চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন

বিশ্ব

মুরসিকে বিদেশে ‘রাজকীয় জীবন’র প্রস্তাব দিয়েছিলো সিসি

 

 

নিউজ ডেস্ক::

মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট কারাবন্দি মোহাম্মদ মুরসিকে এক ‘রাজকীয় প্রস্তাব’ দিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি।

প্রস্তাবটি হচ্ছে, মুরসি যদি পরিবারসহ মিসর ছাড়েন, তাহলে বিদেশে তাকে সুখ ও আরাম-আয়েশের জীবন উপহার দেয়া হবে। কিন্তু সিসির এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মুরসি।

জবাবে তিনি বলেছেন, যারা মিসরকে ধ্বংস এবং জনগণের মানবাধিকার হরণের পরিকল্পনা করছে মিসরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ তাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে কোথাও যাবেন না তিনি। মিসরের আপিল আদালতের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে বুধবার মিডল ইস্ট মনিটরে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

মিসরের আপিল আদালতের আইনি পরামর্শক ও মুরসি সরকারের বিচারমন্ত্রী আহমেদ সুলেমান বলেন, বর্তমান সেনাশাসিত সরকারকে স্বীকৃতি এবং তার নিজ সরকারের বৈধতা প্রত্যাহার করে ঘোষণা দিতে মুরসির ওপর অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিনিময়ে তাকে বিদেশে নিরাপদ জীবনের প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব চাপের কাছে নতি স্বীকার করছেন না মুরসি।

সিসির সরকারের বৈধতা দিয়ে বিবৃতি দিতে গত পাঁচ বছর ধরে মুরসিকে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ মুরসির ছেলেরও। মুরসির ছেলে আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে এখনও বৈধতা রয়েছে তার বাবার। তিনি ওইসব নেতার কাছে কখনও নত হবেন না যারা সব সময় তাকে তাদের কথা মেনে নিতে চাপপ্রয়োগ করছেন।

কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে ২০১১ সালে দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতন ঘটে। এরপরের বছর অনুষ্ঠিত এক গণতান্ত্রিক নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মোহাম্মদ মুরসি।

কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সাবেক সেনাপ্রধান সিসি। মুরসিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

মুরসির মৃত্যুতে এরদোগানের শোক

নিউজ ডেস্ক: মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ইখওয়ানুল মুসলিমিনের প্রধান ড. মুহাম্মাদ মুরসি ইসা আল-আইয়াতের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।


আজ এক বিবৃতিতে এরদোগান এই শোক প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছে তুরস্কের নিউজ এজেন্সি আনাদুলু।

সোমবার মুরসির মৃত্যুর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরদোগান বলেন, গাড়ী থেকে নামার সময় আমার কাছে মুরসির মৃত্যুর খবর আসে।

আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের শহীদ ভাইদের জন্য দোয়া করছি, আল্লাহ যেন শহীদদের ওপর রহম করেন।

মিশরের একমাত্র নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি দীর্ঘ সময় ধরে মিশরের সামরিক শাসক ফাত্তাহ সিসির কারাগারে বন্দি ছিলেন।

আজ (১৭ জুন) বিচার চলাকালীন অবস্থায় কারাগারেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর।

মুরসির সমর্থকদের দাবি তিনি অন্যায়ভাবে ফাত্তাহ সিসির কারাগারে বন্দি ছিলেন। কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঠিকমতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি তার।

মুহাম্মদ মুরসি মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমসহ জন সাধারণের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় একজন নেতা ছিলেন।

মুরসির ইন্তেকাল : অসুস্থ অবস্থায় জোর করে আদালতে আনা হয়েছিলো তাকে

নিউজ ডেস্ক:: মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি ইন্তেকাল করেছেন।

আজ (১৭ জুন) আদালতে বিচার চলাকালীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৬৭ বছর বয়সী মিশরের এই জনপ্রিয় নেতাকে জোর করে অন্যায় অভিযোগে কারাগারে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে মিশরের অগনতন্ত্রিক সামরিক শাসক আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির ওপর।

জানা গেছে, আদালতে অসুস্থ অবস্থায় মুহাম্মদ মুরসিকে উপস্থিত করা হয়েছিলো। তিনি অসুস্থবোধ করেছেন বলার পরও তার বিচারকার্য পরিচালনার নামে তার মানবিক অধিকার হরণ করারও সংবাদ দিয়েছে অনেক গণমাধ্যম।

এদিকে কারাগারে তাকে সার্বিক সুবিধা ও চিকিৎসা প্রদানেও গড়িমসি ছিলো কারা কর্তৃপক্ষের। অনেকেই মুহাম্মাদ মুরসির ইন্তেকালের সাথে তুলনা করছেন ফিলিস্তিনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর সাথে।

কারাগারে অত্যাচার চালিয়ে কারও মতে বিষ প্রয়োগ করে অনেকটা “কোল্ড ব্লাডেট মার্ডার” করা হয়েছে মুরসিকে এমন অভিযোগও রয়েছে তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে।

মুরসির ইন্তেকালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন

প্রসঙ্গত : ২০১১ সালে আরব বসন্তের জেরে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে বিশাল গণঅভ্যুত্থান। এতে পদচ্যুত হন হোসনি মোবারক।

এরপর মিসরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রধান জনপ্রিয় নেতা মুহাম্মদ মুরসি।

কিন্তু ২০১৩ সালে ষড়যন্ত্রের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিসরীয় সেনাবাহিনী। পরে প্রেসিডেন্টের আসনে বসেন মুরসির হাতে সেনাপ্রধান হওয়া আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি।

এরপর ২০১৩ সালে মুরসির নেতৃত্বাধীন মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করা হয়। এর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিভিন্ন অভিযোগে অনেককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

মুরসির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি অর্থের বিনিময়ে কাতারের কাছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাচার করেছেন।

তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বিকার করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা: দু’জন বাংলাদেশী নিহত, আহত পাঁচ, দু’জন নিখোঁজ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত দু’জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন বলে সেখানে বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দূতাবাসের অনারারী কনসাল শফিকুর রহমার ভুইয়া বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, দু’জন বাংলাদেশীর পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা এখন পর্যন্ত নিশ্চি হয়েছেন।
তিনি বলেন, নিহতদের একজন ড. আবদুস সামাদ, যিনি স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। ড. সামাদ বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন বলে তিনি জানান।
নিহত অন্যজনের পরিচয় সম্পর্কে মি. ভুইয়া বলেন যে মিসেস হোসনে আরা একজন গৃহবধূ ছিলেন।
মসজিদে হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশী আহত হয়েছে বলে বাংলাদেশের দূতাবাস এখন পর্যন্ত খবর পেয়েছে।
এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানান মি. ভুইয়া।
এছাড়া, গোলাগুলির ঘটনার পর দু’জন নিখোঁজ রয়েছে।
অনারারী কনসাল জানান, নিখোঁজদের মধ্যে একজন ড. আবদুস সামাদের স্ত্রী।
আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে অনেক মুসলমান জড়ো হয়েছিলেন। এমন সময়ে সেখানে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনা ঘটে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, মসজিদে হামলার ঘটনায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের সাবেক সিনেটর মাওলানা সামিউল হককে কুপিয়ে হত্যা

সিটিজি বাংলাঃ

মাওলানা সামিউল হক। ফাইল ছবি

পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও সাবেক সিনেটর মাওলানা সামিউল হককে হত্যা করা হয়েছে। যখন তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে তার বাসভবনের একটি কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এ খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। এতে বলা হয়, তার ছেলে মাওলানা হামিদুল হক বলেছেন, শুক্রবার তার পিতার গাড়ির চালক হাক্কানি বাইরে যান। ফিরে এসে তিনি দেখতে পান মাওলানা সামিউল হক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন বিছানায়। পাকিস্তানে যখন ধর্মীয়-রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনে উত্তাল করে তুলেছে পরিস্থিতি তেমনই এক সময়ে এ ঘটনা ঘটলো। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক নারী আসিয়া বিবিকে মৃত্যুদন্ড বাতিল করে তাকে বেকসুর খালাস দেয় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।

অভিযোগ আছে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)কে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন আসিয়া বিবি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মাওলানা সামি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জমিয়ত উলেমায়ে ইসলামের একটি অংশের। এ অংশের প্রধান তিনি নিজে। কিন্তু আসিয়া বিবি ইস্যুতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিতে পারেন নি তিনি। এমন তথ্য দিয়েছেন তারই ছেলে মাওলানা হামিদ। ফলে ওই আন্দোলনের সঙ্গে এই হত্যার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। মাওলানা হামিদ বলেছেন, তার পিতাকে অনেক কোপ দেয়া হয়েছে। তাকে কোপানের প্রায় ১৫ মিনিট পরে বাহরিয়া শহরে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় মাওলানা সামির গাড়ির চালক ও প্রহরী।
মাওলানা সামির মুখপাত্র ইউসাফ শাহ বলেছেন, হামলাকারীর পরিচয় বা তাদের উদ্দেশ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় নি। এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহতের মৃতদেহ শুক্রবারই নেয়া হয় তার নিজ শহর আকোরা খাত্তাকে। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার বিকালে তার দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, মাওলানা সামির বয়স প্রায় ৮২ বছর। পাকিস্তানের খাইবার পখতুনখাওয়া প্রদেশের আকোরা খাত্তাক শহরে অবস্থিত দারুল উলুম হাক্কানিয়া সেমিনারের প্রধান তিনি। দু’দফা তিনি পাকিস্তানের সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রথমবার। এরপর ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। এ বছর ২৫ শে জুলাই পাকিস্তানে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাতে তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ দলের সঙ্গে তাল মিলিয়েছিলেন। পাকিস্তানে মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন রকম কর্মকা- পরিচালনা ও বাস্তবায়নে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার। উল্লেখ্য, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তের উভয়পাশে তালেবান সদস্যদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন মাওলানা সামি। গত মাসে আফগানিস্তানের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল মাওলানা সামির সঙ্গে সাক্ষাত করে দারুল উলুম হাক্কানিয়াতে। এ সময় তারা আফগানিস্তান সঙ্কটের সমাধানে তাকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিলেন খাসোগির প্রেমিকা

সিটিজি বাংলাঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন নিহত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিজ। ট্রাম্প নিহত সাংবাদিক খাসোগির হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়ে তৎপর নন বলে অভিযোগ তুলে এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন চেঙ্গিজ।

চলতি মাসের শুরুতে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় এক নিবন্ধে চেঙ্গিজ বলেন, ‘যদি ট্রাম্প ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটের অভ্যন্তরে সেদিন আসলে কি ঘটেছে তা উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় প্রকৃতই অবদান রাখেন, তাহলে তার আমন্ত্রণ গ্রহণ করার বিষয়ে আমি বিবেচনা করবো। ’

গত ২ অক্টোবর সাংবাদিক জামাল খাসোগি তার বিবাহবিচ্ছেদের দলিলপত্র সংগ্রহ করতে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর আর বের হন নি। এরপর সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়, যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে সৌদি আরব থেকে আসা ১৫ জনের একটি দল তাকে কনস্যুলেটের ভেতরেই হত্যা করে এবং তার লাশ টুকরো টুকরো করে। -বিবিসি।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট

সিটিজি বাংলাঃ

 

চরম রাজনৈতিক সংকটে শ্রীলঙ্কা। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহিথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রানিল উইকরেমেসিংহেকে বরখাস্ত করেছেন। তার পরিবর্তে শুক্রবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ওই দিনই প্রেসিডেন্টের দপ্তরে তাকে শপথ পড়িয়েছেন সিরিসেনা।

এদিকে, বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী রানিল উইকরেমেসিংহে নিজেকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী দাবি করে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমি আপনাদেরকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলছি। আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল আছে এবং আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করে যাব। ’

এছাড়া অর্থমন্ত্রী মঙ্গলা সারারাউইরা টুইটারে লিখেছেন, ‘রাজপাকসেকে  প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অসাংবিধানিক ও বেআইনি। এটা গণতন্ত্রবিরোধী অভ্যুত্থান। ’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অর্থনৈতিক নীতি এবং সরকারের প্রতিদিনের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে সিরিসেনা ও উইকরেমেসিংহের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রীকে এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অবসানের জন্য বলেছিলেন সিরিসেনা এবং জোট সরকার যে প্রতিশ্রুত সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে তা জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে প্রতিবেশী ভারতকে কনটেইনার টার্মিনাল ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন দু’জন।

সূত্র: এনডিটিভি

খাসোগিকে ভুলে খুন করা হয়েছে : সৌদি আরব

সিটিজি বাংলাঃ

সৌদি আরব দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করল। প্রথমে গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নিহত হন খাসোগি। এবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন, খাসোগিকে ভুলে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর ফক্স নিউজকে বলেন, “খাসোগির হত্যার ব্যাপারটি আসলে একটি ‘মস্তবড় ভুল’ এবং এই অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা তাদের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে এটি ঘটিয়েছেন। যেকোনো সরকারেই এমন ঘটনা অগ্রহণযোগ্য।”‌

জুবেইর বলেছেন, ‘খাসোগিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা জানতে সৌদি সরকার তদন্ত করছে এবং জড়িতদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে।’

অন্যদিকে সৌদি আরবের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, খাসোগি কনস্যুলেটের ভেতরে সৌদি কর্মকর্তা মাহের মুতরেবের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। চিৎকার বন্ধে তাঁর মুখে কাপড় পুরে দেন সৌদি কর্মকর্তারা। এর পর তাঁকে হত্যা করা হয় এবং খাসোগির পোশাক পরে এক কর্মকর্তা কনস্যুলেট ত্যাগ করেন, যাতে প্রমাণিত হয়, খাসোগি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং গোয়েন্দা বাহিনীর উচ্চপদস্থদের কেউ এ অভিযানের ব্যাপারে সরাসরি জানতেন না বলে দাবি করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাকের আবু গারিব কারাগারে মার্কিন সেনাদের বন্দি নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল-জুবেইর বলেন, ‘শিগগির একটি উপসংহারে পৌঁছানো উচিত হবে না; বরং খাসোগি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’

অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, তিনি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় ‘নগ্নসত্য’ উদঘাটন করেই ছাড়বেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য খাসোগি হত্যায় সৌদি সরকারের দেওয়া ব্যাখ্যাকে অসম্পূর্ণ বলেছেন। তিনি বলেছেন, এই ব্যাখ্যায় মিথ্যার উপাদান রয়েছে। এ সময় ট্রাম্প অবশ্য সৌদি যুবরাজকে ‘শক্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন’ বলে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প বরাবরের মতো এ যাত্রায়ও সৌদি রাজপরিবারে পাশে দাঁড়িয়েছেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রশংসা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যকার সুসম্পর্কের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স এ হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট ও পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ করতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বিয়ে-সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান খাসোগি। বাগদত্তা তুর্কি নারী হেতিজ জেঙ্গিসকে বাইরে রেখে কনস্যুলেটে প্রবেশের পর আর ফেরেননি খাসোগি।

এ নিয়ে তুরস্ক ও সৌদি সরকার একে অপরকে দোষারোপ করে আসছিল। সৌদি আরব বলে আসছিল, কনস্যুলেট বেরিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছেন খাসোগি।

অন্যদিকে তুরস্কের গোয়েন্দারা এ নিয়ে নানাবিধ তৎপরতা দেখিয়ে আসছেন। তুরস্ক শুরু থেকে দাবি করে আসছে, সৌদি আরব থেকে ১৫ সদস্যের একটি দল খাসোগি হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে তুরস্কে যায়। সেই দলে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞও ছিলেন। এর দায়িত্বে ছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ এক উচ্চপদস্থ সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

সৌদি রাজতন্ত্রের সাম্প্রতিক ক্ষমতার পালাবদলে রাজপরিবারের বিরাগভাজন হন খাসোগি। এর আগে দীর্ঘদিন রাজপরিবারের লোকজনের ঘনিষ্ঠ একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন গত বছর স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়া এই সাংবাদিক।

জাকির নায়েককে ফেরত পাঠাতে নারাজ মালয়েশিয়া, বেকায়দায় ভারত

সিটিজি বাংলাঃ

জাকির নায়েককে ভারতের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে অস্বীকার করেছে কুয়ালামপুর। এর মাধ্যমে কুটনৈতিক মঞ্চে ভারতকে ফের বড়সড় ধাক্কা দিলো মালয়েশিয়া৷ এই ইসলামি চিন্তাবিদকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে আপাতত নারাজ মাহাথির মোহাম্মদের দেশটি৷ এবার আদালতের রায়েই হতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত৷ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে এমনটাই জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার এক মন্ত্রী৷

ভারতে বর্তমান সরকারের আমলে আর্থিক প্রতারণা ও সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে৷ তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে এনআইএ ও ইডি৷ ২০১৬ সালে ভারত ত্যাগ করেছিলেন জাকির নায়েক। তারপরই মালয়শিয়ায় আশ্রয় নেন তিনি৷ গত জানুয়ারি মাসে ওই ইসলামি চিন্তাবিদের প্রত্যার্পণ চেয়ে মালয়েশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায় ভারত সরকার৷

সম্প্রতি ভারত সফরে এসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলা সাগারান জানিয়েছিলেন, জাকির নায়েককে ফেরত পাঠানোর আবেদন করেন সুষমা স্বরাজ৷ তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি৷ তিনি আরো জানান, জাকিরের প্রত্যার্পণের বিষয়টি আদালতের পাঠাতে পারে সরকার৷ সেক্ষেত্রে আদালতের রায়ই শেষ কথা হবে৷ তবে ভারতে ফেরত যাওয়ার আদেশ দিলে, সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন জাকির নায়েক৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাকির নায়েককে ফেরত পাঠাতে মোটেও রাজি নয় মালেশিয়া৷ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া একটি চাল মাত্র৷ ওই দেশের নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে যথেষ্ট গভীর সম্পর্ক রয়েছে জাকির নায়েকের৷ আগেই সেদেশের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মহম্মদ বলেছিলেন, যতদিন পর্যন্ত জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি না করছেন ততদিন তাকে ভারতে ফেরানোর কথা ভাবছে না সরকার। কারণ জাকির নায়েককে ইতিমধ্যেই স্থায়ী নাগরিকত্ব দিয়ে ফেলেছে মালয়েশিয়া।

যা বললেন জাকির নায়েক

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ইসলামি বক্তা ড. জাকির নায়েক বলেছেন, ২৫ বছর ধরে আমি ‘ইসলাম ও শান্তি’ বিষয়ে বক্তৃতা করছি। কখনো সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করিনি। সবসময় সম্প্রীতি ও ঐক্যকে উৎসাহ জুগিয়েছি।

এক বিবৃতিতে ড. জাকির বলেন, গেল কয়েক বছরে হাজার হাজার ‘নিউজ’, ইউটিউব ভিডিও এবং সোস্যাল মিডিয়ার পোস্টে আমার কথা ব্যবহার করা হয়েছে, যা আমি বলিনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একটি ইমেজে আমার ছবি ও বার্তাজুড়ে দিয়ে সেটি প্রচার করা হচ্ছে। যারা ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে মনে করে না, তাদের কাছে এই ধর্ম বিশ্বাসকে দ্রুত ও নোংরাভাবে উপস্থাপন করার এটি সহজ উপায়।

তিনি বলেন, যারা এ ধরনের কিছু দেখতে পাবেন তাদের বলছি কোনো উপসংহারে পৌঁছানোর আগে এগুলো যাচাই করে নেবেন। কেননা মানবতাবিরোধী কোনো বক্তব্যে আমার নাম জুড়ে দেয়া যেকোনো কিছুই মিথ্যা। আমি বারবার বলেছি, একজন ভালো মুসলিম হতে গেলে তার আগে একজন ভালো মানুষ হতে হবে।

জাকির আরো বলেন, আমি যে হাজার হাজার লেকচার দিয়েছি সেগুলোর কোনো একটি নিয়ে কখনো অভিযোগ পাইনি। কিন্তু ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে এক দল ধর্মীয় উগ্রবাদীরা আমার চরিত্র হরণের চেষ্টা চালায়।

দ্য হিন্দু

মালয়েশিয়ায় স্থায়ী নাগরিকত্ব পেয়েছেন জাকির নায়েক
মালয়েশিযার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, ‘যতদিন পর্যন্ত জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি না করছেন, তত দিন তাকে ভারতে ফেরানোর কথা ভাবছে না মালয়েশিয়া সরকার। কারণ নায়েককে ইতিমধ্যেই স্থায়ী নাগরিকত্ব দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। জাকির এদেশে আসার পর কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি৷ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার পর তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না৷’

সম্প্রতি ভারতে ফিরছেন ড. জাকির নায়ক- এমন খবর দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় ড. জাকির নায়েক বলেছেন, এই মুহূর্তে আমি ভারতে ফিরছি না। ভারত এখন আমার জন্য নিরাপদ না। যদি কখনো মনে করি ভারত সরকার আমার সাথে সঠিক বিচার করছে তখনই আমি দেশে ফিরব।

দুই বছর আগে বাংলাদেশে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন এই ধর্মপ্রচারক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তার বক্তব্য শুনে নাকি উৎসাহ পেয়েছে জঙ্গিরা। তবে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় পিস টিভির সম্প্রচার। ভারতেও ব্যাপক সমালোচনায় মুখে তিনি দেশ ছেড়ে আশ্রয় নেন মালেশিয়ায়।

২০১৬ সালে বাংলাদেশের ঢাকার গুলশানে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের কয়েকজন জাকির নায়েকের প্রচারে প্রভাবিত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠলে তিনি ওই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘আমি শান্তির দূত, কখনো সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করিনি।’ তিনি সন্ত্রাসবাদকে নিন্দা করেন এবং ‘ইসলামে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই’ বলে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে তিনি ‘মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার’ হচ্ছেন বলেও জাকির নায়েক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। জাকির নায়েক সেই থেকেই বিদেশে আছেন এবং বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।

পিস টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জাকির নায়েক তার বক্তব্য ও মতামত প্রচার করতেন। বিশেষ করে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক তার বক্তব্যগুলো ছিল অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে সারা বিশ্বের প্রচুর অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

সিঙ্গাপুরের রাজারত্মম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাডিজের বিশ্লেষক রাশাদ আলী বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকার জাকির নায়েকের থাকার ব্যবস্থা করেছে, কারণ যৌক্তিকতার সঙ্গেই মালয়দের মধ্যে জনপ্রিয় চরিত্র হয়ে আছেন। এ অবস্থায় সরকার যদি তাকে দেশ থেকে বের করে দেয় তাহলে তা জনগণের দৃষ্টিতে ধর্মীয় বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

পাঁচ বছর আগেই মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে জাকির নায়েককে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের আইন বা শৃঙ্খলা ভাঙেননি। এ ছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে তার সম্পর্কে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে মালয়েশিয়াকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে তাকে আটক বা গ্রেফতারের কোনো কারণ নেই। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার বিরোধী দল ইসলামিক পার্টিও জাকির নায়েককে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে এবং কোনো বিদেশী সরকারের হাতে তাকে তুলে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদি আরবে এবার নারী ব্যাংক প্রধান

বিএনটিভিঃ
সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে একটি ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সৌদি ব্রিটিশ ব্যাংক (এসএবিবি) ও আলাওয়াল ব্যাংকের একত্রীকরণের পর গঠিত হতে যাওয়া নতুন একটি ব্যাংকের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন সৌদি নারীব্যবসায়ী লুবনা আল ওলায়ান।

বর্তমানে পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে রয়েছেন এই নারী। আগামী দিনে অর্থলগ্নিকারী শিল্পে সৌদি নারীদের পথিকৃৎ হিসেবে থেকে যাবেন আল ওলায়ান।

ফোবর্সের ২০১৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় নাম উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা এই সৌদি নারী ব্যবসায়ীর।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি দেশটিতে নারীর ক্ষমতায়নে নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এসএবিবি ও আলাওয়াল ব্যাংকের একত্রীকরণের ফলে নতুন ব্যাংকটি সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাংকে পরিণত হতে যাচ্ছে। ব্যাংকটির মূলধন দাঁড়াবে ১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসিও ব্যাংকটির আংশিক মালিকানায় থাকবে।

দীর্ঘ দিন ধরে রক্ষণশীল নীতি মেনে চলা সৌদি আরবের সাম্প্রতিক উদারপন্থা অবলম্বনেরই ফল হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত জুনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে সৌদি নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পায়।