চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

রঙ্গমঞ্চ

আইয়ুব বাচ্চুর জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল

সিটিজি বাংলাঃ

কিংবদন্তি ব্যান্ড সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম জানাজা জাতীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুমার নামাজের পর আইয়ুব বাচ্চুর জানাজা শুরু হয়। জানাজা পড়ান সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব আবু সালেহ মুহাম্মদ কলিমউল্লাহ।

জনপ্রিয় এ শিল্পীর জানাজায় অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জড়ো হন। প্রচুর জনসমাগমের কারণে জানাজা নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে শুরু হয়।

এর আগে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘর থেকে তার লাশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আনা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লাশ রাখা হয়।

জানাজার আগে কথা বলেন আইয়ুব বাচ্চুর ছোট ভাই ইরফান ছুট্টু। আইয়ুব বাচ্চুকে এতো ভালোবাসার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ইরফান বলেন, ‘বাচ্চু ভাই সব সময় নিজের বাবা ও মাকে সম্মান দিতেন। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাচ্চু ভাইয়ের কাছে কোনো দেনা-পাওনা থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। উনার কোনো ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করে দেবেন।’

আগামীকাল শনিবার প্রবাসী দুই সন্তান দেশে ফেরার পর শনিবার চট্টগ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশে আইয়ুব বাচ্চুর লাশ দাফন করা হবে।

আইয়ুব বাচ্চু গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি।

হৃদরোগের কারণে আইয়ুব বাচ্চু গত কয়েক বছর বারবারই হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। ২০০৯ সালে তার হার্টে রিং পরানো হয়। দুই সপ্তাহ আগে শেষ তিনি স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন।

জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। ১৯৭৮ সালে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে। এরপর ১০ বছর সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। আশির দশকে একাধিক একক অ্যালবাম বেরুলেও নব্বইয়ের দশকে ‘ডাবল অ্যালবাম’ দিয়ে এলআরবির যাত্রা শুরু হয়। তখন ব্যান্ডটির নাম ছিল ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। পরে ব্যান্ডের নাম পাল্টে রাখা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘চলো বদলে যাই’, ‘ফেরারি মন’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘হকার’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’, ‘বাংলাদেশ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। সংগীতজগতে তিনি এবি নামে পরিচিত।

চট্টগ্রামের পটিয়ার রবিন যেভাবে জনপ্রিয় কিংবদন্তী আইয়ুব বাচ্চু

সিটিজি বাংলা, রুমেন চৌধুরী

আইয়ুব বাচ্চু ও তার পরিবার

বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ১৭ নম্বর খরনা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। মোহাম্মদ ইসহাক ও মৃত নুরজাহান বেগম দম্পতির সন্তান তিনি। তারা তিন ভাই। নেই কোন বোন। মা মারা গেলেও আইয়ুব বাচ্চুর বাবা এখনও জীবিত রয়েছেন। আইয়ুব বাচ্চুর পিতার চাচাতো ভাই আবদুল আজিজ বসবাস করেন পটিয়ার সেই পৈতৃক বাড়িটিতে।

 

আইয়ুব বাচ্চুর দাদা মরহুম হাজী নুরুজ্জমা সওদাগর। মোজাফফরাবাদ এন.জে উচ্চ বিদ্যালয়, কৃষি অফিস, তহসিল অফিস, খরনা বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, খরনা রেল স্টেশনসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানের জমি দাতা হচ্ছেন তিনি।

 

প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর দাদা হাজী নুরুজ্জমা সওদাগরের নামে স্বপ্নের একটি হাসপাতাল শীঘ্রই প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছে ছিল গুণী এই শিল্পীর। কিন্তু অকাল মৃত্যুর কাছে হার মেনে থেমে গেল সেই স্বপ্ন। ব্যস্ততার কারণে গ্রামের বাড়িতে না আসলেও আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ রাখতেন তিনি।

১৯৭২ সালে কিছু গান পাগল তরুণের হাত ধরে যখন দেশের প্রথম ব্যান্ডদল সোলসের যাত্রা শুরু তখনো হাতেখড়ি হয়নি ছোট্ট রবিন তথা আজকের আইয়ুব বাচ্চুর। ১৯৭৫ সালে চট্টগ্রামের মুসলিম বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় পরিক্ষায় ভালো ফল করায় ছেলে আইয়ুব বাচ্চুর হাতে তার বাবা একটি কালো গিটার কিনে দেন। সেই শুরু…

 

প্রথম দিকে চট্টগ্রাম নগরীর জুবলী রোড এলাকা ছিল গান পাগল কিছু তরুণের ডেরা। তাদেরইও একজন ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। পরিবারের তেমন কেউ গানের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি তার ঝোঁক। বাবার দেয়া কালো রঙের সেই অ্যাকুয়েস্টিক গিটারেই প্রথম তার আঙুলের টুংটাং ছোঁয়া পড়ে। ওই সময় একদিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গিটারবাদক জিমি হ্যানড্রিকস, রিচি ব্রাকমোর, কার্লোস স্যানটানা, অন্যদিকে দেশের পপশিল্পী আজম খানের গিটারবাদক নয়ন মুন্সীর গিটারে পারদর্শিতা আইয়ুব বাচ্চুকে মুগ্ধ করে।

 

তিনি সিদ্ধান্ত নেন ওদের মতো তাকেও গিটারে পারদর্শী হতে হবে। তবে সময়টা তখন বৈরী ছিল। সরাসরি কারও শিষ্যত্ব না পেলেও চট্টগ্রামের রউফ চৌধুরী, বন্ধু নওশাদ ও সাজুর সহায়তায় তিনি গিটার বাজাতে শুরু করেন। গিটার বাজিয়ে জীবনের তার প্রথম উপার্জন ছিল ৩০ টাকা।

প্রয়াত কিংবদন্তী শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু

 

কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের নিয়ে একটা ব্যান্ডদল গঠন করেন। প্রথমে ব্যান্ডের নাম রাখা হয় ‘গোল্ডেন বয়েজ’, পরে নাম পাল্টিয়ে রাখা হয় ‘আগলি বয়েজ’। বিয়েবাড়ি, জন্মদিন আর ছোটখাট নানা অনুষ্ঠানে এ ব্যান্ডদল নিয়ে গান করতেন আইয়ুব বাচ্চু। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুরা যে যার মতো ছুটে গেলেও গানের পেছনে লেগে থাকেন আইয়ুব বাচ্চু। এর মধ্যে ১৯৭৭-৭৮ সালের দিকে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে গান শুরু করেন তিনি।

 

সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামের অলিগলিতে রাতের পর রাত আমি গিটার হাতে বেড়িয়েছি। কাঁধে গিটার নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়েছি। গিটার বাজিয়েছি। চট্টগ্রাম আমার নাড়ি পোঁতা শহর। এ শহরে আমার মা ঘুমিয়ে আছেন। এ শহরেই আমি আবারও ফিরে আসব।’

 

৩৪৪ জুবিলী রোড, নুরুজ্জামান সওদাগরের বাড়ি। চট্টগ্রাম নগরের এনায়েত বাজার এলাকার তিনতলার ভবনটির গায়ে শেওলা জমেছে। বিভিন্ন জায়গায় জন্মেছে পরগাছা। দীর্ঘদিন রং না করায় এখন বিবর্ণ। হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ভবনটিতে দর্শনার্থীর আনাগোনা বেড়ে গেছে। একের পর এক আসতে থাকে সাংবাদিকের গাড়ি।
এই বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ফিরিঙ্গিবাজারের হাজী নুরুজ্জামান আবাসিক এলাকার ‘হাজী বিল্ডিং’ ও ‘সখিনা ম্যানশন’। সেখানেও একই চিত্র। চট্টগ্রাম নগরের তিন ভবনে এখন শোকের ছায়া। কারণ এই ভবনগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর বেড়ে ওঠার স্মৃতি। এসব ভবনের বাসিন্দারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁদের প্রিয় ‘বাচ্চু’ আর নেই।
আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শুধু গানের জগতে কিংবা গায়কের শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি। গিটারিস্টদের জগতে বিশাল একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ছিলেন এই উপমহাদেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্টদের একজন।

 

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ কথা জানান দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড সোলসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ নেওয়াজ। তাঁর হাত ধরেই সোলসে এসেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সময় তখন ১৯৮২ সাল।

সেদিনের কথা স্মৃতিচারণা করে আহমেদ নেওয়াজ বলেন, ১৯৭৩-৭৪ সালে সোলসের যাত্রা শুরু হয়। শুরুর দিকে ভালোই চলছিল। কিন্তু ১৯৮২ সালের দিকে সংকটে পড়ে সোলস। এই সংকট ছিল গিটারিস্টের। ওই সময়ে শুনতে পান আইয়ুব বাচ্চুর কথা। নগরের দেওয়ানহাট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কথা হলে তাঁকে সোলসে যোগ দিতে বলা হয়। এরপর গিটারিস্ট হিসেবে সোলসে যোগ দেন তিনি। বাচ্চু যোগ দেওয়ার পর সোলসের গানের ধরন পাল্টে যায় বলে মন্তব্য করেন আহমেদ নেওয়াজ।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিকেলে সবাই দুই-তিন ঘণ্টা প্র্যাকটিস (অনুশীলন) করতাম। কিন্তু বাচ্চু রাত দুই-তিনটা পর্যন্ত প্র্যাকটিস করতেন।’

 

আইয়ুব বাচ্চু যখন গানের পেছনে ছুটছেন, ততদিনে মোটামুটি চট্টগ্রাম দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল ‘সোলস’। ১৯৭৮ সালের শেষ দিকেই সোলস-এ যোগ দেন বাংলা ব্যান্ডের ‘ক্ষ্যাপা’ তরুণ হিসেবে পরিচিতি পেতে যাওয়া আইয়ুব বাচ্চু। শুরু হলো বাংলার সর্বকালের সেরা একটি ব্যান্ড দলের যাত্রা- যেখান থেকে বাংলা আধুনিক ও ব্যান্ড সঙ্গীতের আকাশে স্বমহিমায় ঠাঁই করে নিয়েছে একটি নক্ষত্র হিসেবে। সেই তরুণ তুর্কি আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে ব্যান্ডের গিটারিস্ট, ভোকাল, গীতিকার ও সুরকার।

 

কতটা গান পাগল মানুষ ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু তার প্রমাণ মেলে একটি ঘটনায়, এল আর বি’র ফেসবুক পেজে সেই ঘটনার বর্ণনা দেয়া আছে এভাবে, ‘১৯৯১ সালের এক ফাগুনের দিনে ‘সোলস’ এর গিটারিস্ট সুহাসের চট্টগ্রাম হিল বর্তমান ফরেস্ট কলোনির এলাকার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সবাই। সঙ্গে ছিলেন গীতিকার শহীদ মাহমুদ জঙ্গি। সেখানে যাওয়ার পর সবাই মিলে আশপাশের পাহাড় অরণ্য ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। আইয়ুব বাচ্চু যেখানেই ঘুরে বেড়াতে যেতেন সঙ্গে থাকতো গিটার। সবাই যখন মুগ্ধ প্রকৃতি দেখায় ব্যস্ত তখন আইয়ুব বাচ্চু গীতিকার শহীদ মাহমুদ জঙ্গিকে প্রস্তাব দিলেন ‘জঙ্গি ভাই এমন সুন্দর পরিবেশে গান ছাড়া কি চলে? চলুন আমরা কোনো গান তোলার চেষ্টা করি’।

রূপালী গিটারের যাদুকর প্রয়াত কিংবদন্তী আইয়ুব বাচ্চু

 

আইয়ুব বাচ্চুর প্রস্তাবে সানন্দে রাজি হয়ে গীতিকার শহীদ মাহমুদ জঙ্গি লিখেন…‘একদিন ঘুম ভাঙা শহরে/মায়াবী সন্ধ্যায় চাঁদজাগা একরাতে/একটি কিশোর ছেলে, একাকী স্বপ্ন দেখে/হাসি আর গানে সুখের ছবি আঁকে/আহা কি যে সুখ।’

 

সেই ঘুমভাঙা শহরে কিশোর ছেলের স্বপ্নের পেছনেই সারা জীবন ছুটে চলেছেন আইয়ুব বাচ্চু। নিজের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের ব্যান্ড দল ‘ইয়োলো রিভার ব্যান্ড’। কিন্তু বিদেশের এক প্রোগ্রামে গিয়ে দেখেন ভুল করে তার দলের নাম লেখা হয়েছে ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। কিন্তু নামটি আইয়ুব বাচ্চুর ভালো লেগে যায়, তাই নিজ দলের নাম বদলে রাখেন ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। পরে জানা যায় ওই নামে অস্ট্রেলিয়ান একটি ব্যান্ড আছে। তাই আবারও নাম পাল্টিয়ে রাখা হয় ‘লাভ রান্স ব্লাইন্ড’ বা এল আর বি।

 

‘এল আর বি’ প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম ‘এল আর বি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এ অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৯৩ ও ৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ এবং ‘তবুও’ বের হয়।

 

১৯৯৫ সালে বের হয় আইয়ুব বাচ্চুর সর্বকালের সেরা একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। এ অ্যালবামের ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ও ‘আমিও মানুষ’ গানগুলো তুমুল জনপ্রিতা পায়। ২০০৮ সালে বের হয়েছিল সর্বশেষ অ্যালবাম ‘স্পর্শ’।

 

তবে জীবনের শেষ দিকে দেশের অডিও বাজার নিয়ে বেশ হতাশ ছিলেন খ্যাতিমান এ সঙ্গীত শিল্পী। চট্টগ্রামের ছেলেটি চট্টগ্রামের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন। চট্টগ্রামের তরুণ শিল্পী এবং ব্যান্ড সংগীতে আগ্রহীদের জন্য ‘এবি লাউঞ্জ’ নামে নতুন একটি প্লাটফর্ম তৈরির কাজ শুরু করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে ব্যান্ডসংগীত ও শিল্প চর্চার জন্য একটি মিউজিক্যাল একাডেমি করার ইচ্ছা ছিল তার।

 

গত ২৪ আগস্ট আইয়ুব বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি চট্টগ্রামের সন্তান। তাই চট্টগ্রামের জন্য কিছু করে যেতে চাই। আমি সারাজীবন গাইতে পারব না। কিন্তু আমি চাই চট্টগ্রাম থেকে আমার মতো আরও কেউ উঠে আসুক। চট্টগ্রামের উদীয়মান শিল্পীদের জন্য আমি একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়ে যেতে চাই। চট্টগ্রামে এবি লাউঞ্জ হবে ব্যান্ড সংগীত এবং উদীয়মান ব্যান্ড শিল্পীদের জন্য নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার।’

হিমঘরে রাখা শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ

 

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবি’র এই লিড গিটারিস্ট। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো দেশজুড়ে। তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন কিংবা থাকবেন আজীবন তা স্যোশাল মিডিয়া ফেসবুক, টুইটার সহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার ভক্তদের স্ট্যাটাস আর ভালবাসা কথা গুলো দেখে’ই আর বুঝতে বাকি নেই। কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর হঠাৎ এই চলে যাওয়া যেন কিছুতেই মানতে পরছেন না তার ভক্তরা, অনুরাগী, অনুসারী সহ সকল শিল্পী ও শিল্পী জগতের কলাকৌশলীরা।

চিরবিদায় কোটি ভক্তের প্রিয় তারকা ‘আইয়ুব বাচ্চু’

দেলোয়ার হোসাইনঃ

অগণিত ভক্তের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে নামাজে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী আইয়ূব বাচ্চুর। গতকাল শনিবার বাদ আছর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গনে তাঁর দ্বিতীয় ও শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশ গ্রহণ করে। জানাজা নামাজের ইমামতি করেন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল কাদেরি।

জানাজার পূর্বে বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির, নগর বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জানাজা শেষে লাশ নিয়ে আসা হয় নগরীর চৈতন্যগলির বাইশ মহল্লা কবরস্থানে। যেখানে আইয়ুব বাচ্চুর শ্রদ্ধেয় মা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। মায়ের বাম পাশের কবরে সমাহিত করা হয় কোটি ভক্তের প্রিয় ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুকে।
এর আগে শনিবার বেলা ১১টায় আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর্এেসে পৌঁছায়।

মরদেহটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরের মাদারবাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বেলা ১২টার দিকে মাদারবাড়ি এলাকায় মরদেহ এসে পৌঁছে। সেখানে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মরদেহটি আইয়ুব বাচ্চুর মামা মো. আবদুল হালিমকে হস্তান্তর করেন। এসময় সর্বস্তরের মানুষ আইয়ুব বাচ্চুকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রসঙ্গত, কিংবদন্তি ব্যান্ড সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। পরদিন শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহ মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই, সিটিজি বাংলা’র শোক

সিটিজি বাংলাঃ

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

স্বজনেরা জানান, আজ সকালে বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল সোয়া নয়টার দিকে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক মির্জা নাজিম সাংবাদিকদের জানান, সকাল সোয়া নয়টার দিকে আইয়ুব বাচ্চুকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে তাঁর স্বজন, সহশিল্পী, সহকর্মী ও ভক্তদেরদরে মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। ষাটের দশকে চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।

নব্বইয়ের দশক থেকে ব্যান্ড সংগীতের চর্চা শুরু করেন আইয়ুব বাচ্চু। প্রায় তিন যুগের সংগীতজীবনে আইয়ুব বাচ্চু গানের পাশাপাশি তাঁর গিটারের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। যেকোনো স্টেজ শোতে বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই গায়ক ও সংগীত পরিচালকের গিটারের মূর্ছনা উদ্দীপ্ত করেনি, এমন গানপাগল খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

গত ১৬ আগস্ট শেষ জন্মদিন পালন করেন ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু। এ দিন তিনি বলেছিলেন, ‘এমন কিছু গান করতে চাই, যা আগে কখনো করিনি। এই গানগুলো নিজে লিখব, সুর করব ও গাইব।’

জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু বেশির ভাগ সময়ই নিজের সুর ও সংগীতে গান করেছেন। তবে অন্যের সুর-সংগীতেও তিনি গান করেছেন।

সিটিজি বাংলা’র শোক প্রকাশঃ

কিংবদন্তি ব্যান্ড শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বিএনটিভি’র সম্পাদক মাখন লাল সরকার ও প্রকাশক সুলাইমান মেহেদী হাসান। এক শোক বার্তায় তারা আইয়ুব বাচ্চুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে মুক্তি পাচ্ছে পবিত্র ভালবাসা

সিটিজি বাংলা, বিনোদন ডেস্ক:

পবিত্র ভালবাসা ছবিতে মাহি ও রোকন

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সর্বশেষ মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের পরিচালনায় ‘জান্নাত’ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

এরই পর গত ৫ ই অক্টোবর শুক্রবার বাংলাদেশ-ভারত-দুবাই, ইউ এ ই, আমেরিকাসহ বিশ্বের ৩৫টি দেশে একযোগে মুক্তি পেয়েছে প্রবল ভালবাসা আকর্ষনে হিন্দু মুসলিম প্রেমের অমর কালজয়ী ছবি “পবিত্র ভালবাসা”। বাংলা চলচ্চিত্রের সুখ্যাত পরিচালক একে সোহেল পরিচালিত সামাজিক ছবি “পবিত্র ভালবাসা”। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মত একটা চলচ্চিত্র এটি।

পবিত্র ভালবাসা ছবিটিতে মাহির বিপরীতে অভিনয় করেছেন নতুন নায়কদের মধ্যে উজ্জ্বল উদীয়মান সম্পন্ন চলচ্চিত্র নায়ক চট্টগ্রামের গর্ব রোকন উদ্দিন। ছবিটিতে আরো অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও মৌসুমী। আরো বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেবেকা, আফজাল শরীফ, ইলিয়াস কোবরা প্রমুখ। পবিত্র ভালবাসা প্রযোজনায় রয়েছে চাটগাঁ ফিল্ম প্রোডাকশন।

উদীয়মান নায়ক রোকন উদ্দিন

এদিকে মাহির বিপরীতে অভিনয় করা নতুন মুখ রোকন বলেন,” আমি সৌভাগ্যবান যে মাহি, মৌসুমী ও ফেরদৌসের মতো দক্ষ শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। ছবির গল্প আমাদের এই চারজনকে কেন্দ্র করেই। আসছি প্রাণের শহর চট্টগ্রামে আগামী ১২ অক্টোবর। থাকবো আপনাদের সাথে সবার প্রিয় আলমাস সিনেমা হলে। চট্টলাবাসিকে স্ব-পরিবারে পবিত্র ভালোবাসার দেখার দাওয়াত রইলো।”

 

একেবারে নিটোল প্রেমের গল্প এটি। ঐতিহ্য বাহী চট্টগ্রামকে নতুন রুপে রূপান্তরিত করা হয়েছে এই ছবিতে। চট্টগ্রামের নানান মনোরম পরিবেশেই শুট করা এই সিনেমা। এটাই প্রথম সিনেমা যার মহরতও হয় বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামে। সিনেমার নামটাও একটু সেকালের। না শুধু নামটাই নয় অনেকটা কাহিনীও। পুরো সিনেমা জুড়েই পাবেন ৯০ দশকের ফ্লেভার। কালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া কিছু রোমান্টিক সিনেমার কথা মনে করিয়ে দেয় পবিত্র ভালোবাসা ছবিটি। ৯০ দশকে সবার উপরে মানুষ সত্য, কিংবা সবার উপরে প্রেম সত্য এই ধরনের সিনেমা গুলোতে ছিল হিন্দু-মুসলিম পরিবারের দ্বন্দ্ব। ভালোবাসার জন্য সেই দ্বন্দ্বের শুরু আর অবসান। তবে পবিত্র ভালোবাসা ছবিটিও মুসলিম আর হিন্দু পরিবার ঘিরে হলেও এই সিনেমার টুইস্ট সেখানে।

 

ছবির গল্পে রাজা রাণীর বাবাকে মৃত্যু বরণ করতে হয় আততায়ীর হাতে। আর যার সূত্র ধরেই বদলে যায় তাদের জীবন ও সিনেমার গল্প। দুইটি ভাই বোনকে ডেডিকেট করে এগিয়ে যায় সিনেমার প্রথমাংশ। এই এগিয়ে যাওয়াটার মাঝে বিরক্ত আশার আগেই সিনেমায় এন্ট্রি নেয় এই সিনেমার অন্যতম প্রাণ নায়িকা মাহিয়া মাহি।

এক জোড়া কবুতর হাতে, খোলা চুলে চঞ্চল ভাবে এন্ট্রি নেওয়ার দৃশ্যটা দারুণ দেখার মত। প্রথম দেখাতে রোজিতে মুগ্ধ ছবির নায়ক রাহুল। হাতে ক্যামেরা মুগ্ধতাকে ধরে রাখতে না পেরে প্রকাশ করেছে নিজের আবেগ। একটু বাঁকা চোখে তাকাও আর একটা পিকচার দিয়ে যাও।

ভালো লাগার শুরুটা থেকে গল্প মোড় নেয় নতুন আরেক আঙ্গিকে। গল্পের সুন্দোর্য আর টুইস্ট ধরে রাখতে দারুণ ভাবে সব কিছু প্রেজেন্ট করেছে পরিচালক এ কে সোহেল।
অনেক বেদনাদায়ক ও স্পর্শকাতর সিকুয়েন্স দিয়ে সাজানো গল্পের শেষটা। রোজির ভূল শর্তে রাহুলের ফাঁসি। তা শুনে রোজির ভেঙ্গে পড়া কুরঅান তেলোয়াত করে সৃষ্টি কর্তার কাছে সাহায্য চাওয়া অজোরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়া সব কিছুই দারুণ উপভোগ্য আর স্পর্শকাতর ছবি পবিত্র ভালবাসা ।

চলচ্চিত্র পরিচালক একে সোহেল

 

ছবির পরিচালক একে সোহেল বলেছেন, ৯০ দশকের পরিচালক হিসেবে নতুন আঙ্গিকে সবার সামনে নতুন কিছু ও চট্টগ্রামকে হাইলাইট করার যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছি তাতে অনেকটাই সফল হবে বলে মনে করছি। ভবিষ্যতেও এই ভাবে চ্যালেঞ্জিং বড় পরিসরে করার পরিকল্পনাও জানান তিনি।

 

তিনি আরো বলেন, লোকেশন নিয়ে বলার স্পেশাল কিছু নেই। কারণ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশ জানে বাংলার সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় স্থান চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি,বান্দরবন ও কাপ্তাই লেকের পাড়ে সুট করা হয়েছে এই ছবির অন্যতম অনেক দৃশ্যপট। অসাধারণ প্রেমের একটা গল্প আর দারুণ সব লুকেশনে দৃশ্যায়ন হয়েছে এই মুভিটি।

চট্টগ্রাম মঞ্চ সংগীত শিল্পী সংস্থার দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

সিটিজি বাংলা, রুমেন চৌধুরী:

আলাউদ্দিন তাহের ও এ্যাড: কামরুল আযম চৌধুরী টিপু

চট্টগ্রাম মঞ্চ সংগীত শিল্পী সংস্থার দ্বিবার্ষিক নির্বাচন (২০১৮-২০২০) জেলা শিল্পকলা একাডেমি আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্টিত হয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

 

১ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সি.এম.এস.এস.এস এর সকল সদস্যদেরকে যথাসময়ে উপস্হিতের মধ্যদিয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

 

চট্টগ্রাম মঞ্চ সংগীত শিল্পী সংস্থার কার্যকরী কমিটির ২০১৮ এর নির্বাচনে সভাপতি পদে পুনরায় নির্বাচিত হলেন -আলাউদ্দিন তাহের এবং পুনরায় সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন-এডভোকেট কামরুল আযম চৌধুরী টিপু।

 

এছাড়াও চট্টগ্রাম মঞ্চ সংগীত শিল্পী সংস্থার কার্যকরী কমিটি (২০১৮-২০২০) তে অন্যান্যদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন- সি:সহ-সভাপতি পদে অজয় চক্রবর্তী, সহ-সভাপতি পদে সৈয়দ মোসলেহ উদ্দিন মানিক, সহ- সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মো: কাইছার উদ্দীন, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে নাদিরা পারভীন পারুল, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান, অর্থ সম্পাদক পদে মীর মু: এনায়েত উল্লাহ সানি, সহ-অর্থ সম্পাদক পদে প্রেম লাল দত্ত, দপ্তর সম্পাদক পদে মেফতাহুল জান্নাত লুবনা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে হোছাইন শরীফ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মো: শাহ এমরান হোসেন, সমাজকল্যান সম্পাদক পদে মো:লোকমান হোসেন, সাংষ্কৃতিক সম্পাদক পদে জুয়েল পাল, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান সাগর, মহিলা সম্পাদিকা পদে রুপা রোজারিন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদটি পেয়েছেন সামিনা ছাফা চৌধুরী।

প্রধান অতিথিকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান চট্টগ্রাম মঞ্চ সংগীত শিল্পী সংস্থা

 

সি.এম.এস.এস.এস এর সভাপতি আলাউদ্দিন তাহের বলেন, এই সংস্থার সবাই যে আমাকে ভালবাসেন এটাই প্রমাণিত। আগামী দু’টি বছর এই সংস্থার মাধ্যমে সংগীতের সকল সংকট নিরসনে আমরা কাজ করে যাবো। চট্টগ্রাম মঞ্চ সংগীত শিল্পী সংস্থার কার্যকরী কমিটির নির্বাচনকে সুন্দর ও সফল ভাবে সম্পন্ন করায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই ও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও চট্টগ্রাম মঞ্চ সংগীত শিল্পী সংস্থার উপদেষ্টা চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী।

বেদনার সুরে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ ব্যানার

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে চট্টগ্রাম মঞ্চ সংগীত শিল্পী সংস্থার উদ্যোগে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতা চলাকালে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে ‘বেদনার সুরে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ’ নামে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

৪ দিনের রিমান্ডে নওশাবা

সিটিজি বাংলাঃ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদকে ৪ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় রোববার বিকালে ঢাকা মহানগর হাকিম মাজাহারুল হক এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই বিকাশ কুমার পাল নওশাবাকে আদালতে হাজির করে তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এরও আগে শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব সদস্যরা।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকালে ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্বৃত্তের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ফেসবুক লাইভে হাজির হয়েছিলেন ঢাকা অ্যাটাক ছবির অভিনেত্রী কাজী নওশাবা। সে সময় নওশাবা বলেছিলেন, আমি কাজী নওশাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই। একটু আগে ঝিগাতলায় আমাদেরই ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসঙ্গে হোন প্লিজ। ওদেরকে প্রোটেকশন দেন, বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে, প্লিজ। আপনারা রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন এবং ওদেরকে প্রোটেকশন দেন।’
‘সরকার প্রোটেকশন দিতে না পারলে আপনারা মা-বাবা, ভাই-বোন হয়ে বাচ্চাগুলোকে প্রোটেকশন দেন, এটা আমার রিকুয়েস্ট। এদেশের মানুষ-নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিক্যুয়েস্ট করছি যে, ঝিগাতলায় একটি স্কুলে একটি ছাত্রের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে এবং ওদের অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ ওদের বাঁচান প্লিজ। তারা ঝিগাতলায় আছে।’
তবে ওই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। প‌রে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর খবর‌টি গুজব বলে জানান। কিন্তু এরইমধ্যে অভিনেত্রী নওশাবার লাইভ ভি‌ডিও‌টি অল্প সম‌য়ের ম‌ধ্যে ভাইরাল হ‌য়ে যায়।

‘দয়া করে গুজব ছড়াইবেন না’

সিটিজি বাংলাঃ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলন, গুজব ও মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে ব্যক্তিগত টাইমলাইনে খোলাখুলি আলোচনা করেছেন চলচিত্র ও নাট্য নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী। নিচে সিটিজি বাংলা টুয়েন্টিফোর ডটকম এর পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলঃ

সরকারের ভাইয়েরা, রাজপথে আপনাদের মধ্যে যে অতি উৎসাহীরা আক্রমণ করতেছে তাদেরেকে থামান, পুলিশ দিয়া ধরান। এই কাজ করে মানুষের দিল থেকে খারিজ হয়ে যাবেন কিন্তু। কালকে মন্ত্রী মশায় এদের ভিলেন বানানোর চেষ্টা করছে, কাজ হয় নাই। মারপিটেও কাজ হবে না! 
সুতরাং বাচ্চাদের সাথে বসেন। বসে এটার একটা সুরাহা করেন। এমন কিছু করেন যাতে ছেলেমেয়েরা বোঝে তাদের রক্ত কাজে লাগছে। গোঁ ধরে থাকবেন না, প্লিজ।

আর প্রথম আলোকে ধন্যবাদ সত্য তুলে আনার জন্য। ঝিগাতলায় ছাত্র-ছাত্রীদের উপর আক্রমণ হইছে, সত্য। খুন-রেপের ব্যাপারটা গুজব। দয়া করে গুজব ছড়াইবেন না। এবং মিডিয়া একটু এ্যাকটিভ হন যাতে গুজব ডালপালা গজাইতে না পারে। সত্য যা ঘটছে, তা তুলে ধরেন।

চট্টগ্রামে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নির্বাচনে জয়ী হলেন যারা!

সিটিজি বাংলা,

 

 

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সদস্যপদসহ ১০টি পদে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

 

২১ জুলাই শনিবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ শান্তি পূর্ণ ভাবে আরম্ভ হয়ে শেষ হয়।

 

নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাবিবুর রহমান এ বিষয়ে জানিয়েছেন,শিল্প কলা একাডেমী নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন দুই জন যথাক্রমে, রনজিৎ রক্ষিত ও জাহাঙ্গীর কবির।

 

সাধারণ সম্পাদক পদে সাইফুল আলম বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে যথাক্রমে মো. মঈন উদ্দিন কোহেল ও মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। সদস্যপদে যথাক্রমে অঞ্চল কুমার চৌধুরী, বাপ্পা চৌধুরী, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম, কঙ্কন দাশ, মোস্তফা কামাল যাত্রা নির্বাচনে জয়ী হন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্য নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে দশটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৫১ পদপ্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতির ২টি পদে ৮ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন, যুগ্ম সম্পাদকের ২টি পদে ৯ জন এবং কার্যকরী সদস্যের ৫টি পদে ৩২ জন পদপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

৬০ দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী রানী সরকার আর নেই

সিটিজি বাংলা: বিনোদন ডেস্ক:

 

 

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রানী সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

৭ জুলাই শনিবার ভোর ৪টার দিকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

জানা যায়, বাতজ্বর ও পিত্তথলিতে পাথরসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় কয়েক বছর ধরেই ভুগছিলেন রানী সরকার। বার্ধক্যের কারণে এ সমস্যাগুলো বেশি দেখা দিয়েছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে। এরপর সেখান থেকে ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চিত্র নায়ক জায়েদ খান জানান, অভিনেত্রী রানী সরকারের জানাজা বেলা ২টা ১৫ মিনিটে এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে। এর পর শিল্পী পরিবারের তাকে শেষবারের মতো মানুষেরা শ্রদ্ধা নিবেন করবেন। বিকেলে আজিমপুর গোরস্তানে দাফন সমাহিত হবেন রানী।

 

 

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি, প্রদর্শক সমিতি, ডিরেক্টর গিল্ডস, ফিল্ম ক্লাবসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠন তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

 

রানী ছিলেন ষাট ও সত্তর দশকের খল-অভিনেত্রী। নেতিবাচক চরিত্রে তার উপস্থিতি দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে।

 

রানী সরকারের জন্ম সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার সোনাতলা গ্রামে। তার আসল নাম মোসাম্মৎ আমিরুন নেসা খানম। তার বাবার নাম সোলেমান মোল্লা এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

 

১৯৫৮ সালে রানী সরকারের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় এ জে কারদার পরিচালিত ‘দূর হ্যায় সুখ কা গাঁও’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ১৯৬২ সালে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার এহতেশামুর রহমান পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘চান্দা’তে অভিনয় করেন। ২০১৬ সালের মে মাসে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

 

৬০ এর দশকের বাংলা চলচিত্রের প্রথম সারির নায়িকা রানী সরকার যার আসল নাম মোসাম্মৎ আমিরুন নেসা খানম। বাংলা চলচিত্রের বর্তমান এই অবস্থা কিন্তু এক দিনে গড়ে উঠেনি, আমাদের চলচিত্রের প্রথমিক ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ৬০ এর দশকে, সে সময়ে কিছু মানুষের ঐকান্তিক চেস্টায় আমাদের চলচিত্রের আজকের এই পর্যায়।

রানী সরকার যে সময়ে অভিনয়ে এসেছিলেন তখন বাংলায় নায়িকা পাওয়া অনেক দুস্কর ছিল সে সময়ে কেউই অভিনয় নিয়ে ভাবতেন না। রানী সরকার এসেছিলেন সমাজের বাঁধাকে ডিঙ্গিয়ে।

রানী সরকারের অভিনীত ছবি সমূহের মাঝে উল্লেখ করার মত অনেক ছবি আছে যেমন কাঁচের দেয়াল, চান্দা, আনোয়ারা কিংবা চোখের জল।

 

রানী সরকার অভিনয় করেন এহতেশামের ‘চান্দা’ চলচ্চিত্রে। সে সময় ছবিতে তিনি চিত্রনায়িকা শবনমের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

এরপর রানী সরকার ‘তালাশ’, ‘বন্ধন’, ‘সঙ্গম’, ‘ইস ধারতি পার’, ‘পেয়সে’, ‘কেয়সে কাহু’, ‘আযান’, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘কাঁচ কাটা হীরে,’ ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘ছদ্মবেশী’, ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘শুভদা’, ‘দেবদাস’সহ প্রায় তিনশত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

 

রানী সরকার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি হচ্ছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ থার্ড পারসন সিংগুলার নাম্বার’।

 

গত ২০১৬ এর ১১ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ‘আজীবন সম্মাননা’ গ্রহণের সময়কালে রানী সরকারের সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়।

 

জীবনের সেরা সেই মুহুর্তে রানী সরকার এই প্রাপ্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন,‘‘ আমি অতি ক্ষুদ্র একজন মানুষ। আমার দেশের রানী, আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে উপহার দিতে যাচ্ছেন, আমাকে যে সম্মান জানাতে যাচ্ছেন তাতে সত্যিই আমার জন্ম সার্থক হলো, জীবন ধন্য হলো। আমার অতীত জীবনের সব দুঃখ কষ্ট মুছে গেলো। প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে বলছি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা নেই। আমার প্রতি আপনার সম্মান আজ আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে। করেছে ভাষাহীন। যদি কখনো কোন অন্যায় করে থাকি আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন।’’

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দু’দফায় রানী সরকারকে বিশ লাখ টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন। সে সময় রানী সরকার বলেন,‘ দু’বার তারসঙ্গে দেখা হয়েছে, তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে আদর করেছেন। এ কথা সত্যি যে প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে আর্থিক সহযোগিতা না করতেন তাহলে আমাকে পথে পথে ভিক্ষা করতে হতো। কিন্তু তিনি আমার শিল্পী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার সম্মান বাঁচিয়েছেন। তার এই ঋণ কোনভাবেই শোধ হবার নয়। আল্লাহ সবসময়ই তাকে যেন ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন।