চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

প্রবাস

‘দরকার হলে এদেশে ভিক্ষা করে খাবো, কিন্তু সৌদি আরবে যাবো না’

সিটিজি বাংলা, প্রবাস ডেস্ক:

 

সৌদি থেকে ফিরে আসা নির্যাতিত নারী

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন নারী শ্রমিকরা।

১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটায় ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ইওয়াই২৫৮ ফ্লাইটে আবুধাবি থেকে ঢাকার শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তারা।

বৃহস্পতিবার রাতের এই ফ্লাইটে ফেরত আসা একাধিক নারী শ্রমিক অশ্রু সজল চোখে অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে বলেন— ” দরকার হলে এদেশে ভিক্ষা করে খাবো, কিন্তু সৌদি আরবে আর যাবো না”

এই ফ্লাইটটিতে অন্তত বাংলাদেশে ফিরেছেন ৭৮ জন নারী শ্রমিক বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

এয়ারপোর্টে কথা হয় সৌদি ফেরত নারী শ্রমিক শেফালি আক্তারের ( ছদ্মনাম ) সঙ্গে। প্রায় একবছর আগে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সৌদি আরবে। প্রথম প্রথম ঘরের কাজ করানো হলেও পরবর্তীতে কফিলের (নিয়োগ কর্তার) আচরণে পরিবর্তন দেখতে পান শেফালি। তিনি অভিযোগ করেন— কফিল বাসার কাজের ফাঁকে তাকে ‘খারাপ’ কাজে বাধ্য করতো। রাজি না হলে শারীরিক নির্যাতন চালাতো। এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কফিল তার গর্ভপাত করায় বলে দাবি করেন শেফালি। গৃহকর্তার নির্মম এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে একসময় সেই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দেন তিনি।

 

সৌদি থেকে ফিরে আসা নির্যাতিত নারী

শেফালি আক্তার আরো বলেন, ‘কী যে খারাপ খারাপ কাজ করতো তারা। রাজি না হইলেই ইচ্ছামতো মারতো। একবার অসুস্থ হইয়া পড়ায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে জানতে পারি, আমার প্যাটে তিন মাসের বাচ্চা। পরে কফিল ওষুধ খাওয়ায়ে বাচ্চা ফালায় দেয়। এরপর আবারও অত্যাচার করতো আমারে। এক মাস আগে আমি কফিলের বাড়ির থেইক্যা পালায়ে পুলিশের কাছে ধরা দেই। পুলিশ আমারে প্রায় সপ্তাহখানেক জেলে রাখে। এরপর সফর জেলে (ডিপোর্ট সেন্টারে) দিয়া দেয়। সেখান থেকে আজকে আমারে দেশে পাঠাইসে। আমারে যেই কোম্পানি পাঠায়সিল আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করমু।’

 

৪০ বছর বয়সী বিধবা ফরিজা অনেক আশা নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। একমাত্র মেয়েকে ভালোভাবে মানুষ করবেন— সেই আশা থেকেই তার সৌদি আরবে যাওয়া। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব যান তিনি। কুমিল্লার সুমন নামের এক দালাল টাকার বিনিময়ে ট্রেনিং কার্ড (বিএমইটি কার্ড) করে দেন বলে অভিযোগ করেন ফরিজা। এক বাড়িতে কাজ করার কথা থাকলেও এই সময়ের মধ্যে দুই বাড়িতে কাজ করেছেন তিনি। প্রথম মালিকের বাড়িতে দুই মাসের বেতন পেলেও পরে আর কোনও বেতন দেওয়া হতো না।

 

ফরিজা কঠিন অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমার স্বামী নাই। একটা মেয়ে আছে। তার জন্য আমি গেছিলাম সৌদি আরব। দালাল আমারে টাকা দিয়া ট্রেইনিং কার্ড কইরা দিছে। আমার যাওয়া লাগে নাই। ১২০০ টাকা (সৌদি রিয়াল) বেতনের কথা কইছিল। সেখানে গিয়া প্রথম দুই মাস ৯০০ টাকা পাইছি। ওইখান থেকে পরে আমারে অন্য বাসায় পাঠায়। সেখানে কাজ করছি পাঁচ মাস। কিন্তু বেতন সব রাইখা দিছে। বেতনের কথা কইলে ম্যাডাম আমারে মারতো। আমি আরবি ভাষায় তাদের কাছে কইতাম— আমার বাড়িতে টাকা পাঠানোর কথা। কেউ শুনতো না, খালি মারতো।’

 

সৌদি থেকে ফিরে আসা নির্যাতিত নারী

 

বৃহস্পতিবার রাতের একই ফ্লাইটে ফেরত আসা একাধিক নারী শ্রমিক জানিয়েছেন, জীবনের স্বপ্ন দেখা এই নারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন সৌদি আরবে। তাই বাংলাদেশের মেয়েদের সৌদি আরবে না পাঠাতে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে করজোড়ে অনুরোধ জানান। তারা আরও বলেন, সৌদি আরবে নিয়োগকর্তার বাসায় পরিষ্কার জায়গায় থাকতে দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের অনেককেই থাকতে হতো রান্নাঘরে। খাবার হিসেবে তারা পেতেন রুটি আর পানি। শারীরিক নির্যাতন, বাসস্থান ও খাবারের সমস্যা, বেতন না পাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কেউ দুই বছর, কেউ একবছর, কেউ তিন-চার মাস, আবার কেউবা একমাসের মাথায় ফেরত চলে আসছেন সেদেশ থেকে।

 

এছাড়া, সেদেশের মক্তবে (নিয়োগকর্তার রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস) নিয়েও নারী শ্রমিকদের ইচ্ছামতো শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন তারা। এর মধ্যে আব্দুল্লাহর মক্তবে সবচেয়ে বেশি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিরে আসা নারী শ্রমিকরা। তারা এও বলেছেন, সেখানে আরও ৫০-৬০ জন বাংলাদেশি নারী শ্রমিক বর্তমানে অবস্থান করছেন। তাদের ওপর বর্বর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে ফিরে আসা নারী শ্রমিক সুনামগঞ্জের রুজিনাকে দেখা গেছে মানসিক ভারসম্য হারিয়ে এয়ারপোর্টে উদ্ভট আচরণ করতে। তার সফর সঙ্গীরা জানান, রিয়াদে থাকাকালীন তার এই অবস্থা হয়েছে। কিছু সময় ঠিক থাকে, ফের কিছু সময় শুরু হয় তার পাগলামী।

 

রুজিনার মানসিক অবস্থা দেখে তাকে রাতে আশকোনায় ব্র্যাকের সেফহোমে নিয়ে যান সংস্থার তথ্য কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন। শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তিনি বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রুজিনাকে তার বাড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে সকালে। তখন তিনি কিছুটা সুস্থ ছিলেন।

 

দেশে ফিরে আসা এই অসহায় নারী শ্রমিকদের বিশেষভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে ব্র্যাকের ইমারজেন্সি সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর ভালনারেবল রিটার্নি। ফিরে আসা শ্রমিকদের প্রথমেই খাবার দিয়ে সহায়তা করা হয় এই প্রোগ্রামের আওতায়। এছাড়া, চিকিৎসা,থাকার জায়গা এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্তদের কাউন্সিলিংসহ নানাভাবে তাদের সহায়তা করা হয়ে থাকে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত আমরা খাবার দেই, এরপর যাদের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাও ব্যবস্থা করে থাকি। অন্য কোনও হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আমরা সেই ব্যবস্থাও করি। এর মধ্যে আমরা অনেককেই পাই, যারা এই মুহূর্তে বাড়িতে যেতে চান না, কিংবা পরিবার তাকে নিতে চায় না। আবার অনেকে দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেন না। তাদেরকে আমাদের সেন্টারে নিয়ে যাই। কারও যদি চিকিৎসা দরকার হয়, কিংবা মানসিকভাবে বিপর্যস্তদের যদি কাউন্সিলিংয়ের প্রয়োজন হয়, আমরা সেই সাপোর্টটা দিয়ে থাকি।’

 

সৌদি থেকে ফিরে আসা নির্যাতিত নারী

দেশে ফিরে যারা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন, তারা কীভাবে আইনি সহায়তা পেতে পারেন— এই প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে শরিফুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যদি মামলা না হয়, তাহলে তো সেদেশের পুলিশ তদন্ত করতে পারে না। যেহেতু এরকম ঘটনার স্থল সৌদি আরব, সেক্ষেত্রে কী করতে পারে বাংলাদেশ। এখানে যেটা করা যায়— যদি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কেউ প্রতারণার শিকার হন, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সে ধরনের ক্ষেত্রে ঘটনার শিকার নারী যদি মামলা করতে চান, তাহলে আমরা আইনি সহায়তা দিয়ে থাকি।’

 

এদিকে, সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা সাবিনা চার মাস আগে সেদেশে গিয়েছিলেন। সৌদি আরবে কাজে যাওয়ার জন্য দালালকে ৪০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন। কথা ছিল কাজ হবে ফলের ফ্যাক্টরিতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাকে বাসাবাড়ির কাজের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাবিনা অভিযোগ করে বলেন, ‘কাজ করতে না চাওয়ায় আমাকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি ভাঙা গ্লাস দিয়ে পা কেটে দেওয়া হয়েছে।’

 

তিন মাস আগে সৌদি আরবে গিয়ে দুই মাস ‘সফর’ জেলে কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন জাহানুর। তিনি এর আগে মিশরে কাজ করেছেন। কিন্তু সেদেশের অভিজ্ঞতা আর সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে জানান তিনি। মালিকের কথা না শোনায় তাকে মক্তবে (অফিসে) দিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। সেখানে জাহানুরকে বলা হতো— বাংলাদেশ থেকে তাকে কিনে নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘মক্তবে মেয়েদের বুকে হাত দিয়ে মারা হয়। সেখানে বাংলাদেশি যারা আছেন, তারা পরামর্শ দিতেন— এদেশে আর আইসেন না!

 

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি নারী শ্রমিক যায়। আবার নানা কারণে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি নারী ফেরত আসেন। তবে কোনও সংস্থা কিংবা মন্ত্রণালয়, কারও কাছে এই ফেরত আসা শ্রমিকের বিষয়ে সঠিক কোনও তথ্য নেই।

 

বিমানবন্দরের প্রবাস কল্যাণ ডেস্ক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের ৩ মে ৩৫ জন, ১২ মে ২৭ জন, ১৯ মে ৬৬ জন, ২৩ মে ২১ জন, ২৭ মে ৪০ জন এবং ৩ জুন ২৯ জন,১৮ জুন ১৬ জন এবং ১৯ জুন ২৭ জন এবং ২৬ জুন ২২ জন, ১০ জুলাই ৪২ জন, ২১ জুলাই ৩৪ জন, ২৮ জুলাই ৪২ জন, ৩ আগস্ট ২৮ জন নারী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। তবে এর বাইরেও আরও নারী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যম হতে জানা যায়।
(সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)

মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযানে ৫ শতাধিক গ্রেফতার

সিটিজি বাংলা, আন্তর্জাতিক:

মালয়শিয়ায় সাঁড়াশি অভিযানে আটককৃতরা

অবৈধদের বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরই ৩+১ এর মাধ্যমে অবৈধ শ্রমিকদের দেশে ফেরার সুযোগ শেষ হতেই চলছে মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযান। ৩১ আগস্ট স্বাধীনতার প্রথম প্রহর থেকেই দেশব্যাপী চলমান সাঁড়াশি অভিযানে পাঁচ শতাধিক ও তার বেশি অবৈধ শ্রমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানিয়েছে।

 

তবে ইমিগ্রেশন এর পক্ষ থেকে ৩৯৫ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশী আছে তা এখনও অভিবাসন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

 

অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় একজন ইমিগ্রেশন অফিসার মহিলা আহত হয়েছেন। সাঁড়াশি অভিযানের ফলে মালয়েশিয়ার বাঙালি অধ্যুষিত কোতারায়া এলাকা এখন ফাঁকা। এছাড়াও বাস গুলোতেও আর দেখা মিলছে না বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের। অভিযানের ফলে মালয়েশিয়াতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে বলে একাধিক মালিক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। অনেকেই ভিসা থাকার সত্বেও গ্রেফতার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। অনেকের এজেন্টর নামে ভিসা করে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে। কিন্তু অভিবাসন বিভাগ বলছে অনুমতি বিহীন অন্য জায়গায় কাজ করলেই তাদেরকে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত করা হবে।

এ বিষয়ে অভিবাসন বিভাগের প্রধান জানান, মালশিয়া সম্ভাব্য সব জায়গায় আমাদের অভিযান পরিচালিত হবে এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের আইনের আওতায় আনতে পারছি তদন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ শ্রমিক এবং মালিকদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

 

বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অভিবাসী ধরা পড়লেও এবারের বেলায় রয়েছে ভিন্ন। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত সহ জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। তিন বাহিনীর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা মালয়েশিয়াকে অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করা হবে বলে জানালেন অভিবাসন বিভাগের প্রধান।
যে তিন বাহিনী দিয়ে এবারো অভিযান সাজানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন, পুলিশ ও রেলা। অবৈধ অভিবাসীদের বাসস্থান ও কর্ম ক্ষেত্র চিহ্নিত করার জন্য রয়েছেন বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করবে অভিবাসন বিভাগ। এছাড়াও মালয়েশিয়ার পরিত্যক্ত ঘর, ব্রিজের নিচে ও জঙ্গলে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান অভিবাসন বিভাগের প্রধান।

 

অভিবাসীদের জনসমাগম সহ একত্রিত হতে দেখলেই অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেজে অথবা টেলিফোন নাম্বার এ যোগাযোগ করতে বলা বলা হয়েছে।

 

তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রেখে অভিযান পরিচালনা করা হবে। শুধু অবৈধ অভিবাসী সন্ধানে নয় বরং তাদের মালিক কেউ আইনের মুখোমুখি করা হবে এবারের অভিযানে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোন প্রকার আউট পাস সংগ্রহ করতে দেয়া হবে না বলে জানান অভিবাসন বিভাগ প্রধান।

বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, বিদেশি নাগরিক দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান আরো জোরদার করা হবে। এছাড়া কাজের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করলে তাকেও অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে। আর অবৈধ হিসেবে ধরা পড়লেই ব্ল্যাক লিস্টসহ জেল জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

সৌদি আরবের জেদ্দায় একই পরিবারের চারজন বাংলাদেশী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

সিটিজি বাংলা, প্রবাস প্রতিবেদক:

জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাবা ও তিন মেয়ে

সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার একই পরিবারের ৪ জন নিহত ও অপর দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

১৬ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত (বাংলাদেশ সময়) সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে নিহতদের স্বজনদের সূত্র জানায়।

সন্দীপের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে বারোটার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সৌদি আরবের জেদ্দায় মহাসড়কে। একই পরিবারের ৬ সদস্য তায়েফ যাওয়ার পথে মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। জেদ্দায় মহাসড়কে এ দুর্ঘটনায় বাবাসহ ও তিন মেয়ে নিহত হয়েছেন। অপর দুই জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

 

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-সন্দ্বীপ উপজেলার মাইডভাঙ্গা গ্রামের মৃত অহিদ রহমানের ছেলে প্রবাসী মশিউর রহমান (৪৭), তার তিন মেয়ে – সায়মা (১৪), সিনথিয়া (১২) ও সাবিহা (৯)।

দুর্ঘটনায় মশিউর রহমানের স্ত্রী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

থাইল্যান্ডের গুহা থেকে বাকি চার ফুটবলার ও কোচ উদ্ধার

সিটিজি বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

 

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের এক গুহায় আটকা পড়া ১২ কিশোরের সবাই এবং তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নেভি সিল।

যার মাধ্যমে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সফল সমাপ্তি হলো।

 

১০ জুলাই মঙ্গলবার আটকে থাকা বাকি চার কিশোরকে এবং তাদের কোচারকে উদ্ধার করে উদ্ধারকর্মীরা।

 

নেভি সিল জানায়, আগের দুই দিনের উদ্ধার কাজের পর বাকি থাকা চার কিশোর ও তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়। সবাই নিরাপদ আছেন।

তবে কর্মকর্তারা আরো জানান, আটকা পড়া কিশোরদের দেখাশোনা করতে যাওয়া একজন চিকিৎসক ও নেভি সিলের তিন সদস্য এখনো গুহা থেকে বের হননি।

থাইল্যান্ডের বন্যা কবলিত থাম লুয়াং গুহায় মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

 

 

উদ্ধারকৃত ফুটবলারদের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে বলে জানান সিনিয়র এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় তাদের হাসপাতালে আলাদা জায়গায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানায় চিকিৎসকরা।

 

গত ২৩ জুন ফুটবল প্রশিক্ষণের পর ২৫ বছর বয়সী কোচের সাথে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ১২ কিশোর মিয়ানমার সীমান্তের নিকটবর্তী একটি ফরেস্ট পার্কের থাম লুয়াং গুহা পরিদর্শনে যায়। ভেতরে প্রবেশ করার পর প্রবল বৃষ্টিপাতে গুহার কিছু অংশ পানিতে পুরোপুরি ডুবে গেলে তারা আটকা পড়ে।

এর আগে দু’দিনের অভিযানে ১২ কিশোর ফুটবলারের মধ্যে আটজনকে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।

 

তাদের উদ্ধারে দেশটির নৌবাহিনীর ডুবুরি, সামরিক বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবী ছাড়াও অন্যান্য দেশের উদ্ধারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা অভিযান পরিচালনা করেন।

জাপানে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধ্বসে মৃতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে

সিটিজি বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১শ’ এর বেশি প্রাণহানি হয়েছে। দেশটির সরকারি এক মুখপাত্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

দেশটির এক আবহাওয়া কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এর আগে আমরা এরকম বৃষ্টিপাত দেখিনি। এবারের বৃষ্টিপাত আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে।

 

৯ জুলাই সোমবার সকাল থেকে উদ্ধারকারীরা আবারও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে। অঞ্চলটি প্রচুর কর্দমাক্ত হলেও তারা নিখোঁজদের উদ্ধারে নেমেছে।

 

জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ২০ লাখ মানুষকে উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

 

ওকাইয়ামা অঞ্চলের এক সরকারি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পানির উচ্চতা এখন কমে যাচ্ছে। ফলে আশা করা যাচ্ছে, উদ্ধারকর্মীরা হেঁটেই দুর্গম অঞ্চলগুলোতে যেতে পারবেন। হিরোশিমা অঞ্চলে বেশি প্রাণহানি হয়েছে।

 

এর আগে ৮ জুলাই রোববার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। এখনও অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদের সাহায্য প্রয়োজন।

 

শিকোকু দ্বীপের মটোইয়ামা শহরে শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত একদিনে ৫৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সোমবার বেশ কিছু অঞ্চলে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডের গুহা থেকে নাটকীয় ভাবে ৬ কিশোরকে উদ্ধার

সিটিজি বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

থাইল্যান্ডের জলমগ্ন গুহায় আটকা ১২ কিশোর ফুটবলার ও কোচকে উদ্ধারে শুরু হওয়া নাটকীয় অভিযানের প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় মোট ছয় কিশোরকে বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে।

 

৮ জুলাই রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ১৩ বিদেশি ডুবুরি ও থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর অভিজাত শাখা থাই নেভি সিলের পাঁচ সদস্য এই উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে প্রথম, ৫টা ৫০ মিনিটে দ্বিতীয় এবং এর ১৬ মিনিট পর তৃতীয় কিশোরকে গুহার ভেতর থেকে বাইরে নিয়ে আসা হয়।

 

এর কিছুক্ষণ পর আরো তিন কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। দেশটির উত্তরাঞ্চলের থ্যাম লুয়াং গুহা থেকে উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা। পরে দ্রুত সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে মং জেলার চিয়াংরাই প্রাচ্যানুকরোহ হাসপাতালে নেয়া হয়।

 

উদ্ধারকারী দলের জ্যেষ্ঠ এক সদস্য বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘গুহার ভেতর থেকে ছয় কিশোরকে বের করে নিয়ে আসা হয়েছে বলে আমি তথ্য পেয়েছি।’ প্রথম দফায় তিনজনকে উদ্ধারের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন উদ্ধার মিশনের কর্মকর্তা লে. জেনারেল কংচিপ ট্যানট্রাওয়ানিত। তিনি বলেছেন, দুর্বল কিশোরদের প্রথম দফায় উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

বিবিসির ড্যান জনসন বলেছেন, গুহা এলাকা থেকে প্রায় এ ঘণ্টার পথ জেলার প্রধান হাসপাতাল। কিশোরদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন। গুহায় ১৮ সদস্যের উদ্ধারকারী দলে থাকা চিকিৎসকরা শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্রথম কাকে বের করে আনা হবে সেটি নির্ধারণ করেন।

 

এদিকে, কিশোরদের উদ্ধারের পর উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অনেকেই উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের বীরের খেতাবে ভূষিত করে টুইট করেছেন।

 

চিয়াং রাই প্রদেশের গুহা থেকে কিশোরদের উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নাটকীয় দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন অনেকেই। এতে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্স এবং হেলিকপ্টারে করে কিশোরদের মং জেলার চিয়াংরাই প্রাচ্যানুকরোহ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা রাতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

 

উদ্ধার মিশনের যৌথ কমান্ড সেন্টারের প্রধান ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেছেন, ‘থাই নেভি সিলের পাঁচস সদস্যসহ বিদেশি ১৩ ডুবুরি সকাল ১০টায় গুহায় প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে ১০জন চেম্বার-৯ (যেখানে কিশোররা আটকা আছেন) ও মাঝপথে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত চেম্বার-৬ এর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। অন্য তিন ডুবুরি অভিযানে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় সময় দুপুর ২টায়।

 

এছাড়াও থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন এবং ইউরোপ থেকে অংশ নেয়া ডুবুরিদের অপর একটি দল গুহার প্রবেশপথ চেম্বার-৩ এ অবস্থান করছেন। চেম্বার-২ এবং চেম্বার-৩ এর মাঝে সংকীর্ণ ও উঁচু-নিচু জলমগ্ন পথে রশি বসিয়ে সহায়তা করছে এই দল। দীর্ঘ প্রায় ৪ কিলোমিটার সংকীর্ণ ও উঁচু-নিচু জলমগ্ন পথ পাড়ি দিয়ে এই কিশোররা শেষ পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারবে কি-না সেটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন আন্তর্জাতিক গুহা বিশেষজ্ঞরা।

 

গুহায় আটকা বাকি ৬ কিশোর ও তাদের কোচকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করতে আরো ১০ ঘণ্টার প্রস্তুতি দরকার বলে জানিয়েছেন ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন। তিনি বলেছেন, আগামী ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় অভিযান শুরু করা হবে। ৫০ বিদেশি ও ৪০ থাই ডুবুরি এই উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত আছেন।

তুরস্কে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ১০ আহত ৭৩ যাত্রী

সিটিজি বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

 

তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৩ যাত্রী।

৮ জুলাই রোববার ট্রেনটি গ্রিস সীমান্তবর্তী এদিরনে থেকে ৩৬২ যাত্রী নিয়ে ইস্তাম্বুলে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধ্যাপক আইউইপ গামুস বলেন, ঘটনাস্থলে ১শটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো আনা হয়েছে।

 

পরিবহন মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রেললাইনের নিচে স্থলভাগ দূর সরে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ট্রেনটি।

মেক্সিকো সীমান্তে ৩০০০ শিশুকে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠাতে ডিএনে পরীক্ষা

সিটিজি বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ আভিবাসন প্রত্যাশীদের আটকের পর তাদের সঙ্গে থাকা হাজার হাজার শিশুকে আলাদা করা হয়।

তবে দেশব্যাপী বিক্ষোভের পর এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর দেশটির ফেডারেল আদালত ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুদের তাদের পরিবারে কাছে ফিরিয়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিশুদের তাদের পরিবারের কাছে ফেরাতে ডিএনএ টেস্টের আশ্রয় নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য এবং মানব সেবা সচিব অ্যালেক্স আজার বৃহস্পতিবার একথা বলেছেন। এ খবর দিয়েছে টাইম।

 

বৃহস্পতিবার একটি কনফারেন্সে সাংবাদিকদেরকে আজার বলেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শতাধিক শিশুসহ তিন সহস্রাধিক শিশু শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যালয় দ্বারা পরিচালিত কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের তত্ত্বাবধানে ১১ হাজার ৮০০ বাচ্চা রয়েছে। যাদের অধিকাংশই একাকী সীমান্তে পৌঁছায়।

 

আজার বলেন, ফেডারেল আদালতের আদেশ মেনে সরকার ডিএনএ পরিচালনা করছে। যাতে করে দ্রুত শিশুর পিতামাতার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিএনএন। সেখানে বলা হয়, প্রশাসনের হেফাজতে থাকা পরিবারগুলোর ওপর ডিএনএ টেস্ট পরিচালনা করছে সরকার। এটা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছিল।

 

বেশ কিছুদিন ধরে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

এছাড়া সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়। আর তাদের সঙ্গে থাকা শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা শরণার্থী পরিচর্যাকেন্দ্রে পাঠানো হয়।

 

পরিবার থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করার এমন নীতির পর পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে মার্কিনীরা। আর ট্রাম্পের এমন নীতির বিপক্ষে অবস্থান নেন স্বয়ং মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এরপরই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

 

তবে পরিবার থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করার নীতি থেকে সরে আসলেও অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে অবিচল রয়েছেন ট্রাম্প।

সিরিয়ায় ১৫ ঘন্টার মধ্যে ৬০০ বারের বেশি বিমান হামলা

সিটিজি বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

 

আকস্মিক ভাবে সিরিয়ায় ১৫ ঘণ্টায় ৬০০ বারেরও বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

৫ জুলাই বৃহস্পতিবার আলজেরিয়ার গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে বৈরুত থেকে আলজাজিরার রিপোর্টার জেইনা খোদর জানান, এ বিমান হামলার ফলে বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখলের দিকে আরও এগিয়ে গেছে। বিদ্রোহীদের সাথে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর লড়াই এখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, সিরিয়ার সরকারি ও রাশিয়ার বিমানগুলো এখন দেরার বিদ্রোহী ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। মূলত দেরার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাফাসকেই লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়।

 

এদিকে ব্রিটেনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, রাতভর অভিযানে সিরিয়া ও রাশিয়া শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও বেআইনি অস্ত্র ব্যারেল বোমা হামলা চালায়। অভিযানটি বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে।

 

অন্যদিকে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিরীয় সরকারের অভিযানের মুখে গত দুই সপ্তাহে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ দেরা ছেড়ে জর্দান ও ইসরাইল সীমান্তের দিকে পালিয়েছেন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার গোলান মালভূমি ও ইসরাইল সীমান্তের দিকে ছুটে গেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আবারো রাসায়নিক হামলার আশঙ্কা

সিটিজি বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

মার্কিন যুক্তরাজ্যে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়ার ওপর রাসায়নিক হামলায় বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিলো। আবারও ব্রিটেনে রাসায়নিক হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

যে স্থানে সের্গেই ও তার কন্যার ওপর রাসায়নিক হামলা হয়েছিলো সেই সলসবুরি থেকে দশ মাইল দূরে উইল্টশায়ারের এমসবেরিতে একটি বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক দম্পতিকে। অতিরিক্ত মাদক, নাকি রাসায়নিক হামলা’ তা নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যেই ছড়িয়েছে আতঙ্ক।

 

ঘটনাটি গত শনিবারের হলেও তা প্রকাশ পেয়েছে এখন। কেউ রাতের খাবার খাচ্ছিলেন কেউবা টিভি দেখছিলেন। তখনই আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করে পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি। পুলিশের গাড়ি এবং অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দে এলাকার বাসিন্দারা কিছুটা ভীত হন। এরপরই পুলিশ বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করে।

 

সে সময় আড়াই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পুলিশ অচেতন দুইজনকে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দম্পতির চিকিৎসা চলছে স্থানীয় হাসপাতালে। এখনও জ্ঞান ফেরেনি তাদের। এছাড়া তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ। যে বাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।

 

স্যালিসবেরির কিছু এলাকায় যাতায়াত ছিল ওই দম্পতির। ফলে সেখানকার প্রতিটি জায়গাও ঘিরে রাখা হয়েছে।

 

স্ক্রিপালদের উপর ‘নভিচক’ গোত্রের এক নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হামলা হয়েছিল বলে ধারণা পুলিশের। অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এক পুলিশকর্মীও। এমসবেরির দম্পতির ক্ষেত্রে ঠিক কী হয়েছে, তা নিয়ে এখনই মুখ খুলছে না পুলিশ।

 

পুলিশ জানিয়েছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট না-আসা পর্যন্ত ওই দম্পতির সঙ্গে আসলে কী হয়েছে, তা বলা সম্ভব নয়।