামলা হয়েছে ১১,৭১২ টি । পাশাপাশি এসময়ে আটক করা হয়েছে ৯৪৫ টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।

চট্টগ্রাম নগরীর ট্রাফিক বিভাগের উত্তর ও বন্দর জোনের অধীনে গত ৫ থেকে ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত এসব মামলা ও যানবাহন আটক করা হয়।

চলমান ট্রাফিক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি মামলা করা হয়েছে মোটর সাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে।

অটো রিকশার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এক হাজার ৭০৯টি। মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে দুই হাজার ৪৫৮টি। বাস মিনিবাসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে ৮৩৮টি। আর ট্রাক-কভার্ড ভ্যানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৮৭৮টি। এছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও পিকআপের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৮৯৮টি।

পুলিশ কর্মকর্তা কুসুম দেওয়ান জানান, মানুষের মধ্যে আস্তে আস্তে করে সচেতনতা আসছে। মানুষ আগে তাদের গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ রাখত না। কিন্তু ইদানিং দেখা যাচ্ছে সবাই বিআরটিএ মুখী হয়েছে কাগজপত্র হালনাগাদ করতে।

সিএমপি’তে জুন মাসের মাসিক কল্যান সভায় সেরা অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

সিএমপি’র সেরা ওসি হিসেবে মুহাম্মদ মহসিনকে সনদ তুলে দিচ্ছেন সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের জুন মাসের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৮ আগষ্ট বুধবার সকাল ১০ ঘটিকায় দামপাড়াস্থ পুলিশ লাইনসের মাল্টিপারপাস শেডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ মাহাবুবর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

এতে জুন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অপরাধ দমন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় শ্রেষ্ঠ অফিসার্স ইনচার্জ হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন নগরীর কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক জনাব ‘মোহাম্মদ মহসীন’।

এ নিয়ে তিনি সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে নিজের মনোভাব যেভাবে প্রকাশ করেছেন তা সিপিজি বাংলা টুয়েন্টিফোর ডটকম এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো–

অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “ছ্যাঁচড়া চোর, মলম পার্টি, জাল নোট, গামছা পার্টি, গ্রিলকাটা পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, সালাম পার্টি, পেশাগত’র পাশাপাশি মৌসুমি ছিনতাইকারীর উপদ্রব তখন বেড়ে যায় কয়েকশ গুণ। সমস্যা আরো বাড়িয়ে দেয় ছদ্মবেশী অপরাধ।

ইফতারের নামে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রও হয় এসময়। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা তো আছেই। সব মিলিয়ে দায়িত্ব টা ছিল চ্যালেঞ্জিং। সেই চ্যালেঞ্জটা আরও বেড়ে গিয়েছিল নিউমার্কেট ও টেরিবাজারের দুই ঘটনায়। কিন্তু সব চ্যালেঞ্জ জয় করেছি লেটার মার্কসহ। পুরো রমজানে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি ছিল প্রায় অপরাধশূন্য।

পাশাপাশি ছিল বেশকিছু আলোচিত সফল অভিযানও।আর এসবই সম্ভব হয়েছে টিম কোতোয়ালির সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। মাননীয় কমিশনার স্যার আমাদের সেই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়েছেন। জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য বিশেষভাবে পুরষ্কৃত করেছেন আমাকে। পাশাপাশি জুন মাসে নগরের সেরা ওসির স্বীকৃতিও পেয়েছি। সেরা ওসি আমার জন্য নতুন কোন অভিজ্ঞতা নয়। তবে বিশেষ পুরষ্কারটা আমার জন্য বিশেষ কিছুই। সিএমপিতে এই প্রথমবারের মত পেলাম এই পুরষ্কার। তাই এই ‘সেরা’ আমার কাছে ভিন্ন কিছুই।নতুন থানা, নতুন সহকর্মী, নতুন পরিবেশ সবকিছু মানিয়ে প্রথম মাসেই ‘সেরা’ হওয়াটা আমার আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া লাগিয়েছে।

ওসিরা অভিযানে যায় না। সন্ত্রাসী ধরে না। তদন্তও করে না। তবুও তারা সেরা হয়। আর এটা সম্ভব হয় তাদের অফিসারদের কল্যাণে। থানার অফিসারদের সম্মিলিত অবদান ওসির ‘ক্রেডিট’ হিসেবেই বিবেচিত হয়। কারণ, অফিসাররা সব অভিযান পরিচালনা করেন ওসির দিক নির্দেশনাতেই। আর এসব বিবেচনায় নির্ধারিত হয় শ্রেষ্ঠত্ব। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আমার অফিসারদের নিরলস পরিশ্রম ও একাগ্র কর্মনিষ্ঠার ফলেই আমার এই স্বীকৃতি। সাথে ছিল সিনিয়র সব সহকর্মীদের কার্যকর নির্দেশনা।

কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ সিনিয়র ও জুনিয়র সহকর্মীদের।”

এছাড়াও উক্ত সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মাসুদ উল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব কুসুম দেওয়ান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) জনাব আমেনা বেগম, বিপিএম-সেবা, জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান, উপ-পরিচালক ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম জোন। উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) জনাব শ্যামল কুমার নাথ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) জনাব হারুন-উর-রশিদ হাযারী, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জনাব মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ, উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) জনাব মোঃ ফারুক উল হক, উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) জনাব সৈয়দ আবু সায়েম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিএসবি) জনাব মোঃ মোখলেছুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (এমটি ও সরবরাহ) জনাব মোঃ মারুফ হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) জনাব হাসান মোঃ শওকত আলী, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) জনাব ফাতিহা ইয়াছমিন, উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম) জনাব মোঃ তারেক আহম্মেদ, সকল অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ এবং ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম জোনের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

সিএমপি’র জুন মাসের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

সিএমপি’র মাসিক কল্যান সভা

 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের জুন মাসের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৮ আগষ্ট বুধবার সকাল ১০ ঘটিকায় দামপাড়াস্থ পুলিশ লাইনসের মাল্টিপারপাস শেডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ মাহাবুবর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

পুলিশ কমিশনার মহোদয় তার বক্তব্যে বলেন, “নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলনে সুষ্ঠু ভাবে মোকাবেলা করে নগরীর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সিএমপি’র পুলিশ সদস্য সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল ইউনিটকে ধন্যবাদ জানাই।”

এ সময় তিনি প্রত্যেক উপ-পুলিশ কমিশনারগণকে তাদের এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে সচেতনতা মূলক সমাবেশ করার পরামর্শ দেন। এছাড়াও জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদে মাদক ও জঙ্গী বিরোধী বক্তব্য প্রদানের জন্য সিএমপি’র সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান। এছাড়াও সভায় পুলিশ কমিশনার অপরাধ দমন ও যানজট নিয়ন্ত্রণসহ সুষ্ঠু সড়ক ব্যবস্থাপনার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ প্রদান করেন।

 

উক্ত সভার শুরুতে গত মাসে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম জোনকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের তরফ থেকে সন্মাননা জানানো হয়। এ সময় মাননীয় পুলিশ কমিশনার ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম জোনের উপ পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান’কে ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সন্মাননা স্মারক তুলে দেন।

এছাড়া আগুন নিভাতে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার জন্য সিএমপির তিনজন পুলিশ সদস্যকে পুরষ্কৃত করা হয়। আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদনকৃত সদস্যদের সিএমপির সেবা তহবিল হতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

জুন-২০১৮ মাসে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার ও ভাল কাজের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন স্তরের ৮৫ (পঁচাশি) জন পুলিশ সদস্য ও সিভিল স্টাফ’দেরকে নগদ অর্থ ও সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।

জুন-২০১৮ মাসে শ্রেষ্ঠ বিভাগ, শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার, শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি), শ্রেষ্ঠ থানা, শ্রেষ্ঠ পরিদর্শক, শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক এর সম্মাননা সনদ প্রাপ্ত হয়েছেন যথাক্রমে উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) জনাব সৈয়দ আবু সায়েম, সিনিঃ সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) জনাব জাহাঙ্গীর আলম, সিনিঃ সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) জনাব এস এম মোবাশ্বের হোসাইন, পুলিশ পরিদর্শক জনাব সৈয়দুল মোস্তফা, অফিসার ইনচার্জ, কর্ণফুলী থানা, পুলিশ পরিদর্শক জনাব মোহাম্মদ মহসীন, পিপিএম, অফিসার ইনচার্জ, কোতোয়ালী থানা, এসআই/মোঃ জাকের হোসেন, আকবরশাহ থানা। এছাড়াও পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫.০০ প্রাপ্তদের বৃত্তি প্রদান করা হয়।

উক্ত সভায় উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) জনাব সৈয়দ আবু সায়েম, উপ-পুলিশ কমিশনার (এমটি ও সরবরাহ) জনাব মোঃ মারুফ হোসেনের দিনাজপুর এবং বরগুনা জেলায় পুলিশ সুপার পদে বদলি হওয়াতে তাদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

 

এ সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মাসুদ উল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব কুসুম দেওয়ান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) জনাব আমেনা বেগম, বিপিএম-সেবা, জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান, উপ-পরিচালক ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম জোন। উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) জনাব শ্যামল কুমার নাথ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) জনাব হারুন-উর-রশিদ হাযারী, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জনাব মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ, উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) জনাব মোঃ ফারুক উল হক, উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) জনাব সৈয়দ আবু সায়েম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিএসবি) জনাব মোঃ মোখলেছুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (এমটি ও সরবরাহ) জনাব মোঃ মারুফ হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) জনাব হাসান মোঃ শওকত আলী, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) জনাব ফাতিহা ইয়াছমিন, উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম) জনাব মোঃ তারেক আহম্মেদ, সকল অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ এবং ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম জোনের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসক্লাবে সামনে মানববন্ধন করতে আসা আটকদের বিরুদ্ধে মামলা

সিটিজি বাংলা, নগর প্রতিবেদক:

 

প্রতিকী ছবি

চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানের চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বাম ছাত্র সংগঠনের ৪জন কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিরাপদ সড়কের দাবীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদের মানববন্ধনে এসে আটক হয় তারা।

৬ আগস্ট সোমবার মধ্যরাতে ছাত্র ফেডারেশনের দুই নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন।

এ সময় তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ মহসীন।

মামলার আসামিরা হলেন-চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্র ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন (২৩), রাজনৈতিক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজিউর রহমান আসাফ (২০), ইমদাদুল হক প্রকাশ আশিক (২৪) ও আব্দুল্লাহ আল সাহেদ (২০)।

এর আগে সোমবার দুপুরে জামালখান প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মোট ১০ জনকে আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। পরে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফখরুলসহ তিনজনের নামে মামলা

সিটিজি বাংলাঃ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাত ও ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।

সোমবার (৬ আগস্ট) হাকিম এইচ এম তোয়াহার আদালতে মামলাটি করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।

মামলা গ্রহণের বিষয়ে এখনও কোনো আদেশ দেয়নি আদালত। বাদী পক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৪ আগস্ট আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেখানে শোনা যায় কুমিল্লায় অবস্থানরত নওমী নামে এক কর্মীর সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। নওমীকে তিনি বলছেন ঢাকা এসে লোকজন নিয়ে নেমে পড়তে।

অপরদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীর হুকুমে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছাত্রদলের লোকজন ঢুকে পড়ে।

এছাড়াও মির্জা ফখরুল ও রুহুল কবির রিজভীর হুকুমে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের মাঝে ছাত্রদলের কর্মীদের ঢুকিয়ে দিয়ে উত্তরায় এনা পরিবহনের দুই বাসে অগ্নিসংযোগ, জিগাতলায় আওয়ামী লীগ অফিসে ভাঙচুর ও হামলা করে কর্মীদের আহত করেছে, মিরপুরে মারপিট, হামলা ও গুলিবর্ষণ ঘটিয়েছে ছাত্রদলের কর্মীরা।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা সরকারের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাত ও ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়ে এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। যার ফলে আসামীরা ১৫৩, ১৫৩ (ক) ও ১০৯ ধারায় অপরাধ করেছেন।

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অভিনেত্রী নওশাবা গ্রেফতার

সিটিজি বাংলাঃ

ফেসবুক লাইভে ছাত্র মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদ।

শনিবার রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সমকালকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একদল যুবকের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় ছাত্র নিহতের গুজবও ছড়িয়ে পড়ে।

ফেসবুকে ওই গুজবের পক্ষে-বিপক্ষে তথ্য আসার মধ্যেই বিকেল ৪টার দিকে সংঘর্ষে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরতদের মধ্যে দুই ছাত্রের মৃত্যু ও একজনকে চোখ তুলে নেওয়ার ‘খবর’ নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন অভিনেত্রী নওশাবা।

এক মিনিটের ৩৭ সেকেন্ডের লাইভ ভিডিওতে বিমর্ষ ও আতঙ্কিত দেখা যায় নওশাবাকে। লাইভের শুরুতেই তিনি বলেন, আমি কাজী নওশাবা আহমেদ বলছি, আপনাদেকে জানাতে চাই, একটু আগে জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে, দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে।

লাইভে তিনি সকলকে এক হওয়ার অনুরোধ জানান। নওশাবা বলেন, আপনারা সবাই এক সাথে হোন। ওদের প্রটেকশন দিন প্লিজ। বাচ্চাগুলো আনসেইফ অবস্থায় আছে। আপনারা রাস্তায় নামেন প্লিজ।

এই অভিনেত্রী আরও বলেন, এদেশের নাগরিক হিসেবে, মানুষ হিসেবে রিকোয়েস্ট করছি, জিগাতলায় স্কুলের ছেলের চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে।

ফেসবুক লাইভৈ নওশাবা বলেন, একটু আগে অ্যাটাক করেছে, ছাত্রলীগের ছেলেরা। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা এখনই নামবেন, আপনাদের বাচ্চাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাবেন।

নওশাবার ওই ফেসবুক লাইভ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। গুজবের কথা শুনেই শিক্ষার্থীরা ছুটে গিয়েছিলেন বলেও এরই মধ্যে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুর দুইটার পরে চার শিক্ষার্থীকে ‘ধরে নিয়ে’ যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এসময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাইন্সল্যাব এলাকা ও জিগাতলা মোড়ে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে ছুটে যায়।

এরপর কার্যালয়ে থাকা আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে শিক্ষার্থীরা। এসময় পাশে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের কার্যালয় লক্ষ্য করেও বিক্ষুব্ধরা ইট-পাটকেল ছোড়ে।

পরে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এরপরই শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা সেখানে কাউকে আটকে রাখা হয়েছে কিনা- তা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে প্রতিনিধি দলের একজন ঢাকা আইডিয়াল কলেজের ছাত্র কাজী আশিকুর রহমান তূর্য বলেন, দুপুরে হঠাৎ কিছু লোক বলে, আমাদের চারজন বোনকে আর কয়জন ছেলেকে আওয়ামী লীগ অফিসে আটকে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের মেরে ফেলা ও আটকে রাখার যে তথ্য আমরা পেয়েছিলাম, তা গুজব। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা ছুটি এসেছিল। কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগ অফিসে এসে দেখলাম, এমন কিছু ঘটেনি। আপনারা কেউ গুজবে কান দেবেন না।

সিএমপি’র সদর দপ্তর স্থান পরিবর্তন হয়ে দামপাড়া পুলিশ লাইনে

সিটিজি বাংলা:

 

 

 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) সদর দপ্তর লালদিঘীপাড় থেকে সরিয়ে দামপাড়া পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে।

 

২৮ জুলাই শনিবার লালদীঘি থেকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে অফিসের সকল আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে এ উপলক্ষে।

 

আগামী ২৯ জুলাই রোববার থেকে নতুন কার্যালয়ে সিএমপি কমিশনার মাহাবুবর রহমান অফিস করবেন।

 

এর আগে শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (জনসংযোগ) অলক বিশ্বাস সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান জানান, সিএমপির সদর দফতর আপাতত পুলিশ লাইন্সে স্থানাস্তর করা হচ্ছে। সিএমপির সদর দফতরের জন্য নতুন ২২ তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ লাইন্সে সিএমপি সদর দফতরের অফিস থাকবে।

 

সিএমপি কমিশনার বলেন, নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন হয়েছে। অন্যান্য কাজও শেষ হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে শিগগির।

 

উল্লেখ্য, লালদিঘীতে সিএমপি সদর দপ্তরে নতুন করে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। এজন্য লালদিঘীতে সদর দপ্তরে কর্মরত সবার অফিস দামপাড়া পুলিশ লাইনে নেয়া হচ্ছে।

ঘুষসহ গ্রেফতার হওয়া সেই সাব-রেজিস্ট্রার এখন নিয়মিত অফিস করছেন

সিটিজি বাংলাঃ

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহানের খুটির জোর কোথায়? এ প্রশ্ন এখন আটঘরিয়াসহ গোটা জেলার মানুষের।গত ১০ জুলাই ঘুষ নেওয়ার সময় ৬২ হাজার টাকাসহ হাতেনাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সময় মোহরার আশরাফুল আলমকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এ ব্যাপারে ওই দিনই দুদকের সহকারী পরিচালক গোলাম মওলা বাদী হয়ে ইশরাত ও আশরাফুলকে আসামি করে আটঘরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে ওই দুজনকে আদালতে হাজির করা হলে পাবনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আবদুল বাছেত মো. বুলু সাব-রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহানের জামিন মঞ্জুর করেন। আর মোহরার আশরাফের জামিন না মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।এ ঘটনার পর থেকেই সাব-রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহান আটঘরিয়ায় নিয়মিত অফিস করছেন। বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।মামলা সূত্রে জানা যায়, ইশরাত জাহানের বাড়ি পাবনার সুজানগর উপজেলার খলিলপুর আমিরাবাদ বড়ুরিয়া গ্রামে। তাঁর স্বামীর নাম নূরে আলম বাপ্পী। তাঁর বাড়ি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার কোটেরচর গ্রামে।দুদকের দাবি, দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকেই অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা চাকরিতে সাময়িক বরখাস্ত হবেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয়নি।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি  (পিপি) অ্যাডভোকেট খন্দকার জাহিদ রানা বলেন, ‘দুদকের মামলা জামিন অযোগ্য। তার পরও বিচারক জামিন দিতে পারেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকেই অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা চাকরিতে সাময়িক বরখাস্ত হবে- এটাই নিয়ম।’পাবনা জেলা রেজিস্ট্রার মণীন্দ্র নাথ বর্মণ বলেন, ‘আটঘরিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়ে ওই দিনই (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) অফিসে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহল সিদ্ধান্ত নেবে।

’আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আকরাম আলী দুদকের মামলার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘১০ জুলাই থেকে সাব-রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহান নিয়মিত অফিস করছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ বুধবার ৩৫টি জমির রেজিস্ট্রি বা সাফ কবলা সম্পাদন করেন ইশরাত জাহান।এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দুদক সমন্বিত কার্যালয় পাবনার উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আইনেই রয়েছে। এই মামলা নিয়ে দুই মাস ধরে অনুসন্ধান করেছি। আর ফলাফল শূন্য।’

উপপরিচালক বলেন, ‘এভাবে চললে মানুষ নিরুৎসাহিত হবে। জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আমরা পাবনা জজ কোর্টে আপিল করব।’এ ব্যাপারে আটঘরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।গত ১০ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে ঘুষ হিসেবে নেওয়া  ৬২ হাজার টাকাসহ হাতেনাতে আটঘরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহান ও মোহরার আশরাফুল আলমকে গ্রেপ্তার করে দুদক।

এনটিভি অনলাইন থেকে নেয়া

খনি থেকে কয়লা গায়েব : ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সিটিজি বাংলাঃ

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা গায়েবের ঘটনায় খনির বিদায়ী এমডিসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে পার্বতীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে খনির পক্ষে পার্বতীপুর থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।

অভিযোগে মজুদকৃত কয়লার হিসাবের গড়মিলের বিষয়টি দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) এবং ৪০৯ ধারা অনুযায়ী এজাহারভুক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা গায়েবের ঘটনায় বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ। মামলা নং-৩০।

পার্বতীপুর থানার ওসি (তদন্ত) ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ‘মামলাটি দুদকের আওতাধীন হওয়ায় তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদায়ী খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নূর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলামসহ খনির ব্যবস্থাপনায় জড়িত অপর আসামিরা ওই কয়লা চুরির ঘটনায় জড়িত। বাকি ১৫ জন আসামি প্রত্যেকেই ব্যবস্থাপক, উপ-ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা।

অভিযোগে জানানো হয়, খনি উন্নয়নের সময় (২০০১) থেকে ১৯ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪২ দশমিক ৩৩ মে. টন কয়লা উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত কয়লা থেকে পার্শ্ববর্তী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৯ দশমিক ২৯ মে. টন কয়লা সরবরাহ, বেসরকারি ক্রেতাদের কাছে ডিও’র মাধ্যমে ৩৩ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ দশমিক ৩৭ মে. টন কয়লা বিক্রি এবং কয়লা খনির বয়লারে ১২ হাজার ৮৮ দশমিক ২৭ মে. টন কয়লা ব্যবহার করা হয়। কয়লার উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার হিসাব করলে ১৯ জুলাই কোল ইয়ার্ডে রেকর্ডভিত্তিক কয়লার মজুদ দাড়ায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মে. টন।

কিন্তু বাস্তবে মজুদ ছিল প্রায় ৩ হাজার মে. টন কয়লা। অর্থাৎ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মে. টন কয়লা ঘাটতি রয়েছে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা বলে জানানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এই ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জন আসামি অনেক আগে থেকেই তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে সংঘটিত কয়লা চুরির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অনুমিত হয়।

উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক বেনজীর আহমেদ গত সোমবার বিকালে দুদকের পাঁচ সদস্যের দল নিয়ে খনি এলাকা পরিদর্শন করার পর জানান, কয়লা খনির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতার আলামত মিলেছে।

৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লা খনির ইয়ার্ডেই থাকত। কিন্তু হঠাৎ কয়লা সঙ্কট দেখা দেওয়ায় গত রোববার ১৫ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ১৯ জুলাই খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুর-উজ-জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলামকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পেট্রোবাংলা। বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিনকে সরিয়ে আনা হয়েছে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দপ্তরে। বিদায়ী কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কাশেম প্রধানিয়াকে সিরাজগঞ্জে বদলি করা হয়েছে।