চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

নিউজ এক্সক্লুসিভ

তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও, যা করেছ তা ইতিহাস হয়ে থাকবে: সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি  অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

৩ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেইজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সাকিব আল হাসান বলেছেন, “ক্লাসে ফিরে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে। তোমরা যা করেছ তা এ দেশে ইতিহাস হয়ে থাকবে। এ অর্জন সফল হবে তোমাদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে।”

 

সাকিব আল হাসানের পুরো স্ট্যাটাসটি হুবহু এখানে তুলে ধরা হলো:

“আমি এখন ফ্লোরিডায় আছি। আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমার তরুণ ফ্যানদের উদ্দেশে কিছু বলতে চাই।

 

নিহত দুই শিক্ষার্থী

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই স্কুলশিক্ষার্থী দিয়া ও আবদুল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় আমি প্রচণ্ড মর্মাহত ছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম তার সহপাঠী থেকে শুরু করে সারা দেশের ছাত্রছাত্রীরা দোষীদের শাস্তি দাবি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে, তখন গর্ববোধ করেছি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে। দেশে থাকলে আমিই তোমাদের অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য চলে আসতাম।

 

তোমাদের সাধুবাদ জানিয়ে বলতে চাই, তোমাদের দাবি কার্যকর হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ছাড়াও নিরাপদ সড়ক আইন করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ অবস্থায় তোমাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করব, ক্লাসে ফিরে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে। তোমরা যা করেছ তা এ দেশে ইতিহাস হয়ে থাকবে। এ অর্জন সফল হবে তোমাদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে। তোমাদের দাবি পূরণ হয়েছে এবং হচ্ছে। ব‍্যত্যয় ঘটলে আমাকে পাবে তোমাদের সঙ্গে।”

 

গত ২৯ জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের দু’টি বাসেররেষারেষিতে বিমানবন্দর সড়কে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো একদল শিক্ষার্থীর উপর উঠে যায়। তাতে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হলে ক্ষোভে ফেটেপড়ে তাদের সহপাঠীরা।

 

এরপর নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ এবং ঘাতক চালকের ফাঁসিসহ ৯ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার ছুটির দিনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মানার ঘোষণা দেয়া হলেও শিক্ষার্থীরা বলছে, দাবি আদায় না করে তারা ক্লাসে ফিরবে না।

মেনে চলবেন পবিত্র কুরআন শরীফের ১০০ টি উপদেশবাণী

সিটিজি বাংলা, ধর্মীয় ডেস্ক:

পবিত্র কুরআনের ১০০টি উপদেশবাণী। যা কুরআন শরীফে অবতীর্ণ ১১৪ টি সুরা থেকে সংগৃহীত। পড়ার পরে অবশ্যই শেয়ার করুন। আশা করি অবশ্যই ভালো লাগবে এবং মেনে চলবেন।

��১। তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:৪২] � �২। সৎকার্য নিজে সম্পাদন করার পর অন্যদের করতে বলো। [সূরা বাকারা ২:৪৪] � �৩। পৃথিবীতে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:৬০] � �৪। কারো মসজিদ যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:১১৪] � �৫। কারো অন্ধানুসরণ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭০] � �৬। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭৭] � �৭। ঘুসে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা বাকারা ২:১৮৮] � �৮। যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করবে, শুধু তাদের সঙ্গে তোমরা লড়াই করো। [সূরা বাকারা ২:১৯০] � �৯। লড়াইয়ের বিধি মেনে চলো। [সূরা বাকারা ২:১৯১] � �১০। অনাথদের রক্ষণাবেক্ষণ করো। [সূরা বাকারা ২:২২০] � �১১। রজঃস্রাব কালে যৌনসঙ্গম করো না। [সূরা বাকারা ২:২২২] � �১২। শিশুকে পূর্ণ দুই বছর দুগ্ধপান করাও। [সূরা বাকারা ২:২৩৩] � �১৩। সৎগুণ দেখে শাসক নির্বাচন করো। [সূরা বাকারা ২:২৪৭] � �১৪। দ্বিনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। [সূরা বাকারা ২:২৫৬] � �১৫। প্রতিদান কামনা করে দাতব্য বিনষ্ট করো না। [সূরা বাকারা ২:২৬৪] � �১৬। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করো। [সূরা বাকারা ২:২৭৩] � �১৭। সুদ ভক্ষণ করো না। [সূরা বাকারা ২:২৭৫] � �১৮। যদি ঋণীঅভাবগ্রস্তহয়তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দাও। [সূরা বাকারা ২:২৮০] � �১৯। ঋণের বিষয় লিখে রাখো। [সূরা বাকারা ২:২৮২] � �২০। আমানত রক্ষা করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৩] � �২১। গোপন তত্ত্ব অনুসন্ধান করো না এবং পরনিন্দা করো না। [সূরা বাকারা ২:২৮৩] � �২২। সমস্ত নবির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৫] � �২৩। সাধ্যের বাইরে কারো উপর বোঝা চাপিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:২৮৬] � �২৪। তোমরা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১০৩] � �২৫। ক্রোধ সংবরণ করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৩৪] � �২৬। রূঢ় ভাষা ব্যবহার করো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৫৯] � �২৭। এই বিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯১] � �২৮। পুরুষ ও নারী উভয়ই তাদের কৃতকর্মের সমান প্রতিদান পাবে। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯৫] � �২৯। মৃতের সম্পদ তার পরিবারের সদস্যসের মাঝে বন্টন করতে হবে। [সূরা নিসা ৪:৭] � �৩০। উত্তরাধিকারের অধিকার নারীদেরও আছে। [সূরা নিসা ৪:৭] � �৩১। অনাথদের সম্পদ আত্মসাৎ করো না। [সূরা নিসা ৪১০] � �৩২। যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক তাদের বিবাহ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৩] � �৩৩। অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ ভক্ষণ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৯] � �৩৪। পরিবারের উপর কর্তৃত্ব চালাবে পুরুষ। [সূরা নিসা ৪:৩৪] � �৩৫। অন্যদের জন্য সদাচারী হও। [সূরা নিসা ৪:৩৬] � �৩৬। কার্পণ্য করো না। [সূরা নিসা ৪:৩৭] � �৩৭। বিদ্বেষী হয়ো না। [সূরা নিসা ৪:৫৪] � �৩৮। মানুষের সাথে ন্যায়বিচার করো। [সূরা নিসা ৪:৫৮] � �৩৯। একে অপরকে হত্যা করো না। [সূরা নিসা ৪:৯২] � �৪০। বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করো না। [সূরা নিসা ৪:১০৫] � �৪১। ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো। [সূরা নিসা ৪:১৩৫] � �৪২। সৎকার্যে পরস্পরকে সহযোগিতা করো। [সূরা মায়িদা ৫:২] � �৪৩। সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়িদা ৫:২] � �৪৪। মৃত পশু, রক্ত ও শূয়োরের মাংসা নিষিদ্ধ। [সূরা মায়িদা ৫:৩] � �৪৫। সৎপরায়ণ হও। [সূরা মায়িদা ৫:৮] � �৪৬। অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও। [সূরা মায়িদা ৫:৩৮] � �৪৭। পাপ ও অবৈধ জিনিসের বিরুদ্ধে শ্রম ব্যয় করো। [সূরা মায়িদা ৫:৬৩] � �৪৮। মাদক দ্রব্য ও আলকোহল বর্জন করো। [সূরা মায়িদা ৫:৯০] � �৪৯। জুয়া খেলো না। [সূরা মায়িদা ৫:৯০] � �৫০। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্যদের গালমন্দ করো না। [সূরা মায়িদা ৫:১০৮]

 

� �৫১। আধিক্য সত্যের মানদণ্ড নয়। [সূরা আন’আম ৬:১১৬] � �৫২। মানুষকে প্রতারণা দেওয়ার জন্য ওজনে কম দিও না। [সূরা আন’আম ৬:১৫২] � �৫৩। অহংকার করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:১৩] � �৫৪। পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১] � �৫৫। সালাতে উত্তম পোশাক পরিধান করো। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১] � �৫৬। অন্যদের ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করো। [সূরা আ’রাফ ৭:১৯৯] � �৫৭। যুদ্ধে পশ্চাদ্‌মুখী হয়ো না। [সূরা আনফাল ৮:১৫] � �৫৮। যারা নিরাপত্তা কামনা করছে তাদের সহযোগিতা করো ও নিরাপত্তা দাও। [সূরা তওবা ৯:৬] � �৫৯। পবিত্র থেকো। [সূরা তওবা ৯:১০৮] � �৬০। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা ইউসুফ ১২:৮৭] � �৬১। যারা অজ্ঞতাবশত ভুলত্রুটি করে আল্লাহ্‌ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করবেন। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯] � �৬২। প্রজ্ঞা ও উত্তম নির্দেশনা দ্বারা আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি আহ্বাব করা উচিত। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯] � �৬৩। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। [সূরা ইসরা ১৭:১৫] � �৬৪। পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। [সূরা ইসরা ১৭:২৩] � �৬৫। পিতামাতাকে অশ্রদ্ধা করে কোনো কথা বলো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৩] � �৬৬। অর্থ অপচয় করো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৯] � �৬৭। দারিদ্রের আশঙ্কায় সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩১] � �৬৮। অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩২] � �৬৯। যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তার অনুবর্তী হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩৬] � �৭০। শান্তভাবে কথা বলো। [সূরা ত্বা-হা ২০:৪৪] � �৭১। অনর্থ জিনিস থেকে দূরে থেকো। [সূরা মু’মিনুন ২৩:৩] � �৭২। অনুমতি ছাড়া কারো গৃহে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:২৭] � �৭৩। যারা শুধু আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দেন। [সূরা নূর ২৪:৫৫] � �৭৪। বিনা অনুমতিতে পিতামাতার ব্যক্তিগত ঘরে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:৫৮] � �৭৫। বিনয় সহকারে ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করো। [সূরা ফুরকান ২৫:৬৩] � �৭৬। এই পৃথিবীতে তুমি তোমার অংশকে উপেক্ষা করো না। [সূরা কাসাস ২৮:৭৭] � �৭৭। আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোনো বাতিল উপাস্যকে ডেকো না। [সূরা কাসাস ২৮:৮৮] � �৭৮। সমকামিতায় লিপ্ত হয়ো না। [সূরা আন্‌কাবুত ২৯:২৯] � �৭৯। সৎকার্যের আদেশ করো এবং অসৎকার্য হতে নিষেধ করো। [সূরা লোকমান ৩১:১৭] � �৮০। দম্ভভরে ভুপৃষ্ঠে বিচরণ করো না। [সূরা লোকমান ৩১:১৮] � �৮১। কণ্ঠস্বর অবনমিত রেখো। [সূরা লোকমান ৩১:১৯] � �৮২। নারীরা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। [সূরা আহ্‌যাব ৩৩:৩৩] � �৮৩। আল্লাহ্‌ তাআলা যাবতীয় পাপ মোচন করে দিতে পারেন। [সূরা যুমার ৩৯:৫৩] � �৮৪। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা যুমার ৩৯:৫৩] � �৮৫। ভালো দ্বারা মন্দ প্রতিহত করো। [সূরা হা-মিম সাজদা ৪১:৩৪] � �৮৬। যেকোনো বিষয়ে পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নাও। [সূরা শূরা ৪২:৩৮] � �৮৭। মানুষের সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করো। [সূরা হুজরাত ৪৯:৯] � �৮৮। কাউকে পরিহাস করো না। [সূরা হুজরাত ৪৯:১১] � �৮৯। সন্দেহ থেকে বিরত থেকো। [সূরা হুজরাত ৪৯:১২] � �৯০। পরনিন্দা করো না। [সূরা হুজরাত ৪৯:১২] � �৯১। সবচেয়ে আল্লাহ্‌ভীরু ব্যক্তি সবচেয়ে সম্মাননীয়। [সূরা হুজরাত ৪৯:১৩] � �৯২। অতিথির সম্মান করো। [সূরা যারিয়াত ৫১:২৬] ��৯৩। দাতব্যকার্যে অর্থ ব্যয় করো। [সূরা হাদিদ ৫৭:৭] � �৯৪। দ্বিনের মধ্যে বৈরাগ্যের কোনো স্থান নেই। [সূরা হাদিদ ৫৭:২৭] � �৯৫। জ্ঞানীজনকে আল্লাহ্‌ তাআলা সুউচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন। [সূরা মুজাদালাহ্‌ ৫৮:১১] � �৯৬। অমুসলিমদের সাথে সদয় ও ন্যায় আচরণ করো। [সূরা মুমতাহিনাহ্‌ ৬০:৮] � �৯৭। লোভ-লালসা থেকে সুরক্ষিত থেকো। [সূরা তাগাবুন ৬৪:১৬] � �৯৮। আল্লাহ্‌ তাআলার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করো। তিনি মহাক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। [সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:২০] � �৯৯। ভিক্ষুককে ধমক দিও না। [সূরা যুহা ৯৩:১০] � �১০০। অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করো। [সূরা মা’ঊন ১০৭:৩]

বাঙ্গালীদের বিশ্বকাপ কোয়ার্টারে শেষ হয়ে গেছে !

 

সিটিজি বাংলা: স্পোর্টস ডেস্ক:

বাঙ্গালীদের বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা। সবচেয়ে বড় পতাকাটা কে লাগালো? কার জার্সিটা কত সুন্দর? কে ফেসবুকে কত বড় স্ট্যাটাস লিখতে পারলো? বিশ্বকাপ এলে পাড়া-মহল্লায় এমন কত উত্তেজনা, প্রতিযোগিতা। প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা, ফেস্টুনের প্রতিযোগিতা শুরু হয় বিশ্বকাপের একমাস আগে থেকে। জমি বিক্রি করে কয়েক কিলোমিটার লম্বা পতাকা, পতাকার রঙয়ে বাড়ির রঙ করা- কত কিছু!

 

সারা বিশ্বে যতটা না বিশ্বকাপের রঙ লাগে, তার চেয়ে বেশি রঙ লাগে বাংলাদেশে। প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটাতে তৈরি হয় এই বাংলাদেশের মানুষ। এ দেশের মানুষের বিশ্বকাপ উন্মাদনা ছুঁয়ে যায় সারা বিশ্বকে। ব্রাজিলের বিশ্বখ্যাত টিভি চ্যানেল ও’গ্লোবো থেকে সাংবাদিক আসে বিশেষ রিপোর্ট করার জন্য। নানান দেশের রাষ্ট্রদূতেরা ছুটে যান এসব পাগলামি দেখার জন্য।

 

 

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলে না, খেলার সুযোগ পায় না। আদৌ কখনও পাবে কিনা সন্দেহ; কিন্তু এই দেশের মানুষ খুব অনায়াসেই নিজেদেরকে বিশ্বকাপের কেলেন্ডারে প্রবেশ করিয়ে ফেলেছে, নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ নিয়ে পাগলামির কারণে। এ দেশের মানুষ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে যে ধরনের পাগলামি করে, তেমন পাগলামি খোদ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাতে হয় কি না সন্দেহ।

 

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পাশাপাশি বাংলাদেশে দর্শক তৈরি হয়েছে জার্মানি, স্পেন কিংবা পর্তুগালের মত দলগুলোর। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিংবা ইনিয়েস্তাদের ব্যক্তিগত সমর্থনও কম নয়। রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশের সমর্থকদের বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গিয়েছিল।

 

 

কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপ যেন জায়ান্ট বধের খেলায় মেতেছিল শুরু থেকেই। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় করে দিয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। ৮০ বছরের রেকর্ড ভেঙে জার্মানরা গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার মত দলের কাছে হেরে। কোনোমতে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেনের মতো দলগুলো।

 

কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে অঘটন ঘটিয়ে দেয় রাশিয়া। টাইব্রেকারে বিদায় করে দেয় স্পেনকে। ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেয় সবচেয়ে দর্শক নন্দিত দল আর্জেন্টিনাও। মূলত আর্জেন্টিনার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের অধিকাংশ সমর্থকের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।

 

 

তবুও আশা ছিল ব্রাজিলকে নিয়ে। যারা আর্জেন্টিনা সমর্থক ছিল, তারা অন্তত ব্রাজিল বিরোধীতার জন্য হলেও খুব আগ্রহভরে টিভির সামনে বসতো খেলা দেখার জন্য। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে এসে বাংলাদেশে বিশ্বকাপের সব রঙ হারিয়ে গেলো। বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় ঘটে গেলো বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলের।

 

 

 

কাজান এরেনায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে তুমুল আক্রমণের পসরা সাজিয়েও একটির বেশি গোল আদায় করতে পারেনি ব্রাজিল। নেইমার-কৌতিনহো-উইলিয়ান-ফিরমিনোরা একের পর এক আক্রমণ করেও পারেনি বেলজিয়ামের রক্ষণ ভাঙতে। আবার দুর্ভাগ্যও ভর করেছিল ব্রাজিলের ওপর। না হয়, বারে লেগে কেন বল ফিরে আসবে। কেন ফাঁকা পোস্ট পেয়েও শট নিতে পারবেন না পওলিনহো, কৌতিনহোরা!

 

 

শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের হার ২-১ গোলে এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের অগণিত ভক্ত-সমর্থক, আর্জেন্টিনা বিদায়ের পরও যাদের কাছে বিশ্বকাপের রঙটা টিকেছিল, আজ থেকে সব ফিকে হয়ে গেলো। বিশ্বকাপের রঙ হারিয়ে গেলো। কোয়ার্টারেই শেষ হয়ে গেলো বাঙালির বিশ্বকাপ। শুধু তাই নয়, সারা বিশ্বের কাছেও বিশ্বকাপের রঙ পুরোপুরি ফিকে হয়ে গেছে!

শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আসছে ২৭ জুলাই

সিটিজি বাংলা, তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:

 

 

 

পৃথিবীব আকশে এক মহাজাগতিক চমকপ্রদ ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছেন বিশ্ববাসী।

আসছে জুলাই (কোনও কোনও দেশের জন্য ২৮ জুলাই) দেখা যাবে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এই বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণটির স্থায়িত্ব হবে ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এদিন লালচে রং ধারণ করবে চাঁদ; যাকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ যখন একই সরল রেখায় অবস্থান করে এবং পৃথিবীর ছায়া সরাসরি চাঁদকে ঢেকে ফেলে তখন চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়। এবারের চন্দ্রগ্রহণটি দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। কারণ এসময় চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাটি অতিক্রম করবে। একই কারণে চাঁদের পৃষ্ঠে লালচে আভার সৃষ্টি হবে।

আর্থস্কাই জানায়, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো থেকে দেখা যাবে এ মহাজাগতিক দৃশ্য। এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ থেকে ২৭ জুলাই দিনগত মধ্যরাতের পর অথবা ২৮ তারিখ ভোর থেকে চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করা যাবে।
নিউজিল্যান্ড থেকে ২৮ জুলাই ভোরের দিকে চন্দ্রগ্রহণের কেবল শুরুর দৃশ্যটা দেখা যাবে।

ইউরোপ ও আফ্রিকা থেকে এ দৃশ্য সবচেয়ে ভালো উপভোগ করা যাবে এবং এসব অঞ্চলে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে সন্ধ্যায়। উত্তর আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও অ্যান্টার্কটিকের বেশিরভাগ অঞ্চল এ দৃশ্য থেকে বঞ্চিত হবে।

শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ ছাড়াও জুলাই মাসে আরেকটি বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারবেন নক্ষত্র প্রেমীরা। ৩১ জুলাই ২০০৩ সালের পর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করবে মঙ্গলগ্রহ। এদিন পৃথিবী থেকে ৩ কোটি ৫৮ লাখ মাইল দূরে অবস্থান করবে লাল গ্রহটি এবং আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই দেখা যাবে।

‘বাংলাদেশই বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী দেশ বলে আখ্যা বিশেষজ্ঞদের’

সিটিজি বাংলা,

গেল ২০১৭ সালে আগস্টের পর থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সেখানকার মুসলমানসহ অন্যান্য ধর্মের রোহিঙ্গারা। সরকারি হিসেবে দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি।

২০ জুন ২০১৮ আজ ‘বিশ্ব শরণার্থী দিবস’। সারা বিশ্ব দিনটিকে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করছে। বাংলাদেশেই আছে ‘ বাংলাদেশই বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় আশ্রয় শিবির অর্থাৎ শরণার্থী দেশ’ এমনই বলছেন সমাজ বিশেষজ্ঞরা।

 

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে গত ১০ মাসে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সেই হিসেবে বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে ১১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা আছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘের শীর্ষদের কাছে বারবার তাগিদ ও অনুরোধ জানিয়ে আসছেন।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়শিবির। ছয় লাখেরও বেশি লোক কুতুপালং-বালুখালী ক্যাম্প এলাকাতে বসবাস করছে। দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তার মধ্যে সাত লাখের মত মানুষ এসেছে গত ২৫ আগস্টের পর।

মোহাম্মদ আবুল কালাম আরো বলেন, সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সাত লাখের মত মানুষ সে গতিটা বিবেচনা করলে, বলা হচ্ছে (এ পরিস্থিতিটা) অল্প সময়ের মধ্যে গঠিত হওয়া একটা বড় সংকট হিসেবে পরিচয় পেয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ক্যাম্প নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে আছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে। তবে ঠিক হয়নি দিনক্ষণ।

এ ব্যাপারে আবুল কালাম বলেন, প্রত্যাবাসন নিয়ে কিছু কাজ হয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর মূল সমঝোতাটি হল মিয়ানমারের সঙ্গে। একেবারেই যে অগ্রগতি হয়নি তা বলা যায় না। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়েছে।

 

এরপর আরো দুইটি চুক্তি হয়েছে। দুইটি বৈঠক হয়েছে। এরই মধ্যে আট হাজারের অধিক লোকের একটি তালিকা আমরা তাদের কাছে দিয়েছিলাম। সে তালিকায় এক হাজার ১০০ এর মত লোকের ব্যাপারে তারা তাদের মতামত জানিয়েছে।

আবুল কালাম আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপার, তাদের কোথায় নেওয়া হবে এ ব্যাপারগুলো নিশ্চিত না হয়ে তাদেরকে ঠেলে দিতে পারি না।

তিনি আরো বলেন, আশা করছি, মিয়ানমার যেভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেভাবে তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে,তারা তাতে সাড়া দেবে বলে আশা করছি।

‘পুলিশ ভিনগ্রহ থেকে আসা কোনো প্রাণী নই, রক্ত মাংসে গড়া মানুষ’

সিটিজি বাংলা,

 

 

ঈদের দিন সকালে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তার মনের কষ্টগুলো তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন তিনি। সরকারের প্রদত্ত মুঠোফোন কল বিড়ম্বনা এভাবেই লিখেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পুলিশ কর্মকর্তার ফেসবুকের লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো:–

বি.দ্র.: ঈদের দিনে এরকম কঠিন একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য দুঃখিত। যখন আজো সকাল ৬:৩০টায় আপনাকে ঘুম থেকে উঠতে হবে ঈদ জামাতের তদারকি করতে, তখন দুই ঘণ্টা আগে কেউ ঘুম ভাঙিয়ে দিলে, আমাদের মনেও ক্ষোভ সঞ্চার হওয়াটা স্বাভাবিক!

সরকারি ফোন আমরা ২৪ ঘণ্টায় বন্ধ রাখতে পারি না, তাই অপ্রত্যাশিত সময়ে অপ্রয়োজনে নক করা থেকে বিরত থাকুন প্লিজ। ঈদ মোবারক।

ঘটনা ১: গত পরশুর আগের রাতে এক ভদ্রলোক ফোন করলেন মধ্যরাত /সকাল ৪:৩৫ মিনিটে! সম্ভবত জানতে আমি ঠিকঠাক ঘুমাচ্ছি কিনা! ফোন ব্যাক করতেই বলে উঠলেন, ‘সরি হাতের ঘষা লাইগা আপনার কাছে কল গেছেগা।’ আমার মেয়েটার পাতলা ঘুম ভেঙে গেলো! সেই ঘুম ঘুমালো তিন ঘণ্টা পর- অর্থাৎ আমার সহধর্মিনী’র ঘুম হারাম…!

ঘটনা ২: এরপর গত পরশু দিন এক ভাই ফোন করলেন ঠিক ভোর ০৫ টা বেজে ০৩ মিনিটে! খুব সকালে সরকারি ফোন বেজে উঠলে ভয় পেয়ে যাই, এলাকায় খারাপ কিছু ঘটলো কি না এই ভেবে! তিনি ফোনে মেসেজ পাঠালেন পর মুহূর্তেই ‘বিষয় মোবাইল চুরি অথবা ছিনতাই সম্পর্কিত’। তাঁর জানা থাকার কথা এরূপ ঘটনা ঘটলে জিডি করতে হয়; তথাপি তিনি কল করেছেন এবং যথারীতি আমার মেয়েটার ঘুম ভেঙে যায়! শুক্রবার বিধায় একটু দেরিতে অফিসে যাবো তাই মেয়েটাকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলাম। চার ঘণ্টায়ও আর ঘুম পাড়াতে পারিনি! সাথে উপহার হিসেবে আখেরি জুমা মিস করেছি- আমি বদনসিব। কারণ ঘুমাতে না পেরে শেষে আমার চোখ জোড়াও ঘুমিয়েছিল নামাজের মুহূর্তে!

ঘটনা ৩: গতকাল রাতে ভোর চারটা বেজে ১৮ মিনিট আরেক ভদ্রলোক ফোন করলেন এবং জানালেন ‘সরি আমার বন্ধুকে ফোন করতে যেয়ে আপনাকে ফোন করে ফেলেছি!’ তার দুঃখ প্রকাশের প্রতি যত্নশীল হওয়ার সুযোগ না থাকলেও তাকে বুঝিয়ে বলতে হলো ভদ্র মানুষেরা এত সকালে অপ্রয়োজনে নক করেন না!

 

 

ঘটনাসমূহের নৈতিক শিক্ষা

পুলিশের সরকারি মোবাইল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হয় যেহেতু আমরা সর্বদাই অন ডিউটি! এমন কোনো বিপদ যার জন্য কোনো কূল কিনারা পাচ্ছেন না, মুহূর্তেই সহায়তা দরকার, আমাদের ফোন করুন। সেবা দিতে আমরা বাধ্য। আপনাদের সেবা প্রদানই আমাদের দায়িত্ব।

কিন্তু অপ্রয়োজনে, গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছাড়া ফোন করে আমাদের ও আমাদের পরিবারের দয়া করে বারোটা বাজাবেন না! দয়া করে ভুলবেন না আমরা ভিনগ্রহ থেকে আসা কোনো প্রাণী নই, আপনাদের মতো রক্ত মাংসে গড়া মানুষ। প্রতিদিন গড়ে ১৪ ঘণ্টা সরাসরি কাজ করে মোবাইলে কথপোকথন চলতেই থাকে..
সেই হিসেব করলে মোট ১৮ ঘণ্টার ওপরে সার্ভিস দিয়ে থাকেন আমাদের অনেকেই!! এই রমজানে দৃশ্যমান পরিশ্রম সবচেয়ে বেশি করতে হয়েছে পুলিশকেই!
নাহ, এতে আমাদের কোনো কষ্ট নেই। জীবনের অপরিহার্য অংশ হিসেবেই পেশাকে মেনে নিয়েছি।

 

কিন্তু আমাদেরও পরিবার আছে, তাদেরও বিশ্রাম আছে। আমাদের ছোট্ট বাচ্চাগুলোর বুঝি ঘুমও থাকতে নেই।

আপনার সাময়িক খামখেয়ালিপনা আমাদের মনোবেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়…! সরকারি ফোন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে বিধায় অপ্রয়োজনেও কড়া নাড়বেন, সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসুন প্লিজ। আবারও সকলকে ঈদ মোবারক!

ভালো থাকুন, ভাল রাখুন…!

ফেভারিট আর্জেন্টিনার শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্বকাপে

সিটিজি বাংলা, স্পোর্টস ডেস্ক:

 

গেল ২০১৪ তে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয় আর্জেন্টিনার। এবারও ২০১৮ রাশিয়ার বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় একই দল আর্জেন্টিনা দলে।

বাছাইপর্বে দলটিকে বেশ ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হলেও বিশ্বকাপে তাদের ফেবারিট ভাবা হচ্ছে।
দলটির সুবিধা হচ্ছে তাদের একজন মেসি আছে যে কিনা পাল্টে দিতে পারেন পুরো চিত্র।

তাছাড়া অ্যাগুয়েরো ও দিবালার উপস্থিতিও দলটির জন্য বোনাস।

ফেভারিট এই টিমের কিছু দুর্বলতাও আছে। গতবার ডিফেন্স সামলানো জাবালেতা নেই এবার। তাছাড়া মাসচেরানোর ফর্মও ভালো যাচ্ছে না।

ভক্তদের জন্য আর্জেন্টিনার শক্তি ও দুর্বল দিকগুলো নিয়ে আলোচনা তুলে ধরা হলো:-

আর্জেন্টিনার শক্তি যেখানে:

এক. আর্জেন্টিনার একজন মেসি আছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকাই কোচ সাম্পাওলির প্রধান শক্তি। স্বাভাবিকভাবেই এই তারকাকে রুখতে বিপক্ষ দলের একাধিক খেলোয়াড় ব্যস্ত থাকে। এটাই হচ্ছে তাদের বোনাস পয়েন্ট। এই সুযোগে গোল করতে পারেন অন্য খেলোয়াড়েরা।

 

দুই. দলটির মাঝমাঠের দায়িত্বে থাকেন মূলত ডি মারিয়া। এই তারকার ফর্ম এবার অসাধারণ। তাছাড়া দিবালা ও হিগুয়েইনও আছেন দারুণ ফর্মে। এই চার তারকাই খেলেছেন ২ থেকে তিনটি করে বিশ্বকাপ। তাই তাদের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারটা বেশ পোক্ত। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতাই অনেক কিছু বদলে দেয়।

তিন. এবার আর্জেন্টিনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে পাভন। এই তারকার এটাই প্রথম বিশ্বকাপ। তাকে আর্জেন্টিনা গোপন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। পাভন এবার লীগে বেশ উজ্জ্বল ছিলেন। আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই শীত প্রধান দেশগুলোতে খেলে। তাই তাদের রাশিয়াতে মানিয়ে নিতে কোনো কষ্ট হচ্ছে না।

 

 

আর্জেন্টিনার দুর্বলতা:

এক. অভিযোগ আছে, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ যতই শক্ত তাদের মিডফিল্ড ততই দুর্বল। যদিও ধারণা করা হচ্ছে মেসিকে মিডফিল্ডেই খেলানো হবে। তবে তাদের প্রধান সমস্যাটা হচ্ছে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে। এখানে সাধারণত খেলে থাকেন লুকাস বিগলিয়া ও মাসচেরানো। মাসচেরানো বর্তমানে তার আগের ফর্মে নেই। তিনি নিয়মিত দলে থাকেন কিনা সেটাই নিশ্চিত না। তার বদলি ম্যাক্সি মোজার অবস্থাও ভালো না।

তাছাড়া আরেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লুকাস বিগলিয়া মাত্র ইনজুরি থেকে সেরে উঠেছেন। সে ফর্মে থাকলেও পুরো ফিটনেস বিশ্বকাপের আগে পাবেন কিনা প্রশ্ন আছে।

 

দুই. গতবার সবচেয়ে ভালো ডিফেন্স ছিল আর্জেন্টিনার। তবে এবার সব উলট পালট হয়ে গেছে। এবার আর্জেন্টিনার প্রধান দুর্বলতা হচ্ছে রাইটব্যাক। এই পজিশনে খেলা তাগলিয়াফো একদমই নতুন। মার্কাস রহো তো নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। তাই এটা সাম্পাওলির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের বিষয়।

তিন. লেফটব্যাকে মার্কাদোকে দিয়ে কোনো ভরসা নেই। তার দলে থাকাটাও এটা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। তবে এখানে খেলা অপর তারকা আনসালাদি মোটামুটি ফর্মেই আছেন। তবে তার অভিজ্ঞতাটা একটু কম। আর্জেন্টিনার আরেক দুর্বলতা হলো তাদের গোলকিপার। এবার ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন রোমেরো। তার জায়গায় এখন খেলবেন কাবাল্লেরো। সে উপযুক্ত তবে রোমেরোর মতো না।

 

এবার ২০১৮ রাশিয়ার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা টিম:

গোলকিপার: নাহুয়েল গুজম্যান, উইলি কাবাল্লেরো ও ফ্রাঙ্কো আরমানি।

ডিফেন্ডার: গ্যাব্রিয়েল মার্কাদো, ক্রিশ্চিয়ান আনসালদি, নিকোলাস ওতামেন্দি, ফেদ্রেরিকো ফাজিও, মার্কস রোহো, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, মার্কস আকুইনা ও এদুয়ার্দো সালভিও।

মিডফিল্ডার: হাভিয়ের মাসচেরানো, লুকাস বিগলিয়া, এভার বানেগা, জিওভানি লো সেলসো, ম্যানুয়েল লানজিনি, এঞ্জেল ডি মারিয়া ও ম্যাক্সি মেজা।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, পাওলো দিবালা, সার্জিও আগুয়েরো, গঞ্জালো হিগুয়েন ও ক্রিস্টিয়ান পাভন।

বিখ্যাত তিন মিউজিশিয়ান প্রথমবার এক মঞ্চে

সিটিজি বাংলা:

 

উপমহাদেশের বিখ্যাত তিন মিউজিশিয়ান প্রথমবারের মতো একই মঞ্চে হাজির হচ্ছেন।

ঈদ উপলক্ষে গান বাংলা টেলিভিশনের উইন্ড অব চেঞ্জের তৃতীয় সিজনে দেখা মিলবে জীবন্ত কিংবদন্তী এই তিন মিউজিশিয়ানের।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উইন্ড অব চেঞ্জের তৃতীয় সিজনে গান গাইবেন বাংলাদেশের ২০ জন জনপ্রিয় শিল্পী। তাদের মধ্যে ঈদের প্রথম দিনে গান পরিবেশন করবেন- রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, উইনিং ব্যান্ডের চন্দন, প্রিয়, শামীম, সজীব, অ্যান্ড্রু কিশোর, লুইপা ও কৌশিক হোসেন তাপস।

তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন ভারতের অস্কারবিজয়ী মিউজিশিয়ান এ আর রহমানের প্রধান পার্কাশনিস্ট শিবামনি। তিনি একাধারে মিউজিকের অনেকগুলো যন্ত্র বাজাতে পারেন। ২০০৮ ও ২০১০ সালের আইপিএলে ড্রামস বাজিয়ে যিনি দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন।

অন্যদিকে রয়েছেন পাকিস্তানি গীতিকার, সুরকার ও কম্পোজার মিকাল হাসান।পাকিস্তানে তিনি নিজের ব্যান্ডদল মিকাল হাসান ব্যান্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০০০ সালে দেশটির লাহোরে আন্তর্জাতিক সুফি রক প্যাটার্নের এই ব্যান্ডদলের গোড়াপত্তন করেন মিকাল।

এছাড়া রয়েছেন বাংলাদেশের মিউজিশিয়ান কৌশিক হোসেন তাপস। তিনি তার কাজের ক্ষেত্রে দেশ ও দেশের বাইরে যথেষ্ট স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০১৩ সালে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ ও চলতি বছরে ভারত থেকে ‘দাদা ফালকে এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ তার কাজের অন্যতম বড় স্বীকৃতি। উইন্ড অব চেঞ্জের মূল কারিগরও তিনি।

উইন্ড অব চেঞ্জ অনুষ্ঠানটি প্রসঙ্গে ভারতীয় মিউজিশিয়ান শিবামনি বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী মিউজিশিয়ানরা বাংলা গানের সঙ্গে দারুণ ভাবে বাজাচ্ছেন। সংগীতের যে আসলে কোনো নির্দিষ্ট ভাষা নেই সেটি কৌশিক হোসেন তাপস প্রমাণ করে দিয়েছেন। এরকম জনপ্রিয় টিভি শোতে অংশ নিতে পেরে আমি নিজেও অনেক গর্বিত।’

পাকিস্তানি মিউজিশিয়ান মিকাল হাসান বলেন, ‘উইন্ড অব চেঞ্জে এটিই আমার প্রথম অংশগ্রহণ। ভারত কিংবা পাকিস্তানে এরকম আন্তর্জাতিক মানের গানের অনুষ্ঠান নেই। তারা স্থানীয় মিউজিশিয়ানদের নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু বাংলাদেশে এসে পৃথিবীর সেরা সব মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে একই মঞ্চে কাজ করছি। এটা আসলেই দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।’

বাংলাদেশী কৌশিক হোসেন তাপস বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন দেশের মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে কাজ করার যে অভিজ্ঞতা আমরা অর্জন করছি সেটির গুরুত্ব অনেক বেশি। এতে করে আমরা প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদেরকে তুলে ধরছি। আমাদের বাংলা গানের প্রসারে উইন্ড অব চেঞ্জের অবদান অনস্বীকার্য।’

স্বৈরাচারী উপাধি বদলে বিশ্ব নেতা এখন কিম জং উন

সিটিজি বাংলা: আন্তর্জাতিক:

 

গেল কয়েক মাস আগের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদগুলো পড়লে দেখা যাবে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে স্বৈরাচার বলেই আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এখনো হয়তো আখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুটা হলেও এর ধরন পাল্টেছে।

আগে বলা হতো গণপ্রজাতন্ত্রী উত্তর কোরিয়ায় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন কিম জং উন। দুই দিন আগেও তাকে স্বৈরশাসক বলা হয়। এমনকি তাকে বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও স্বৈরশাসক হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ফক্স নিউজ। কিন্তু গতকালের পরিস্থিতি কিম জং উনকে অনেক পাল্টে দিয়েছে। তিনি স্বৈরশাসক থেকে এখন বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছেন।

 

সুইজারল্যান্ডে পড়ালেখা করে আসা ৩৪ বছর বয়সী নেতা কিম জং উন ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উত্তর কোরিয়াকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখেন। তিনি বিচ্ছিন্ন দেশের নেতা হিসেবেই পরিচিত। কয়েক মাস আগেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছেন নিজের কাকা, সৎ ভাই এবং তার বিরোধী সরকারি কর্মকর্তাদের। এমনকি তার অনুষ্ঠানে ঘুমানোর কারণে প্রাণ হারাতে হয়েছে এক সেনাপ্রধানকেও। তার মতের সঙ্গে মিল না হওয়ায় কয়েকদিন আগে চাকরিচ্যুত হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানসহ তিন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা।

 

উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাস করা অহন চ্যাং-ইল বলেন, এই যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে কিম জং উন দেশের ভেতর অনেক বেশি সম্মান অর্জন করবেন। উত্তর কোরিয়ানরা এটা দেখতে পাবেন যে, তাদের নেতা কেবল তাদের নেতাই নন, আন্তর্জাতিক সমাজেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি এখন ট্রাম্পের পর্যায়ে চলে গেছেন।

অহন চ্যাং-ইল বলেন, কিমের মূল উদ্দেশ্য অনেকটাই সফল হয়েছে। তাকে এখন আর অবজ্ঞা করা যাবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, সারা বিশ্বের কাছে কিম জং উন পরিচিত হয়ে উঠলেন একজন সমঝোতাকারী হিসেবে। শেষ পর্যন্ত তার কথা ঠিক থাকবে কিনা সেটা নিশ্চিত হতে হলে আরো অনেকদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা তাকে আরো সম্মানিত করে তুলেছে।

ট্রাম্প বলেছেন, এই বৈঠক আমার জন্য সম্মানের এবং আমি নিশ্চিত যে আমাদের মধ্যে চমত্কার সুসম্পর্ক তৈরি হবে।

ট্রাম্প বলেছেন, কিমকে অবশ্যই আমি হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাবো। এছাড়া তার সঙ্গে ‘বিশেষ বন্ধন’ তৈরির কথা বলেন তিনি। এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, কিম খুবই প্রতিভাবান। তিনি খুব কম বয়সে একটি দেশের ক্ষমতা নিয়েছেন ও কঠোরভাবে দেশটি পরিচালনা করছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, কিম এরইমধ্যে প্রধান মিসাইল পরীক্ষার জায়গা ধ্বংস করছেন। ট্রাম্প বলেছেন, পরিবর্তন আসলেই সম্ভব।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান কিমের সাথে আমার বৈঠক আন্তরিক, গঠনমূলক আর খোলামেলা ছিল। অত্যন্ত ঘটনাবহুল ২৪ ঘন্টা পার করলাম আমরা। সত্যি বলতে ঘটনাবহুল তিনটি মাস পার হলো।

উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, অবিশ্বাস্য একটি জায়গা হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করার সম্ভাবনা আছে তাদের। আর কিম বলেন, এখানে আসা আমার জন্য সহজ ছিল না। আমাদের অতীতের বিশ্বাস ও ধ্যানধারণা এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সেসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়েই আমরা আজ এই পর্যন্ত এসেছি।

 

বিবিসির সাংবাদিক রুপার্ট উইংফিল্ড হায়েস বলেন, এই বৈঠকটি উত্তর কোরিয়ার নেতার জন্য একটি বড় বিজয়। অতীতের যেকোনো সম্পর্ক থেকে এটি ট্রাম্পের জন্যও বড় জয় এবং সে তার (কিমের) সাথে দেখা করতে পেরে সম্মানিত।

কয়েকমাস আগেও যে লোকটিকে তিনি ‘লিটল রকেট ম্যান’ বলেছিলেন এবং বিশ্বের নিন্দিত যুগের নেতা বলে অভিহিত করেছিলেন, তার সাথে এই বৈঠকটি সত্যিই অসাধারণ। – রয়টার্স ও বিবিসি

টেকনাফের একরামের স্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন করা হয়েছে

 

সিটিজি বাংলা:  কক্সবাজারে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের স্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন করা হয়েছে।

৪ জুন সোমবার একটি জাতীয় পত্রিকার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, তিন দিন আগে থেকে তার দুই মেয়ে তাহিয়া ও নাহিয়ানকে নিয়ে চট্টগ্রামে মায়ের ভাড়া বাসায় রয়েছেন একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম।

আরও জানা যায়, কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একরামুলের স্ত্রীর যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন।

একরামুলের জ্যেষ্ঠ ভাই নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করার জন্য আয়েশার মোবাইল নম্বরটি তার কাছে চেয়ে নেওয়া হয়।

একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, রবিবার বিকাল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার কাছে একটি ফোন আসে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের থেকেও তাকে ফোন করা হয়েছিল।

আয়েশা বেগম আরও বলেন, ‘যিনি ফোন করেছিলেন তার নাম-পরিচয় মনে নেই।’ তবে ফোনকারী নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন,

ঘটনার বিস্তারিত জানতে তার সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করা হবে জানান আয়শা।

আয়েশা আরও জানান, গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাও তাকে ফোন করেন। ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে তার (আয়েশা) সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে মন্ত্রণালয়।

শুরু থেকেই একরামুলের পরিবারের দাবি ছিল, একরামকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩১ মে টেকনাফে এক সংবাদ সম্মেলন করেন একরামুলের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম সাংবাদিকদের কাছে একটি অডিও রেকর্ড তুলে ধরেন। সেই রেকর্ডটি বর্তমানে খতিয়ে দেখছে র‍্যাব।

এছাড়া, একরামুল নিহতের বিষয়ে গত ২ জুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো ভালো কাজ, বৃহৎ কাজ, মহৎ কাজ করতে গিয়ে দুই একটা ভূল পারে

তাছাড়া গত ৩ জুন রাজধানীর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিদ্ধেশরী শাখায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান একরামুল হকের পরিবারের দেওয়া অডিও রেকর্ডটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এও বলেন, ‘অডিও ক্লিপটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য,  ২৬ মে বন্দুকযুদ্ধে একরাম নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে র‍্যাপিড এ‍্যাকশন ব‍্যাটলিয়ন (র‍্যাব)।বাহিনীটি দাবি করেন, ইয়াবা চালানের লেনেদেনের খবর পেয়ে অভিযানে যায় একটি দল। সে সময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় র‌্যাব বাহিনী।

পরে, মাদক চক্রের অন্যরা পিছু হটলে একরামুল হকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, ছয়টি গুলি ও পাঁচটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।